রোবটকে কি ভালো-মন্দের বোধ শেখানো সম্ভব?

0
103

ড. রিমার বলছিলেন, আর এক দশকের মধ্যেই এরকম গাড়ি রাস্তায় নামবে। এখন চলছে তার কারিগরি বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের কাজ। তবে অনেকের প্রশ্ন, চালক বিহীন গাড়ির সমস্যা শুধুই যান্ত্রিক নয়, এর একটা নৈতিক দিকও আছে।

যদি একটি রোবট চালিত গাড়ি এমন কোনো অবস্থায় পড়ে, দুটি শিশুকে বাঁচানোর জন্য একটা মোটরবাইককে আঘাত করতে হবে। অথবা মোটরবাইককে বাঁচানোর জন্য দুটি শিশুকে আঘাত করতে হবে। তখন সে কি করবে? সে কি শিশু দুটিকে বাঁচানোর জন্য মোটরবাইককে আঘাত করবে? নাকি শিশু দুটিকে আঘাত করবে? বা পথচারীদের জীবন বাঁচাতে চালককে মারা যেতে দেবে?

রোবট চালিত গাড়ি যদি কোন দুর্ঘটনার সময় পথচারীদের জীবন বাঁচানোর জন্য ড্রাইভারের মৃত্যু ডেকে আনে, তাহলে সে গাড়িতে কি আপনি চড়বেন?

তা ছাড়া কে এই সিদ্ধান্ত নেবে? রাস্তায় চলমান গাড়ি কি করবে না করবে তার ওপর কি সরকার সিদ্ধান্ত নেবে? নাকি সেই সিদ্ধান্ত নেবে গাড়ি নির্মাতা? নাকি যে গাড়ি কিনবে, সে?

রোবটের এই ‘নৈতিকতা’ নিয়ে ২০০৪ সালে এক সেমিনারও হয়েছিল। ড্রাইভার বিহীন গাড়ির মতো এখন এমন ক্ষেপণাস্ত্রও তৈরি হয়েছে যা শত্রুর পাল্টা আক্রমণের মুখে নিজে নিজেই দিক পরিবর্তন করবে। কিন্তু এরকম রোবট কি বানানো যাবে যে ছুরি হাতে একজন যোদ্ধা এবং ছুরি হাতে একজন সার্জনের পার্থক্য বুঝতে পারবে?

সুজান এন্ডার্সন এবং তার স্বামী মাইকেল দুজনেই কম্পিউটার বিজ্ঞানী। তারা মনে করেন, রোবটকে নৈতিকতা শেখানোর উপায় হচ্ছে প্রথমে তাকে কিছু নীতি শেখানো। যেমন দুর্ভোগ এড়িয়ে চলো, সুখকে উৎসাহিত করো ইত্যাদি। এরপর মেশিন বিভিন্ন রকম পরিস্থিতিতে এই নীতিগুলো কিভাবে প্রয়োগ করতে হবে তা শিখতে পারবে।

কেয়ারবট নামে একধরণের রোবট আছে যারা বয়স্ক মানুষদের বই বা খাবার এনে দিতে পারে, টিভি বা লাইট অন করে দিতে পারে। হয়তো একজন রোগীকে তার ওষুধ এনে দিতে পারে।

কিন্তু কোন রোগীর জীবন কখন বিপন্ন এটা বুঝে সাহায্য চাওয়া। এটা কি ভাবে রোবট করবে? সুজান ও মাইকেল এন্ডারসন মনে করেন, রোবটের পক্ষে এসব ক্ষেত্রে করণীয় সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা অর্জন করা সম্ভব।

তবে মেশিনের শিক্ষাগ্রহণে সমস্যাও হতে পারে। তারা হয়তো ভুল জিনিস শিখে ফেলতে পারে। তাদের হয়তো এমন পক্ষপাত সৃষ্টি হতে পারে যা অসঙ্গত। আরেকটা সমস্যা হলো শেখার প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে যেতে রোবট কখন কি আচরণ করবে সেটার পূর্ব ধারণা পাওয়া অসম্ভব হয়ে উঠতে পারে।

হয়তো আগামীতে আরও অনেক বেশি কাজ মানুষের হয়ে রোবটই করে দেবে। তাই মানুষের নিশ্চিত করতে হবে যে রোবটের মধ্যে যেন মানুষের মতো নানা রকম সংস্কার বা পক্ষপাত তৈরি না হয়।

তবে যেহেতু কি হবে বলা যায় না, তাই ভালো কিছুও তো হতে পারে। হয়তো রোবট নৈতিক প্রশ্নে মানুষের চেয়েও ভালো সিদ্ধান্ত নিতে পারবে, এমনটাও হতে পারে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY