গর্ভের শিশুর মৃত্যু ঘটায় ভায়াগ্রা!

0
22

বাংলাদেশে মৃত শিশু বা গর্ভকালীন শিশু মৃত্যুর হার কমলেও তা লক্ষ্য অর্জনের জন্য যথেষ্ট নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর মূল কারণ গর্ভবতী মায়ের অপুষ্টি। তাঁরা বলেন, মায়ের পুষ্টি নিশ্চিত করা না গেলে মৃত্যুর হার দ্রুত কমানো সম্ভব নয়।

ভায়াগ্রা একটি ট্রেড নেম বা নির্দিষ্ট একটি ওষুধের রাসায়নিক নামকরণ। এর মূল উপাদান সিলডেনাফিল সাইট্রেট। যা ইরেকটিক ডিসফাংশান (যৌন উত্তেজনায় অক্ষমতা) নিরাময়ে ব্যবহার করা হয়। এটা ফাইজার কোম্পানীর বিজ্ঞানী এন্ড্রু বেল, ডেভিড ব্রাউন এবং নিকোলাস টেরেট আবিষ্কার করেন। এটা পুরুষাঙ্গে রক্তের প্রবাহ বৃদ্ধি পায়। সিলডেনাফিল সমগোত্রীয় অন্যান্য ঔষধ টাডালাফিল, ভারডানাফিল প্রভৃতি।

অবশেষে পরীক্ষা বন্ধ করলেন ডাচ গবেষকরা। গর্ভবতী নারীরা ভায়াগ্রা গ্রহণ করলে তার গর্ভের শিশুদের ওপর কী প্রভাব পড় তা দেখাই ছিল উদ্দেশ্য। ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে সিলডেনাফিল ব্যবহার করে মোট ১১টি শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। ভায়াগ্রার কারণে শিশুরা ফুসফুসের রোগে আক্রান্ত হয়। এরপর আমস্টারডাম ইউনিভার্সিটি মেডিক্যাল কলেজের গবেষকরা এক ঘোষণায় এই পরীক্ষা বন্ধের সিদ্ধান্ত জানান।

ভূমিষ্ট না হওয়ার শিশুদের ওপর হবু মায়েদের গ্রহণ করা ভায়াগ্রা কতটা ক্ষতিকর তা দেখার জন্যে এই ক্লিনিক্যার ট্রায়ালের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এতে অংশ নেন ১৮৩ জন গর্ভবতী নারী। তাদের দুই দলে ভাগ করা হয়। একদলকে দেয়া হয় সিলডেনাফিল, যা ভায়াগ্রা নামে পরিচিত। অন্যদলকে দেয়া হয় প্লেসবো। পাশাপাশি সাধারণ চিকিৎসা চলছিল তাদের।

টেক্সাস চিলড্রান্স প্যাভিলিওনের নিওনাটল ইন্টেসিভ কেয়ার ইউনিটের মেডিক্যাল ডিরেক্টর এবং নিওনাটোলজিস্ট ড. মোহান পাম্মি বলেন, অনেক কারণে গর্ভাশয়ে ভ্রূণের বৃদ্ধি থেমে যায়। মায়ের নাড়ি হয়ে শিশুর দেহে পুষ্টি উপাদান আসা বন্ধ হয়ে যায়। অনেক সময় মায়ের উচ্চ রক্তচাপ, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস এবং প্রিক্লাম্পসিয়া নামের এক বিশেষ অবস্থার কারণে এমন সমস্যা হতে পারে। এ ছাড়া বাচ্চার মাথার আকার অস্বাভাবিকরকম ছোট এবং রক্তপ্রবাহের অভাবও ঘটতে পারে।

ধারণা করা হয়েছিল যে এই ওষুধটা নাড়ির কয়েকটা রক্তবাহী নালীকে রক্ত প্রবাহে সুগম করে তুলবে। এতে ভ্রূণের বৃ্দ্ধি স্বাভাবিকভাবেই ঘটবে। কিন্তু সিলডেনাফিল ব্যবহারে দেখা গেছে, গর্ভের শিশুর দেহের রক্তবাহী নালীতে রোগের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে অবধারিতভাবে শিশুর ফুসফুসে উচ্চ রক্তচাপ দেখা দিচ্ছে।

একই ধরনের পরীক্ষা চালানো হয় ব্রিটেনে। সেখানে অবশ্য শিশু মৃত্যুর কোনো নমুনা দেখা যায়নি। কিন্তু এর মাধ্যমে কোনো উপকারও মেলেনি। ফুসফুসের রক্তবাহী নালীতে উচ্চ রক্তচাপের কারণে শিশুর দেহের ওজন অস্বাভাবিকভাবে কম হয়।

আমস্টারডাম ইউনিভার্সিটি মেডিক্যাল সেন্টার এক বিবৃতিতে জানায়, নেদারল্যান্ডসের ১১টি স্থানের ১৮৩ হন গর্ভবতী নারী এই পরীক্ষায় অংশ নেন। এই গবেষণা শুরু হয় ২০১৫ সালে। এর মধ্যে ৯৩ জন নারীকে ভায়াগ্রা দেয়া হয়। আর ৯০ জনকে দেয়া হয় ডামি ওষুধ বা প্লেসবো। ভায়াগ্রা যারা খেয়েছেন তাদের মধ্যে ১৯ জনের গর্ভের শিশু মারা যায়। আরো ৬টি শিশু ফুসফুসের রোগ নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। তবে তারা বেঁচে রয়েছে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, গর্ভের শিশুর সুষ্ঠু বৃদ্ধিতে অনেক ক্ষেত্রে সিলডেনাফিল ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এটা বন্ধ করা উচিত। গোটা বিশ্বের চিকিৎসকদের উচিত গর্ভবতী মায়েদের ভায়াগ্রা ব্যবহারকে নিরুৎসাহিক করা।
সূত্র: সিএনএন

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY