বিশ্বের সবচেয়ে ছোট কম্পিউটার আবিষ্কার!

0
31

বিশ্বের সবচেয়ে ছোট ‘কম্পিউটার’ তৈরি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান ইউনিভার্সিটি ও ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস মেশিনস করপোরেশনের (আইবিএম) কয়েকজন গবেষক। সবচেয়ে ক্ষুদ্র এই কম্পিউটারটির আকার মাত্রই এক বর্গমিলিমিটার আর এটি মানুষের অক্ষিগোলকের মধ্যেও বসে যেতে সক্ষম। খবর টাইমস অফ ইন্ডিয়া-এর।

ওই ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ডেভিড ব্লাউ বলেন, একে কম্পিউটার বলা যাবে কি না তা আমরা নিশ্চিত নই। এটি মতামতের ওপর নির্ভর করে। কম্পিউটার হতে গেলে যে ফাংশন থাকার কথা, তা আছে কি না, সে বিষয়টি মতামতসাপেক্ষ।

ডেভিড ব্লাউ আরো বলেন, নিখুঁত তাপমাত্রা পরিমাপক সেনসর হিসেবে এটি তৈরি করা হয়। নতুন এ ডিভাইসিট তাপমাত্রাকে ইলেকট্রনিক স্পন্দনে রূপান্তর করতে পারে। এ প্রক্রিয়ায় কোষের মধ্যে তাপমাত্রার ওঠানামা নিখুঁতভাবে নির্ণয় করতে পারে এ যন্ত্র।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এটি দেখতে মাইক্রো ডিভাইসের মতো। ডিভাইসটি বন্ধ করার সময় এটিতে থাকা সব তথ্য মুছে যায়। ফলে গবেষকরা এই মাইক্রোডিভাইসটিকে এই মুহূর্তে পূর্ণাঙ্গ কম্পিউটার হিসেবে ঘোষণা দিতে পারছেন না।

জানা গেছে, এই রেডিও অ্যান্টেনা ব্যবহার করে বাইরের ডিভাইসের সঙ্গে ডেটা আদান-প্রদানও করতে পারে এই কম্পিউটারটি। তবে, এই রেডিও টিউনিং ছাড়াই কম্পিউটার ফ্রিকোয়েন্সি খুঁজে নেবে। কম্পিউটারটি প্রতি ১৫ মিনিট অন্তর চোখের গ্লুকোমা পরিস্থিতি মাপবে এবং তা কমিয়ে আনার চেষ্টা করবে। কম্পিউটারটির চার্জ হতে দেড় ঘণ্টা লাগে। এ ছাড়াও ঘরের ভেতর চার্জ হতে সময় লাগে ১০ ঘণ্টা। আর একবার চার্জে এক সপ্তাহেরও বেশি তথ্য জমা রাখতে পারবে এটি।

গবেষক ডেনিস সিলভেস্টার জানিয়েছেন, এই ক্ষুদ্র কম্পিউটারটি চক্ষু ইমপ্ল্যান্টে ব্যবহার করা যাবে, ফলে অন্ধত্ব থেকে মানুষকে রক্ষায় এটি সহায়ক হবে। এতে গ্লুকোমাজনিত রোগে অন্ধত্বের আশঙ্কা কমে যাবে।’

তবে কম্পিউটারটির এখনও কোনো নাম দেননি গবেষকরা। এই কম্পিউটারটির গবেষক ইউনিভার্সিটি অফ মিশিগান-এর অধ্যাপক ডেনিস সিলভেস্টার, ডেভিড ব্লাউ ও ডেভিড ওয়েন্টজলুফ।

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক খবরে বলা হয়, এর আগে গবেষকেরা ২ বাই ২ বাই ৪ মিলিমিটার আকারের একটি ডিভাইস তৈরি করেছিলেন। তাতে বাইরে থেকে শক্তি জোগানো বন্ধ হলেও তা তথ্য ধরে রাখতে পারত। কিন্তু ক্ষুদ্রতম কম্পিউটারটির ক্ষেত্রে একবার চার্জ শেষ হলে তার আগের সব তথ্য মুছে যায়।

কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, এই মাইক্রো ডিভাইসটি লম্বায় শূন্য দশমিক ৩ মিলিমিটার অর্থাৎ এর আয়তন চালের দানার থেকেও ছোট। এটি আলোকরশ্মিকে ব্যবহার করে তথ্য আদান-প্রদান করে থাকে।

মাইক্রো এই ডিভাইসটি সম্পর্কে মিশিগান ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক গারে লুকার জানান, এই ডিভাইসটি টিউমারভিত্তিক গবেষণায় সাহায্য করবে। এ ছাড়া ডিভাইসটি ইঁদুরের দেহে প্রবেশ করানো যাবে, যেখানে ক্যান্সারের কোষ বৃদ্ধি হয়ে থাকে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY