শাকিব-অপুর ‘কোটি টাকার কাবিন’ কাহিনী

0
54

সোমবার (১২ মার্চ) ‘কোটি টাকার কাবিন’ বন্ধ হচ্ছে, এটা শাকিব-অপুর সিনেমার কথা বলছি না। বলছি তাদের বাস্তব জীবনের কাবিনের কথা। শাকিব খান-অপু বিশ্বাস দম্পত্তির চূড়ান্ত বিচ্ছেদ ঘটলেও অপু পাচ্ছেন না কাবিনের কোটি টাকা। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে শাকিব খান-অপু বিশ্বাসের বিবাহ বিচ্ছেদের তৃতীয় ও শেষ শুনানি আজ সোমবার (১২ মার্চ)।

প্রথমে না করলেও পরবর্তীতে সমঝোতার কোনো সুযোগ নেই দেখে অপু বিশ্বাসও বিচ্ছেদ মেনে নিয়েছেন।

২০০৬ সালে এই জুটির প্রথম ছবির নাম ছিল ‘কোটি টাকার কাবিন’। তাদের বিয়েতেও কোটি টাকার কাবিন ছিল বলে অপুর দাবি।

যদিও শাকিব খান বলছেন, কাবিনের অঙ্ক ৭ লাখ ১ টাকা। কাবিন যত টাকারই হোক শেষ পর্যন্ত অপু বলছেন কাবিনের টাকা হিসেবে তাকে কোটি টাকাই দিতে হবে। না হলে এক পয়সাও নেবেন না তিনি। গত বছরের ২২ নভেম্বর অপুকে বিবাহ বিচ্ছেদের চিঠি পাঠান শাকিব।

সম্প্রতি অপু বিশ্বাস সিনেমায় কাজের শুরু, প্রেম, বিয়ে, সন্তান জয়ের জন্ম, বিবাহ বিচ্ছেদ নিয়ে একটি গণমাধ্যমের সাথে কথা বলেছেন তার কিছু অংশ তুলে ধরা হলো বিডি২৪লাইভ ডটকমের পাঠকদের উদ্দেশ্যে-

২০০৬ সালে এফ আই মানিকের ‘কোটি টাকার কাবিন’ ছবি দিয়ে অভিনয় জীবন শুরু করেন। নাচের অনুষ্ঠান করতে বগুড়া থেকে মাঝে-মধ্যে মায়ের সঙ্গে ঢাকায় আসতেন অপু। এ সময় (২০০৬ সালে) এফ আই মানিকের ‘কোটি টাকার কাবিন’ ছবিতে অভিনয়ের প্রস্তাব পান অপু বিশ্বাস।

অপু বিশ্বাস বলেন, ‘২০০৮ সালের ১৭ এপ্রিল শাকিব আমাকে প্রপোজ করেছিল। সেদিন শাকিব বলেছিল, আমি তোমাকে বিয়ে করতে চাই এবং তা আগামীকালই।

‘১৮ এপ্রিল শুক্রবার। সকাল সাড়ে ১০টায় ঘর থেকে বের হলাম। পথে বসুন্ধরা শপিং মলের সামনে থেকে প্রযোজক মামুনুজ্জামান মামুনকে গাড়িতে তুলে নিলাম। তার হাতে দুটি মালা। দিদি ডায়মন্ডের একটি ফিঙ্গার রিং কিনে নিলেন শাকিবের জন্য। শাকিবের গুলশানের বাসায় এসে হাজির হলাম। এখানেই বিয়ে হবে আমাদের।’

বিকাল সাড়ে ৩টায় বিয়ে পড়ানো হলো। শাকিবের চাচাতো ভাই মনির শাকিবের গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ থেকে কাজী নিয়ে এলেন। কাজীর নাম মুজিবুর। বিয়ে পড়াতে গিয়ে কাজী বললেন ধর্ম আর নাম পাল্টাতে হবে। ধর্ম পাল্টালাম। এবার নামের পালা। অপু নামটি রেখে এর সঙ্গে ইসলাম আর খান যোগ করা হলো। অপু বিশ্বাস থেকে হয়ে গেলাম অপু ইসলাম খান।’

বিচ্ছেদের প্রথম কারণ প্রসঙ্গে অপু বলেন, ‘একজন হিরোইনকে নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। তাকে বলেছিলাম, একটা জুনিয়র আর্টিস্ট আমাকে নিয়ে কথা বলবে আর তুমি সেখানে চুপ করে থাকবে? সে আমার কথায় পাত্তা দেইনি। তার মানে সে আমাকে সম্মান করেনি। তার প্রতি আমার অনুরোধ ছিল সে যেন বুবলীর সঙ্গে আর অভিনয় না করে। কিন্তু ২০১৭ সালের ১০ এপ্রিল যখন একটি পত্রিকায় দেখলাম ওরা জুটি বেঁধে ‘রংবাজ’ ছবিতে অভিনয় করতে যাচ্ছে তখন আর রাগ সংবরণ করতে পারিনি। ওই দিন বিকালেই টিভি চ্যানেলে লাইভে গিয়ে দীর্ঘদিন গোপনে থাকা বিয়ে ও সন্তানের বিষয়টি প্রকাশ্যে নিয়ে আসি। এরপর থেকেই আমাদের সম্পর্কের টানাপড়েন শুরু হয়।’

বিচ্ছেদের দ্বিতীয় কারণ প্রসঙ্গে অপু বলেন, ‘বিচ্ছেদের দ্বিতীয় কারণ হলো সন্তান আব্রাম খান জয়। কলকাতার একটি ক্লিনিকে ২০১৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর জন্ম হয় আব্রাম খান জয়ের।

অপু বিশ্বাস বলেন, শাকিব চায়নি আমাদের সন্তান পৃথিবীতে আসুক। এ জন্য অ্যাবরশন করাতে প্রথমে ব্যাংকক পরে কলকাতার একটি ক্লিনিকে শাকিব তার চাচাতো ভাই মনিরকে দিয়ে আমাকে পাঠায়। চিকিৎসক সাফ জানিয়ে দেন অ্যাবরশন করার স্টেজ আর নেই। তাই বাচ্চা জন্ম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। আর এই সিদ্ধান্তই আমার জন্য কাল হয়ে দাঁড়াল। শাকিব জানিয়ে দিল সন্তানের জন্ম হলে সে আমাকে ডিভোর্স দেবে। যখন কলকাতার ক্লিনিকে জয়ের জন্ম হচ্ছিল তখন শাকিব কলকাতায় ‘শিকারি’ ছবির শুটিং করছিল। বার বার অনুরোধ সত্ত্বেও একটি বারের জন্যও সে আমাকে বা বাচ্চাকে দেখতে আসেনি। এরপর ৮ মাস তার অনুরোধে বাচ্চা জন্মের খবরটাও গোপন রাখলাম।

বুবলীর সঙ্গে কাজ না করার অনুরোধ না রাখায় বাধ্য হয়ে গোপন বিয়ে আর সন্তানের খবর আমাকে প্রকাশ্যে আনতে হলো। আর এই দুইয়ের পরিণতি হলো ডিভোর্স।’

উল্লেখ্য, ১৩ বছর আগে ঢাকাই ছবির ব্যস্ত নায়ক শাকিব খান আর নায়িকা অপু বিশ্বাস জুটি বদ্ধ হয়ে ২০০৬ সালে এফ আই মানিকের ‘কোটি টাকার কাবিন’ ছবিতে অভিনয় করেন। প্রথম ছবিতেই এই জুটির বাজিমাত। ছবিটির সফলতা তাদের ঢালিউডে সফল জুটির আসন গড়ে দেয়। তারপর একাধারে একসঙ্গে পথচলা। মানে স্থায়ী জুটির তকমা পেয়ে যান তারা। একসঙ্গে জনপ্রিয় জুটিও হয়ে ওঠেন এই জুটি।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY