হাসপাতালে গেছে নিম্নমানের মাস্ক: চিকিৎসকদের অসন্তোষ

0
39

কেন্দ্রীয় ঔষধাগার (সিএমএসডি) থেকে চিকিৎসকদের জন্য নিম্নমানের ফেস মাস্ক পাঠানো হচ্ছে বিভিন্ন হাসপাতালে।

এসব পণ্য ক্রয় ও সংগ্রহের সময় কোনো মান যাচাই করা হয়নি। এ নিয়ে সারা দেশের চিকিৎসকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

তারা বলছেন, স্বাস্থ্য অধিদফতরের অধীন সিএমএসডি থেকে সরবরাহকৃত মাস্ক অত্যন্ত নিম্নমানের। কভারের ওপর এন৯৫ লেখা থাকলেও ভেতরে ছিল সাধারণ ফেস মাস্ক, যা কোনো ভাইরাস প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে সক্ষম নয়।

এ ধরনের মাস্ক চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মীদের করোনাভাইরাস থেকে কোনো নিরাপত্তা দেবে না। এসব মাস্ক ব্যবহার অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সরকারি-বেসরকারি একটি প্রভাবশালী চক্র করোনা দুর্যোগকে ব্যবহার করে বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।

অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, নিম্নমানের মাস্ক গ্রহণে অস্বীকৃতি জানানোয় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মঞ্জুর মোর্শেদকে বদলি করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মুগদা হাসপাতালে ৩০০ মাস্ক দেয়া হয়। যেগুলোর মোড়কে ‘এন৯৫ ফেস মাস্ক’ লেখা। এগুলো দেখে চিকিৎসকদের সংশয় তৈরি হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে মুগদার ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক শহিদ মো. সাদিকুল ইসলাম বুধবার অধিদফতরের মহাপরিচালককে এ বিষয়ে একটি চিঠি দিয়েছেন।

তাতে বলা হয়েছে, হাসপাতালের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩০ মার্চ কেন্দ্রীয় ঔষধাগার অন্যান্য মালামালের সঙ্গে ৩০০টি এন৯৫ মাস্ক সরবরাহ করেছে।

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ার একটি প্রতিষ্ঠান এই মাস্কের প্রস্তুতকারী। এই মাস্কগুলো প্রকৃতপক্ষে ‘এন৯৫’ কি না, সে বিষয়ে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী টেলিফোনে হাসপাতালের পরিচালকের কাছে জানতে চেয়েছেন। চিঠিতে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় মতামত দেয়ার অনুরোধ করা হয়।

এই মাস্কগুলোর বিষয়ে বুধবার মুগদা জেনারেল হাসপাতালের করোনাভাইরাস কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় কমিটির সদস্যরা একমত হন যে, কেন্দ্রীয় ঔষধাগার থেকে সরবরাহ করা এন৯৫ মাস্কের কার্যকারিতা সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ মতামত প্রয়োজন। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানকে (আইইডিসিআর) চিঠি দিয়ে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অধিদফতরের একাধিক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, সিএমএসডি থেকে একটি বিশেষ প্রতিষ্ঠানকে এসব সরবরাহের কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি এন৯৫ মাস্কের নামে সাধারণ ফেস মাস্ক দিয়েছে। কিন্তু প্যাকেটের গায়ে লিখেছে এন৯৫। যা মূলত প্রতারণা। তাছাড়া প্রতিষ্ঠানটি দৈনন্দিন সরবরাহের তালিকায়ও গরমিল রয়েছে।

বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস সংক্রমণের চিকিৎসার ক্ষেত্রে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের এন৯৫ মাস্ক পরার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজেস কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি)-এর তথ্য অনুযায়ী, এন৯৫ মাস্ক হল এমন মাস্ক, যা বাতাসে ভেসে বেড়ানো সূক্ষ্ম কণা আটকে দেয়। এটি খুবই সূক্ষ্ম কণা কমপক্ষে ৯৫ শতাংশ ফিল্টার করতে সক্ষম। এটি ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস ফিল্টার করতেও সক্ষম।

সরকার চিকিৎ?সকদের ব্যক্তিগত সুরক্ষাসামগ্রীর (পিপিই) যুক্তিসংগত ব্যবহার নিয়ে সম্প্রতি নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। এতে অন্যান্য সুরক্ষাসামগ্রীর সঙ্গে এন৯৫ মাস্ক বা এফএফপি ২ মানের অথবা সমমানের মাস্ক পরার কথা বলা আছে।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় ঔষধাগারের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ শহীদউল্লা বলেন, মাস্ক সরবরাহ করেছে দেশের একটি বড় কোম্পানি জেএমআই।

যারা ডিসপোজেবল পণ্য উৎপাদন করে। আমরা আরএফএল থেকেও মাস্ক নিই। কিন্তু চাহিদার তুলনায় সরবরাহ না থাকায় তাদের কার্যাদেশ দেয়া হয়।

জেএমআইয়ের সরবরাহকৃত মাস্কের মোড়কে এন৯৫ লেখা ছিল। তবে এগুলো ‘এন৯৫’ না হলেও এগুলো ভালো মানের ফেস মাস্ক। তবে মোড়কে এন৯৫ লেখায় তাদের এগুলো উঠিয়ে নিতে বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, পৃথিবীতে হাতে গোনা দু-একটি প্রতিষ্ঠান এন৯৫ মাস্ক তৈরি করে। আমরা সেসব প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করেছি এবং প্রয়োজন অনুসারে আমদানির চেষ্টা করছি।

সামগ্রিক বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ যুগান্তরকে বলেন, আমাদের এখন পর্যাপ্ত পরিমাণ সুরক্ষা সরঞ্জাম দরকার। সরবরাহকারীরা প্যাকেটের গায়ে এন৯৫ লিখেছে বলে আমি শুনেছি। এরপর অধিদফতরের পরিচালককে (প্রশাসন) তদন্তের নির্দেশ দিই। তিনি ইতোমধ্যে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, করোনাভাইরাস সংক্রমণের মতো বৈশ্বিক মহামারী ঠেকাতে সরকারের পরিচালিত কার্যক্রমে কোনো অনিয়ম হলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তার এই কঠোর নির্দেশের নির্মোহ প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলছে, এ ধরনের সংকট মোকাবেলায় সফল হতে হলে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও কার্যকর দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের কোনো বিকল্প নেই।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY