প্রতিবারআমরা খাবারের সঙ্গে প্লাস্টিক খাই!

0
55

প্রত্যেকবার আমরা খাবারের সাথে অন্তত ১০০টি করে প্লাস্টিক তন্তু বা ফাইবার খাচ্ছি। আমাদের শরীরে খাওয়ার সময় এসব প্লাস্টিক ঢুকে পড়ছে। কিন্তু তা আমরা জানতে পারছি না!

প্রতিবার আমরা যেখান থেকে খাবার তুলে খাচ্ছি, সেই প্লেট বা থালা, বাটি যত ভালো ভাবেই ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করি না কেন, এরপরও কিঞ্চিত পরিমাণ হলেও ধুলোবালি থেকে যায় ওই সমস্ত খাবারের বাসন-কোসনে। কেননা, বাতাসে ধুলোবালি থাকবেই। আর এসব ধুলাবালিতে প্লাস্টিক থাকে, যাকে কিনা প্লাস্টিকের তন্তু বা ফাইবার বলে। তথ্যসূত্র ইকোওয়াচ ডটকম।

এই প্লাস্টিকের তন্তু বা ফাইবার গুলো আমরা দেখতে পাই না। যা আমাদের মাথার চুলের চেয়েও অনেক অনেক বেশি সরু ও সূক্ষ্ণ এই ফাইবার, এ কারণে তা আমাদের চোখ দিয়ে দেখা যায় না।

এসব প্লাস্টিকের তন্তু খাবারের মধ্যে, প্লেট ও বাটি ইত্যাদি বাসন-কোসনে এসে পড়ে। আর এগুলো খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের অজান্তে তা শরীরে প্রবেশ করে। এটি রক্তনালীতে পর্যন্ত ঢুকে পড়ে। আর রক্তপ্রবাহের সঙ্গে সঙ্গে তা ছড়িয়ে পড়ে যকৃৎ, পাকস্থলী, অগ্নাশয় ও অন্ত্রে ভেতরে।

সাম্প্রতিক ব্রিটেনের হ্যারিয়ট-ওয়াট বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের এক গবেষণায় এই বিষয়টি উঠে এসেছে। ওই গবেষকদলটির নেতৃত্বে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এনভায়রনমেন্টাল টক্সিকোলজি বিভাগের অধ্যাপক টেড হেনরি।

গবেষকরা দেখেছেন, যে সমস্ত খাবার অন্তত পক্ষে ২০ মিনিটের মধ্যে খেয়ে ফেলা যায়- এমন খাবারে জমা ধুলোবালিতে সর্বাধিক ১৪টি করে প্লাস্টিকের তন্তু থাকে। তারা বলেন, একটি ডিনারের প্লেটে গড়ে ১১৪টি প্লাস্টিক তন্তু থাকে।

গবেষণা অনুযায়ী, সারা বছর ধরে একজন মানুষ খাওয়ার সময় গড়ে সর্বাধিক ৬৮ হাজার ৪১৫টি প্লাস্টিক তন্তু বা ফাইবার খেয়ে ফেলেন। আর সর্বনিম্ন এটা ১৩ হাজার ৭৩১টির থেকে কম হয় না। মানব শরীরে ঢোকার পর ওই প্লাস্টিক তন্তু গুলো আমাদের মাংসপেশিতেও ভিড় জমায়।

গবেষকদের দাবি, প্রত্যেকটি মাংসপেশিতে গড়ে দুইটির চেয়ে কিছু কম প্লাস্টিক তন্তু পেয়েছেন তারা।

এছাড়াও এই গবেষণাটিতে আরেকটা বিষয় উঠে এসেছে। তা হলো এতো দিন জানা ছিল, আমাদের বসবাসের পরিবেশের চেয়ে সমুদ্র ও তার আশপাশের এলাকার বায়ুমণ্ডলে প্লাস্টিক তন্তু বেশি পরিমাণে থাকে।

কিন্তু গবেষক দলের নেতৃত্বে থাকা টেড হেনরি জানান, আমরা দেখেছি, ঘরের খাবারের সঙ্গে মিশে থাকা ধুলোবালিতে প্লাস্টিক তন্তু গুলো বেশি পরিমাণে থাকে। কিন্তু কেন ঘরে এসব তন্তু বেশি থাকে তার কারণ জানতে পারিনি।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY