৩১ মার্চের মধ্যে আবার নির্বাচনের দাবি ভিপি নুরের

0
33

দীর্ঘ ২৮ বছর ১০ মাস পর অনুষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে সহসভাপতি (ভিপি) পদে কোটা আন্দোলনের নেতা ও ছাত্র অধিকার রক্ষা পরিষদ প্যানেলের প্রার্থী নুরুল হক নুর নির্বাচিত হয়েছেন।

কিন্তু আবারও ডাকসু ও হল সংসদের সব পদেই নির্বাচন চেয়েছেন ডাকসুর নবনির্বাচিত সহসভাপতি (ভিপি) নুরুল হক নুর।

বুধবার (১৩ মার্চ) বেলা পৌনে ৩টার দিকে হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলে সাংবাদিকদের সামনে এ কথা বলেন তিনি।

ডাকসুর নবনির্বাচিত ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, ‘শত কারচুপির পরও আমাকে এবং আখতার হোসেন আমার প্যানেল থেকে হারাতে পারেনি। তবে অন্যদের হারিয়ে দিতে পেরেছে তারা নীলনকশা করে। এখন আমরা দেখছি যে ছাত্রলীগ বাদে অন্য সব সংগঠন পুনঃনির্বাচন চাইছে এবং সে লক্ষ্যে তারা আন্দোলন করছে। আজ ভিসি স্যারকে তিন দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছে। আমি তাদের প্রতিনিধি হিসেবে, এত কারচুপির মধ্যেও যেখানে নির্বাচিত হয়েছি, আমি তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে তাদের দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করছি। আমিও চাই, প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন বাতিল করে ৩১ মার্চের মধ্যেই পুনরায় নির্বাচন দিতে হবে।’

সোমবার (১১ মার্চ) ডাকসু নির্বাচনের দিন ঢাবির রোকেয়া হলে নিজের ওপর হামলার বিষয়ে নুর বলেন, ‘রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ জিনাত হুদা ছাত্রলীগের প্রেসিডেন্ট–সেক্রেটারিকে ফোন দেন এবং তারা আমার ওপর হামলা চালিয়েছিল। তাদের লেডি মাস্টার বাহিনী রয়েছে, শোভন ভাইয়ের নেতৃত্বে তারা আমার ওপর হামলা চালিয়েছিল।’

১১ মার্চের নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি হয়েছে জানিয়ে নুর আরও বলেন, ‘ছেলেদের হলগুলোয় যেটা দেখেছি, বিশেষ করে, প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের জোর করে লাইনে দাঁড় করিয়ে রেখেছিলেন তারা, যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো অলিখিতভাবে ইজারা নিয়েছেন, সেই ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠন। তাদের বলেছে, তারা প্রত্যেকে যেন ভোট দিতে গিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট সময় নষ্ট করে। এ ধরনের অনিয়ম আমরা দেখেছি।’

উল্লেখ্য, ডাকসু নির্বাচনের ২৫টি পদের মধ্যে সহসভাপতি (ভিপি) পদে কোটা আন্দোলনের নেতা ও ছাত্র অধিকার রক্ষা পরিষদ প্যানেলের প্রার্থী নুরুল হক নুর নির্বাচিত হয়েছেন।

নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে জয়লাভ করেছেন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী। এছাড়া সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) নির্বাচিত হয়েছেন ঢাবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইন।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের অপর জয়ী প্রার্থী হলেন সমাজসেবা সম্পাদক পদে আখতার হোসেন।

এছাড়া মুক্তিযুদ্ধ সম্পাদক সাদ বিন কাদের, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক আরিফ ইবনে আলী, কমনরুম ও ক্যাফেটরিয়া সম্পাদক বিএম লিপি আক্তার, আন্তর্জাতিক সম্পাদক শাহরিমা তানজিনা অর্নি, সাহিত্য মাজহারুল কবির শয়ন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আসিফ তালুকদার, ক্রীড়া সম্পাদক শাকিল আহামদ তানভীর, ছাত্র পরিবহন সম্পাদক শামস ই নোমান বিজয়ী হয়েছেন।

সদস্যদের মধ্যে যারা জয়ী হয়েছেন তারা হলেন- চিবল সাংমা, নজরুল ইসলাম, রাকিবুল হাসান, রাকিবুল ইসলাম ঐতিহ্য, তানভীর হাসান সৈকত, রাইসা নাসের, সাবরিনা ইতি, ফরিদা পারভীন, নিপু ইসলাম তন্বী, হাইদার মোহাম্মদ জিতু, তিলোত্তমা শিকদার, জুলফিকার আলম রাসেল এবং মাহমুদুল হাসান।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY