সংসদে মোহাম্মদ নাসিম‘ত্রুটিগুলো সংশোধন করতে হবে, ভোটবিহীন বাংলাদেশ হতে পারে না’

0
66

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, আমাদের ত্রুটি বিচ্যুতিগুলো সংশোধন করতে হবে। ঢাকা শহরে মানুষ ভোট দিতে বিমুখ হলো। পার্লামেন্ট সত্য কথা বলার জায়গা। প্রধানমন্ত্রীও সব সময় সমালোচনা পছন্দ করেন। আজকে উপলদ্ধি করতে হবে কি করে আমরা ভোট বান্ধব থেকে দুরে চলে যাচ্ছি। পার্লামেন্ট মেম্বারদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে ভোটার ছাড়া আমাদের কোনো উপায় নাই। ভোট বিহীন বাংলাদেশ হতে পারে না। সরকার, এমপি ও দলকে উপলদ্ধি করতে হবে কি কারণে ঢাকায় এই অবস্থা তৈরি হলো। কেন কম ভোট পড়লো। কারণ কি? বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর আনিত ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি একথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, ঢাকাকে আমরা পরিচ্ছছন্ন শহর চাই। মশা ও ডেঙ্গু মুক্ত শহর চাই। মেয়রদের প্রতিটি ওয়াদা বাস্তবায়ন করতে হবে আগামি নির্বাচনের আগে। না হলে মানুষ আমাদের দুরে সরে যাবে। সাকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, উন্নয়নে আমরা অনেক দুর এগিয়ে গেলেও ঋণ খেলাপিদের দৌরাত্ম কেন দুর করতে পারছি না। ঋণ খেলাপির কলঙ্ক বহন করছি। এবিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেন অর্থমন্ত্রীকে। এসমস্ত অর্থলুটে বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যস্তবায়ন একটি কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এব্যপারে আমাদের কারও যেন কোন অভিযোগ না থাকে। কোনো অভিযোগ যেন আমাদের শুনতে না হয়। তিনি বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন। নুসরাত হত্যার বিচার হয়েছে, তারপরও কেন নারী ও নির্যাতন বেড়েই চলেছে জানতে চান আইন মন্ত্রীর কাছে। কোনোভাবেই যেন ঠেকানো যাচ্ছে না। সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব হলো জনগণের সমস্যা তুলে ধরা। প্রানবন্ত পার্লামেন্টে জনগণের সমস্যা তুলে ধরতেই সংসদ সদস্য হয়েছি। আইনমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, দ্রুত বিচার আইন করা হলেও বিলম্বিত বিচার মানুষকে স্বস্তি দিতে পারে না। তাই আরও দ্রুত ভাবে বিচারের মাধ্যমে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা যায় কিনা তা দেখতে হবে। এটা মানুষের চাওয়া-পাওয়ার অধিকার। সেজন্য আরও সংক্ষিপ্ত ভাবে নারী নির্যাতক ও ধর্ষকদের শাস্তির ব্যবস্থা করা যায় কিনা সেটা দেখতে হবে। যেটা মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

মোহাম্মদ নাসিম বলেন, আজকে সড়ক দূর্ঘটনা একটি গুরুত্বর সমস্যা। দূর্ঘটনা প্রতিরোধে আইন ও নীতিমালা করা হলেও কেন বাস্তবায়ন হচ্ছে না কেন। কাদের কারণে এই আইন বাস্তবায়ন করতে পারছি না। প্রতিদিন সড়কে মৃত্যুর মিছিল দেখছি। কোনো কিছুর দিকে না তাকিয়ে আইনটি বাস্তবায়ন করার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আহবান জানান নাসিম। বিএনপির এমপিদেও উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, এখানে বিএনপির বন্ধুরা আছেন। পার্লামেন্টে অনেক সুন্দর সুন্দর কথা বলেন। আমরা বিস্মিত হয়ে যাই। এটা বিএনপি বলে না অন্য কেউ কথা বলে। কিন্ত বাহিরে গেলে এদের চেহারা অন্যরকম। সম্পূর্ণ অন্য রকম। এদের সঙ্গে বিএনপির আসল নেতৃত্বের কোনো সর্ম্পক আছে কি-না আমার সন্দেহ হয়। এখানে যখন কথা বলে আমার মনে হয় আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিরা কথা বলছেন। আর বাইরে গেলে অন্য চেহারা, আওয়ামী লীগের এজেন্ট হয়ে কাজ করছে কি-না আমার সন্দেহ হয়।

বিএনপির এমপিদের উদ্দেশ্যে তিনি আরো বলেন, আপনারা এক দল করেন আমি অন্য দল করি। আপনারা আওয়ামী লীগের সব আদর্শে বিশ্বাস করবেন তা আমি বিশ্বাস করি না। জাতীয় পার্টি যা বিশ্বাস করে তা আমি বিশ্বাস করি না। কিন্তু যুগের প্রয়োজনে একজন নেত্রীকে/নেতাকে সমর্থন করতে হয়। যুগ যুগ ধরে তাই হয়ে আসছে। দেশের জন্য, জনগণের জন্য আপনাদের দলের বাইরেও একজন সাহসী নেত্রীকে সমর্থন করতে হবে, করা উচিত বলে আমি মনে করি। আগামি দশটা বছর আপনারা চুপ করেন, নিশ্চিন্তে থাকুন। আমাদের সমর্থন করুন। দেশ পরিচালনার জন্য শেখ হাসিনাকে সহযোগিতা করুন। দেশ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনে আরও দশ বছর শেখ হাসিনাকে সুযোগ দিতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘সরকারে যখন আমরা আছি, ভুলত্রুটি থাকাই স্বাভাবিক। ভুল ত্রুটি নিয়েই মানুষ। কয়েক দশক ধরে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি শেখ হাসিনার দুরদর্শি নেতৃত্ব আছে বলেই সম্ভব হয়েছে। মোহাম্মদ নাসিম বলেন, কি করলেন, ‘একজন ভাড়া করা নেতাকে ভাড়া করেছেন। সে কি বলেছে সে দিন। লাথি মারবে। এটা কোনো ভাষা হলো বলেন। তার নিজেরই পায়ের ঠিক নাই। নিজেই তো উঠতে পারে না।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমার চেয়ে পায়ের অবস্থা খারাপ কামাল হোসেন সাহেবের। উঠতেই পারে না। লাথি মারবে কিভাবে বলেন। আগে পা ঠিক করেন, তারপরে লাথি মারার ব্যবস্থা করেন। তার আগে লাথি মারার কথা বইলেন না। এটা কোনো ভাষা হলো, শিক্ষিত মানুষ সজ্জন ব্যক্তি। শেখ হাসিনা উনাকে প্রেসিডেন্ট ক্যান্ডিডেট বানিয়েছিল। উনাকে সমর্থন দিলাম। তারপরে উনি আপনাদের ভাড়া খাটা শুরু করলো। এখন এমন জায়গায় চলে গেছে উনি যে ভদ্র ভাষায় কথাই বলতে পারেন না। তারপরও আমি বলতে চাই উনার সৎ বুদ্ধি হোক এটা আমি চাই। বিএনপির আমলে একজন এমপির বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। আর আপনারা এখানে এসে ভালো ভালো কথা বলছেন। কি করবো বলেন, এরা আছেই মাত্র কয়জন, কি বলবে আর। সত্য কথা বলতেই হবে। তারপরও আমি বলি, আপনাদের নেত্রী ব্যর্থ হয়েছেন। পাপের ফল আপনাদের ভোগ করতে হচ্ছে। দশটা বছর চুপ করে থাকুন। প্রতিবাদ করুন।’

আরএএস/সাএ

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY