সিগারেটের সর্বনিম্ন দাম ৯ টাকার প্রস্তাব

0
47

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক আসন্ন বাজেট সামনে রেখে গত ১০ এপ্রিল লেখা এক চিঠিতে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালকে তামাকজাত পণ্যের ওপর বিদ্যমান কর কাঠামোতে আমূল পরিবর্তন আনার প্রস্তাব করেছেন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় চায় না বাজারে ৯ টাকার নিচে কোনো সিগারেটের দাম রাখতে। বাজেট সামনে রেখে সিগারেটসহ সব ধরনের তামাকজাত পণ্যের ওপর করের আমূল পরিবর্তন আনার প্রস্তাব দিয়েছে তারা। এতে বাজারে চলমান প্রতিটি কম দামের সিগারেটে কমপক্ষে ৪ টাকা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।

একইসাথে বেনসন ও গোল্ডলিফ সহ সমমানের ব্র্যান্ডের প্রতিটি সিগারেটের দাম বাড়বে অতিরিক্ত ৮ টাকা। বর্তমানে বাজারে সর্বনিম্ন প্রতি সিগারেটের দাম ৫ টাকা ও সর্বোচ্চ প্রতি সিগারেটের দাম ১২ টাকা খুচরা মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। আসন্ন বাজেট সামনে রেখে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালকে এক চিঠিতে এসব প্রস্তাব দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

ওই চিঠিতে তিনি ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে জাতীয় বাজেটে তামাকজাত দ্রব্যের ওপর কর আরোপের ক্ষেত্রে এসব প্রস্তাব বিবেচনার জন্য অর্থমন্ত্রীর ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত দেশে গড়তে তামাকের কর কাঠামো পরিবর্তন করে বিশেষ করে সিগারেটের মূল্যস্তর ৪টি থেকে কমিয়ে দুটি করার পাশাপাশি ১০ শলাকা সিগারেটের ওপর সুনির্দিষ্ট অতিরিক্ত ৫ টাকা কর আরোপের প্রস্তাব করেছেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের প্রস্তাবে সিগারেটে করারোপের ক্ষেত্রে বর্তমান নিম্ন ও মধ্যম স্তরকে একত্রিত করে একটি এবং উচ্চ ও প্রিমিয়াম স্তরকে একত্রিত করে আরেকটি স্তর করতে বলা হয়েছে। নিম্ন স্তরে ১০ শলাকা সিগারেটের খুচরা মূল্য ৫০ টাকা নির্ধারণ করে ৬০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক্ক এবং উচ্চ স্তরে ১০ শলাকা সিগারেটের খুচরা মূল্য কমপক্ষে ১০৫ টাকা নির্ধারণ করে ৬৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক্ক আরোপ করার পাশাপাশি সব সিগারেটের প্রতি শলাকার ওপর ৫ টাকা হারে সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক্ক আরোপের কথা বলা হয়েছে।

এছাড়াও এই প্রস্তাবে বিড়ির ক্ষেত্রে মূল্য বিভাজন তুলে দিয়ে ফিল্টারবিহীন ২৫ শলাকার খুচরা মূল্য ৩৫ টাকা নির্ধারণের পাশাপাশি ৪৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক্ক আরোপের কথা বলা হয়েছে। এর পাশাপশি ফিল্টারযুক্ত ২০ শলাকা বিড়ির খুচরা মূল্য ২৮ টাকা করে ৪৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক্ক এবং ৪ টাকা ৮০ পয়সা সুনির্দিষ্ট সম্পূরক শুল্ক্ক আরোপের প্রস্তাব দেয়া হয়।

সেখানে আরও প্রস্তাব করা হয়েছে, ধোঁয়াবিহীন তামাকপণ্যের ক্ষেত্রে প্রস্তাবে ট্যারিফ ভ্যালু প্রথা বিলুপ্ত করে সিগারেট ও বিড়ির মতোই খুচরা মূল্যের ভিত্তিতে করারোপ, প্রতি ১০ গ্রাম জর্দার মূল্য ৩৫ টাকা এবং গুলের মূল্য ২০ টাকা করে ৪৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক্ক আরোপের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া জর্দার ওপর ৫ টাকা এবং গুলের ওপর ৩ টাকা সুনির্দিষ্ট শুল্প আরোপের প্রস্তাব করেছেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী তার চিঠিতে আরও বলেছেন, তামাকজাত দ্রব্যের ওপর বর্তমান কর কাঠামো অত্যন্ত জটিল ও তামাকের ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে এ ধরনের কর কাঠামো কোনো ভূমিকা রাখতে পারছে না। সিগারেটে বহুস্তর বিশিষ্ট করকাঠামো চালু থাকায় বাজারে অত্যন্ত সস্তা ও সহজলভ্য সিগারেট পাওয়া যাচ্ছে। ধূমপান ছেড়ে দেওয়ার পরিবর্তে ভোক্তা কম দামি সিগারেট বেছে নিচ্ছে। করের ভিত্তি এবং হার খুবই কম হওয়ায় বিড়ি এবং ধোঁয়াবিহীন তামাকপণ্য জর্দা ও গুল সহজলভ্য থেকে যাচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের উদ্দেশে লেখা ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি তামাক ব্যবহারকারী দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো বাংলাদেশ।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জাতীয় কর নীতিতে অন্তর্ভুক্তির জন্য সুনির্দিষ্ট শুল্ক্ক পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি, সব তামাকজাত পণ্যে খুচরা মূল্যের ভিত্তিতে করারোপ, সব তামাক পণ্য অভিন্ন পরিমাণে প্যাকেট বা কৌটায় বাজারজাত করা, পৃথক তামাক কর নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন (৫ বছর মেয়াদি) তামাকের ব্যবহার হ্রাস ও রাজস্ব বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY