সংসদে কৃষিমন্ত্রী: ভারত নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে; পিঁয়াজের দাম অবশ্যই কমবে

0
56

কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, পিঁয়াজের দাম আমি তো বলছি এই মুহুর্তে বেশি। ভারত ইতোমধ্যেই পিঁয়াজ রপ্তানির ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে, কাজেই পিঁয়াজের দাম অবশ্যই কমবে। ১১০ টাকা কেজি পেঁয়াজের দাম থাকবে না। আমি খুবই আস্থাবান পিঁয়াজের দাম অবশ্যই কমে আসবে। বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) একাদশ জাতীয় সংসদে জাসদ একাংশের সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য শিরিন আখতারের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী একথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, এখন পিঁয়াজের মৌসুম। পাশ্ববর্তি দেশ ভারত থেকে পিঁয়াজ আসছে এবং অন্যান্য দেশ থেকেও এসময় পেঁয়াজ আসবে। কোনক্রমেই পেঁয়াজের দাম ১১০ টাকা কেজি থাকবে না। এটা অবশ্যই কমে আসবে। আমরা পিঁয়াজের ওপর যথেষ্ট গবেষণা করেছি এবং বিজ্ঞানীরা অনেক উন্নত মানের জাত আবিষ্কার করেছে এবং এখন হেক্টরে ২০, ২৫, ৩০ টন পর্যন্ত পেঁয়াজ উৎপাদন করা সম্ভব।

কৃষিমন্ত্রী জানান, পেঁয়াজের বিষয়টি সরকার এবার গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে। মাঠ পর্যায়ে নানা প্রণোদনা প্রদানের কারণে অতীতের তুলনায় এবার অধিকহারে পেঁয়াজ উৎপাদন হবে। এক্ষেত্রে আমরা আমদানী বন্ধ করে দেশের পেঁয়াজ উৎপাদনকারী কৃষকরা যাতে ন্যায্যমূল্যে পায় সে ব্যবস্থা করা হবে। কারণ পেঁয়াজ পচনশীল। ভরা মৌসুমে কৃষকরা পেঁয়াজ খুব অল্পমূল্যে বিক্রি করতে বাধ্য হয়। এতে পেঁয়াজ উৎপাদনে তারা উৎসাহ হারিয়ে ফেলে। আগামীতে এটা যেন না হয় সে ব্যাপারে নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, মসল্লা নিয়ে অনেক গবেষণা করেছি। বগুড়াতে একটা গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। বিজ্ঞানীরা কাজ করছে। প্রকৃতির কারণে সব মসল্লা বাংলাদেশে হয় না। অনেক মসল্লা বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। যেগুলো আমাদের দেশে হয় সেগুলো তো উৎপাদন করছি এবং সরকার এই জাতীয় মসলে যারা আবাদ করবে তাদেরকে ৪ শতাংশ হারে সুদ দিয়ে কৃষককে প্রণোদনা দেয় বা ঋণ দেয়। কৃষকরা যদি মসল্লা পিঁয়াজ উৎপাদন করে মাত্র ৪ শতাংশ সুদে লোন নিতে পারবে। আসলে সব মসল্লা বাংলাদেশে হয় না।

তিনি বলেন, এলাচের দাম আন্তর্জাতিক বাজারেই বেশি। তাছাড়া সবজির দাম এবার তুলনামূলকভাবে বেশি। এনিয়ে উভয় সংকটের কথা তুলে ধরে বলেন, একদিকে সবজি আবাদ করতে যে খরচ হয়, কৃষকদের আমরা কিন্তু বার বার বলছি কৃষকরা তাদের ফসলের ন্যায্য দাম পাচ্ছে না। আবার যেটা অস্বভাবিক সেটাও গ্রহণযোগ্য না। আমরা এমন একটা জায়গায় আছি আমাদের জন্য উভয় সংকট। দাম বেশি হলেও নি¤œ আয়ের মানুষ তাদের জন্য অনেক কষ্ট হয় আবার একদম কমে গেলে চাষীরা ফসল বিক্রি করে তার সংসার অন্যান্য খরচ চালাতে পারে না সেটাও পারে না। দামটা অবশ্যই সহনশীল পর্যায়ে থাকতে হবে। তবে মানতে হবে সবজি এবং বিভিন্ন পরিবহনে খরচ অত্যাধিক।

আয়েন উদ্দিনের অপর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, পেঁয়াজ নিয়ে মানুষের মধ্যে কিছুটা ক্ষোভ ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছিল। বর্তমানে দাম কিছুটা বৃদ্ধি থাকলেও স্থিতিশীল রয়েছে। যদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হয়, তবে আগামীতে পেঁয়াজ নিয়ে কোন সঙ্কট সৃষ্টি হবে না। যদি আমদানী করতেই হয়, তবে আগে থেকেই আমদানীর ব্যবস্থা করা হবে। কৃষকরা যাতে পেঁয়াজের উৎপাদনের ন্যায্যমূল্যে পায়, স্থানীয় পদ্ধতিতে পেঁয়াজ সংরক্ষণের নানা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, দেশে ২৩ থেকে ২৪ লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদন হয়, কিন্তু চাহিদা রয়েছে ৩০ থেকে ৩২ লাখ মেট্রিক টন। অবশিষ্ট চাহিদা পূরণে পেঁয়াজ আমদানী করা হয়। গত মৌসুমে অধিক বৃষ্টিপাতের কারণে ক্ষেত্রেই পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যায়, ফলে অধিক ঘাটতির সৃষ্টি হয়। পাশ্ববর্তী দেশ ভারত হঠাৎ করে পেঁয়াজ রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির কারণে দেশে হু হু করে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পায়, আমরা বাজারে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলি। সরকার থেকে দ্রত চীন, মিশরসহ কয়েকটি দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানী করে বাজার নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY