সামনে নির্বাচন, গতি নেই ইসির কাজে

0
63

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুসারে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ডিসেম্বর মাসে। আইন অনুসারে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে তিন মাস আগে অর্থাৎ তফসিল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সে হিসেবে তফসিল আগামী অক্টোবরে। সময় বাকি সাত মাস। কিন্তু এখনও সীমানা নির্ধারণ ও আরপিও সংশোধন করতে পারেনি নির্বাচন আয়োজনকারী সাংবিধানিকভাবে স্বাধীন সংস্থাটি। যদিও এই নির্বাচন কেন্দ্র করে ইসি ঘোষিত কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী সংলাপ ছাড়া আর কিছুই হয়নি নির্ধারিত সময়ে। রোডম্যাপ অনুসারে এসব কাজ আরো আগে সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিলো।

কে এম নূরুল হুদা কমিশন ঘোষিত রোডম্যাপ অনুসারে গত নভেম্বরে ৩০০টি নির্বাচনি এলাকার খসড়া তালিকা প্রকাশ করার কথা ছিলো। এর পরে এ বিষয়ে দাবি/আপত্তি/সুপারিশ আহ্বান করে তা নিষ্পতি করে ডিসেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের সময় নির্ধারণ করেছিলো ইসি। কিন্তু এখনও হয়নি। চলতি ফেব্রুয়ারির মধ্যেও খসড়া প্রকাশের সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তরা।

এই সীমানার ওপর ভিত্তি করেই করে আগামী জুন থেকে সকল নির্বাচনী এলাকার জন্য ছবিসহ ভোটার তালিকা মূদ্রণ ও ছবিছাড়া ভোটার তালিকার সিডি প্রণয়ন ও বিতরণ করার কথা রয়েছে। জুলাই থেকে নির্বাচন নির্বাচনি এলাকাভিত্তিক ভোটকেন্দ্রের খসড়া তালিকা প্রকাশ ও রাজনৈতিক দলের স্থানীয় দপ্তরে প্রেরণের কথা রয়েছে।

রোডম্যাপে একাদশ সংসদ নির্বাচন কেন্দ্র করে নতুন সীমানা নির্ধারণে নতুন আইন করার কথা বলেছিলো ইসি। কিন্তু করতে পারেনি। পিছু হটে পুরোনো আইনেই সীমান নির্ধারণ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসি।

নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেন, আইনি জটিলতার কারণে সীমানা খসড়া উপস্থাপনে সময় লাগছে। আদালতের আদেশের পরে আমি মাত্র একদিন সময় নেবো। এরপরেই সীমানার খসড়া কমিশন বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। রোডম্যাপের সিডিউল অনুসারে সম্পন্ন না হলেও এতে আগামী নির্বাচনে প্রভাব পরবে না বলে মনে করেন তিনি।

এছাড়া নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য দ্য রিপ্রেজেনটেশন অব দ্য পিপল অর্ডিনেন্স,১৯৭২ (আরপিও) এবং সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রোডম্যাপে আরো বলা হয়েছে, নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা-২০০৮ এর কাঠামোতে কিছু অস্পষ্টতা রয়েছে, যা দূর করা বিশেষ প্রয়োজন। এসব সংশোধনের ক্ষেত্রে সংলাপে প্রাপ্ত প্রস্তাব বিবেচনা করে গত ডিসেম্বরের মধ্যে আইন সংস্কারের প্রাসঙ্গিক খসড়া প্রস্তুত করার কথা ছিলো। চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে আইন প্রণয়নের ব্যবস্থা নেওয়ার কথা থাকলেও এখনও কমিশন সভায় উপস্থাপন করা হয়নি।

এ বিষয়ে সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আরপিও সংশোধন তারা করবে কি-না জানি না। যদি প্রয়োজনবোধ মনে করেন, তাহলে সেটা করা একটা সময়ের ব্যাপার। কারণ এটা আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে। সেখান থেকে ভেটিং হয়ে আসবে। এতে সময় প্রয়োজন।

তিনি আরো বলেন, সব যে রোডম্যাপের ডেট অনুসারে করতে হবে, তা নয়। তবে সময় চলে যাচ্ছে, রাজনৈতি পরিস্থিতিও জটিল হয়ে উঠছে। দ্রতই করে ফলা উচিত। নয়তো তরিঘড়ি করে করতে হবে।

এদিকে গত জুলাই থেকে সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম প্রতিনিধি, নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল, নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা, নারী নেত্রী ও নির্বাচন পরিচালনা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সংলাপ করে ইসি। এসব সংলাপ শেষে প্রাপ্ত সুপারিশ বই আকাড়ে একত্রিত করে ডিসেম্বরে মধ্যে সরকারের কাছে উপস্থাপন করা কথা বলেছিলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা। সে সময় সিইসি বলেছিলেন, সকল সুপারিশ বাস্তবায়নের এখতিয়ার আমাদের নেই। তবে আমরা সব সুপারিশ একত্রিত করে সরকারের কাছে উপস্থাপন করবো। কিন্তু এখনও তা দেওয়া হয়নি।

রোডম্যাপ অনুসারে নিবন্ধিত রাজনৈত দলগুলোর নিবন্ধন শর্তাদি প্রতিপালন-সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করার কথা। তথ্য পর্যালোচনা করে শর্তভঙ্গকারী দলের নিবন্ধন বহাল সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা গত জানুয়ারীতে। কিন্তু এখনও সেটাও তা হয়নি।

এ বিষয়ে ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ বলেন, ইলেকশন কমিশন এগুলো নিয়ে ভাবছে। আশাকরি যথা সময়ে সব হয়ে যাবে। আগামী ২৮ জানুয়ারির মধ্যে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY