তিন বাবা-মায়ের মিলিত সন্তান!

0
162

দু’জন নারীর ডিম্বাণু ও একজন পুরুষের শুক্রাণু ব্যবহার করে শিশু জন্মদানের পদ্ধতিটি এবার ব্রিটিশ বিশেষজ্ঞ প্যানলের সমর্থন পেয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় শিশুর দুরারোগ্য ব্যধি নিয়ে জন্মগ্রহণ ঠেকানো যাবে বলে বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস।

‘থ্রি পেরেন্ট ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (আইভিএফ)’ নামের এ পদ্ধতি ব্রিটিশ সরকারের অনুমোদন পেলে আগামী দুই বছরের মধ্যে বিশ্বের প্রথম শিশুটির জন্ম হতে পারে, যার বাবা-মা হবে তিনজন।

নিজেদের জিনগত ত্রুটির কারণে যেসব দম্পতি সন্তান নিতে ভয় পাচ্ছেন, এ চিকিৎসা পদ্ধতি তাঁদের জন্য খুলে দেবে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার। যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে গত কয়েক বছর ধরে এ পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা চললেও আইনি বিধি নিষেধ থাকায় কখনোই জিনগত পরিবর্তন ঘটিয়ে কোনো মানব শিশুর জন্ম দেয়া হয়নি।

ব্রিটিশ সরকার গত বছর প্রথমারের মতো এ পদ্ধতিকে আইনি ছাড়পত্র দেয়ার উদ্যোগ নেয়। তার অংশ হিসাবেই এ বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করে নীতিমালা তৈরির কাজ শুরু হয়। এ পদ্ধতি যথেষ্ট নিরাপদ কি না তা খতিয়ে দেখতে যুক্তরাষ্ট্রেও একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি কাজ করছে। প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরেছে ডয়চে ভেলে।

প্রতিবেদনে আরও তুলে ধরা হয়েছে- ভ্রুণের মাইটোকন্ড্রিয়ায় যে ধরনের ত্রুটি থাকলে সন্তান হৃৎপিণ্ড, যকৃত, চোখ, পেশিতন্ত্র বা মস্তিষ্কে বড় ধরনের জটিলতা বা অসুস্থতা নিয়ে জন্ম নিতে পারে – সে মাইটোকন্ড্রিয়া সরিয়ে ফেলে অন্য একটি সুস্থ ভ্রুণের মাইটোকন্ড্রিয়া প্রতিস্থাপন করা হয় এ পদ্ধতিতে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রতি বছর সারা বিশ্বে জন্ম নেয়া প্রতি ৬ হাজার শিশুর মধ্যে একটি এ ধরনের জটিলতা বা ত্রুটি নিয়ে জন্মগ্রহণ করে।

ব্রিটিশ বিশেষজ্ঞ প্যানেলের সদস্য অধ্যাপক পিটার ব্রোডা বলেন, এ পর্যন্ত যেসব তথ্যপ্রমাণ তাঁরা দেখেছেন, তাতে ‘থ্রি পেরেন্ট আইভিএফ’ পদ্ধতির কোনো ঝুঁকি তাঁরা দেখতে পাননি। বরং জিনগত সমস্যায় ভুগছেন এমন দম্পতির জন্য এটি একটি কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতি হতে পারে।

কেউ কেউ এ পদ্ধতির সমালোচনায় বলছেন, ‘থ্রি পেরেন্ট আইভিএফ’ শেষ পর্যন্ত বাবা-মায়ের চাহিদা মাফিক শিশু ‘তৈরির’ দিকে নিয়ে যেতে পারে। তবে এ নিয়ে কাজ করা বিজ্ঞানীরা বলছেন, জিন প্রকৌশল সম্পর্কে যে ধারণা প্রচলতি, তা এই পদ্ধতির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। অর্থাৎ ‘থ্রি পেরেন্ট আইভিএফ’ ব্যবহার করে বাবা-মায়ের বৈশিষ্টের চেয়ে বেশি সুদর্শন, চৌকস, বুদ্ধিমান বা শক্তিমান শিশুর জন্ম দেয়া সম্ভব নয়।

ব্রিটেনের নিউ ক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা দুইভাবে ‘থ্রি পেরেন্ট আইভিএফ’ করার বিষয়ে কাজ করছেন। তাঁরা বলছেন, মায়ের জিনের ত্রুটি ভ্রুণের মাধ্যমে শিশুর দেহে সঞ্চারিত হয়। এ কারণে ভ্রুণ থেকে ক্রুটিপূর্ণ মাইটোকন্ড্রিয়া প্রতিস্থাপন করতে প্রয়োজন হবে অন্য কোনো নারীর সুস্থ ডিম্বাণু।

প্রথম পদ্ধতিতে দুই নারীর দুটি ডিম্বাণু হবু বাবার শুক্রাণুর মাধ্যমে নিষিক্ত করা হবে। এরপর দুটি ভ্রুণ থেকেই নিউক্লিয়াস সরিয়ে নেয়া হবে। দাতার ডিম্বাণু থেকে তৈরি ভ্রুণের নিউক্লিয়াসটি নষ্ট করে ফেলে সেখানে বসানো হবে হবু মায়ের ডিম্বাণু থেকে তৈরি ভ্রুণের নিউক্লিয়াস। এতে করে ভ্রুণের জিন কেবল বাবা ও মায়ের বৈশিষ্ট ধারণ করবে। কিন্তু মায়ের মাইটোকন্ড্রিয়ার ত্রুটি এতে থাকবে না। এই ভ্রুণটিই পরে মায়ের জরায়ুতে স্থাপন করা হবে।

দ্বিতীয় পদ্ধতিতে নিউক্লিয়াস প্রতিস্থাপনের কাজটি করা হবে নিষিক্ত করার আগেই। অর্থাৎ, দুই নারীর দুটি ডিম্বাণু থেকে নিউক্লিয়াস সরিয়ে নেয়া হবে। দাতার ডিম্বাণু থেকে নেয়া নিউক্লিয়াসটি নষ্ট করে ফেলে সেখানে বসানো হবে হবু মায়ের ডিম্বাণু থেকে নেয়া নিউক্লিয়াসটি। এতে ডিম্বাণুটির জিন কেবল মায়ের বৈশিষ্ট ধারণ করবে। কিন্তু মায়ের মাইটোকন্ড্রিয়ার ত্রুটি এতে থাকবে না। এরপর হবু বাবার শুক্রাণুর মাধ্যমে নিষিক্ত করে সেটি হবু মায়ের জরায়ুতে স্থাপন করা হবে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY