প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা

0
90

মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী উপজেলায় উঁচু-নিচু পাহাড়, লেকের স্বচ্ছ পানি ও বনাঞ্চল ঘিরে গড়ে উঠেছে বাঁশখালী ইকোপার্ক । ২০০৩ সালে জীববৈচিত্র্য রক্ষা, বন্য প্রাণীর আবাসস্থল উন্নয়ন, ইকো ট্যুরিজম ও চিত্তবিনোদনের উদ্দেশ্যে প্রায় ১,০০০ হেক্টর বনভূমি নিয়ে চট্টগ্রাম শহর থেকে ৫৫ কিলোমিটার দূরে সরকারী উদ্যোগে বাঁশখালী ইকোপার্ক নির্মাণ করা হয়। ১৯৮৬ সালে প্রায় ৭,৭৬৪ হেক্টর বনভূমি নিয়ে চুনতি অভয়ারণ্য গড়ে তোলার ঘোষণা দিলে বাঁশখালীর বামের ছড়া ও ডানের ছড়া এই অভয়ারণ্যের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

প্রকৃতির ভিন্ন ভিন্ন ঋতু বৈচিত্রের সাথে বাঁশখালী ইকোপার্কের সৌন্দর্যও পরিবর্তিত হতে থাকে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত পার্কের ৬৭৪ হেক্টর বনভূমিতে ঝাউ বাগান, ভেষজ উদ্ভিদের বন ও অর্নামেন্টাল গাছ সহ প্রায় ৩১০ প্রজাতির উদ্ভিদ রয়েছে। আঁকাবাঁকা পাহাড়ি সড়ক, চারপাশে ঘন সবুজের সমারোহ, বন্যহাতির বিচরণ, চেনা-অচেনা পাখির মন-মাতানো কিচিরমিচির শব্দ, দেশের দীর্ঘতম ঝুলন্ত সেতু, সুউচ্চ টাওয়ার—কী নেই এখানে। চট্টগ্রামের বাঁশখালী বহুমুখী আরণ্যক সৌন্দর্য ও নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক দৃশ্যাবলী পর্যটকদের কাছে টানে।

পার্কের উল্লেখযোগ্য স্থাপনার মধ্যে রয়েছে পিকনিক স্পট, দ্বিতল রেস্ট হাউজ, হিলটপ কটেজ, রিফ্রেশমেন্ট কর্ণার, দীর্ঘতম ঝুলন্ত ব্রিজ, ওয়াচ টাওয়ার এবং মিনি চিড়িয়াখানা। পার্কের দুইটি সুবিশাল লেকে রয়েছে মাছ ধরার যাবতীয় সুব্যবস্থা। ২০১১ সালের ২১ আগস্ট বাঁশখালী ইকোপার্কে বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদের তথ্য সম্বেলিত একটি তথ্য ও শিক্ষা কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়।

এছাড়া এখানে মায়া হরিণ, চিত্রা হরিণ, চিত্রা বিড়াল, বাঘ, মেছো বাঘ ও পাখির প্রজনন কেন্দ্র রয়েছে। শীতকালে অতিথি পাখির কলরবে সরব হয়ে উঠে এই ইকোপার্কের সবুজ প্রকৃতি। ইকোপার্কের সুউচ্চ পাহাড়ে দাঁড়িয়ে বঙ্গোপসাগরের অথৈ জলরাশি, পাহাড়ের কোল ঘেঁষে বয়ে চলা ঝর্ণাধারা আর বিকাল বেলায় সূর্যাস্তের নয়নাভিরাম দৃশ্য পর্যটকদের মোহিত করে।

কীভাবে যাবেন

বাঁশখালী ইকোপার্কে যেতে হলে প্রথমে চট্টগ্রাম শহরে আসতে হবে। চট্টগ্রামের বাঁশখালী থেকে ৫ কিলোমিটার দূরে বাঁশখালী ইকোপার্ক অবস্থিত। চট্টগ্রাম থেকে বাস বা সিএনজিতে বাঁশখালী যেতে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টার মতো সময় লাগে।

ঢাকা থেকে সড়ক, রেল বা আকাশপথে চট্টগ্রাম যাওয়া যায়। সড়কপথে ঢাকার সায়েদাবাদ থেকে সৌদিয়া, ইউনিক, টিআর ট্র্যাভেলস, গ্রিনলাইন ও হানিফ এন্টারপ্রাইজের বিভিন্ন বাস চট্টগ্রামের পথে যাওয়া যায়। ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে ষ্টেশন থেকে সুবর্ণ, তূর্ণা-নিশিথা, মহানগর কিংবা চট্টগ্রাম মেইল ট্রেনে চট্টগ্রাম যেতে পারবেন। আর কম সময়ে যেতে চাইলে, শাহ্‌জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডোমেস্টিক এয়ারলাইন্সে মাত্র ৪৫ মিনিটে ঢাকা থেকে সরাসরি চট্টগ্রাম যাওয়া যায়।

কোথায় থাকবেন

চট্টগ্রামের ষ্টেশন রোড, জেএসসি মোড় বা আগ্রাবাদ এলাকায় বিভিন্ন মানের হোটেল খুঁজে পাবেন। আবাসিক হোটেলের মধ্যে হোটেল স্টার পার্ক, হোটেল ডায়মন্ড পার্ক, হোটেল মিসখা, হোটেল হিল টন সিটি, এশিয়ান এসআর হোটেল, হোটেল প্যারামাউন্ট, হোটেল সাফিনা ও হোটেল সিলমন উল্লেখযোগ্য।

কোথায় খাবেন

বাঁশখালীতে সাধারণ মানের বেশ কিছু হোটেল ও মনছুড়িয়া বাজারে খুচরা চা নাস্তার দোকান আছে। এছাড়া চট্টগ্রাম শহরে বাঙ্গালি, চাইনিজ বা ফাস্ট ফুডের বেশকিছু ভাল মানের রেস্টুরেন্ট আছে। আর সুযোগ থাকলে অবশ্যই চট্টগ্রামের জনপ্রিয় মেজবানি খাবার ও কালা ভুনা খেয়ে দেখবেন।

চট্টগ্রামের অন্যান্য দর্শনীয় স্থান : চট্টগ্রামের অন্যান্য দর্শনীয় স্থানের মধ্যে ওয়ার সিমেট্রি, ফয়েজ লেক, মহামায়া লেক, জাম্বুরি পার্ক, চন্দ্রনাথ পাহাড়, হাজারিখিল অভয়ারণ্য ছাড়াও বেশকিছু আকর্ষণীয় ঝর্ণা রয়েছে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY