বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি ও হ্যাক হওয়া আইডি

0
188

তিনি উঠতি বয়সী মডেল। মিউজিক ভিডিও এবং ফটোসুটে কাজ করেন। গ্ল্যামার গার্ল হিসেবে পরিচিত এই মডেল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ পরিচিত। ফেসবুকে তার সাড়ে পাঁচ হাজার বন্ধু ও পঞ্চাশ হাজারের মতো ফলোয়ার রয়েছে। দিন রাতের বেশিরভাগ সময়ই শুটিং নিয়ে থাকেন ব্যস্ত। ১৫ই জানুয়ারি হঠাৎ করে তার ফেসবুক আইডি হ্যাক হয়ে যায়। ওই দিনই তার এক ঘনিষ্ঠ বান্ধবী তাকে ফোন করে জানায় কেউ তার ম্যাসেঞ্জারে কিছু গোপন ছবি পাঠিয়েছে। পরের দিন সকালে বান্ধবীর ম্যাসেঞ্জারে সেই ছবি দেখে যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ে তার মাথায়।

বুঝতে আর দেরি হয়নি এটি কোনো হ্যাকারের কাজ। বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে খুব অন্তরঙ্গ মুহূর্তে তোলা ছবি ও হ্যাক হওয়া আইডিটি উদ্ধার করা প্রয়োজন। অবশেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সাইবার নিরাপত্তা ও অপরাধ বিভাগের মাধ্যমে তার আইডি উদ্ধার করা হয়। এবং সেই হ্যাকারকে আনা হয় শাস্তির আওতায়।

শুধু ওই মডেল নয় গত কয়েক মাস ধরে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে হ্যাকাররা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রীতিমতো মেইল ও ফেসবুক আইডি হ্যাকের মচ্ছব চলছে। গত দুই মাসে এরকম ৪৮৫টি অভিযোগ জমা হয়েছে ডিএমপির সাইবার নিরাপত্তা ও অপরাধ বিভাগের কাছে। এর মধ্যে ইমেল আইডি, ফেসবুক আইডি হ্যাক ও আইডি নষ্ট করে ফেলার অভিযোগ রয়েছে। এসব আইডির মধ্যে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের মন্ত্রী, এমপি, সচিব থেকে শুরু করে মডেল, অভিনেত্রী, চিকিৎসক, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, রাজনীতিবিদ, সমাজকর্মী, খেলোয়াড় রয়েছেন।

আইডি হ্যাক করে হ্যাকাররা সংশ্লিষ্ট মালিকের কাছ থেকে বিভিন্ন তথ্য, ছবি, ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার ভয়ভীতি দেখিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। উপায়ান্তর না পেয়ে কোনো কোনো আইডি মালিক টাকা দিয়ে তাদের আইডি উদ্ধার করছেন। আর অনেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সাহায্য নিচ্ছেন। বিশেষ করে ডিএমপির সাইবার টিম গত দুই মাসে অন্তত ২০ জনের মতো হ্যাকারকে শাস্তির আওতায় নিয়ে এসেছে। উদ্ধার করা হয়েছে অনেক ফেসবুক ও মেইল আইডি। বিভিন্ন অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়ে সাইবার টিমের সদস্যরা বড় মাপের হ্যাকারদের সন্ধান পেয়েছেন। তাদের মধ্যে চ্যালেঞ্জ করে মডেল অভিনেত্রীদের আইডি হ্যাক করতো এমন এক হ্যাকারকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আর ৭০ হাজার সদস্যকে আইডি হ্যাকের প্রশিক্ষণ দিতো এমন আরেক হ্যাকারকে আটক করা হয়েছিল। ১৭ বছর বয়সী ওই হ্যাকারকে পরে তার পরিবারে সদস্যদের উপস্থিতিতে মুচলেকার মাধ্যমে মুক্তি দেয়া হয়েছে।

ফেব্রুয়ারি মাসের ঘটনা। মডেল অভিনেত্রী শার্লিন হাসানের ফেসবুক আইডি হ্যাক করে ২০ বছর বয়সী এক হ্যাকার। তার নাম সামির আল মাসুদ। আইডি হ্যাক করে এই হ্যাকার শার্লিনের বন্ধু ও ভাইয়ের কাছে ৩০ হাজার টাকা দাবি করে। আর টাকা না দিলে শার্লিনের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয়। এতে করে শার্লিন ও তার পরিবার বেশ বিব্রতকর অবস্থার মুখোমুখি হন। উপায়ান্তর না পেয়ে আশ্রয় নেন ডিএমপির সাইবার নিরাপত্তা ও অপরাধ বিভাগের। অভিযোগ পেয়ে সাইবার টিমের সদস্যরা শার্লিনের বন্ধু ও ভাইকে দিয়ে একটি ফাঁদ তৈরি করেন। ৩০ হাজার টাকা দেয়ার শর্তে আইডি ফিরিয়ে দেয়ার চুক্তি করা হয় হ্যাকার মাসুদের সঙ্গে। চুক্তি মোতাবেক একটি বিকাশ নম্বর দিয়ে মাসুদ টাকা পাঠাতে বলে। পরে ওই নম্বর দিয়ে তাকে ফাঁদে ফেলে আটক করে ডিএমপির সাইবার ইউনিট। আটক এই হ্যাকারের বাড়ি দিনাজপুরের ফুলবাড়ি এলাকায়। সে ওই এলাকার বদিউজ্জামান ও সেলিনা খাতুনের ছেলে। মাসুদ ঢাকার উত্তরার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করতো।

ডিএমপির সাইবার নিরাপত্তা ও অপরাধ বিভাগের সহকারী কমিশনার ধ্রুব জ্যোতির্ময় বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে মাসুদের কাছ থেকে চাঞ্চল্যকর তথ্য বের হয়ে এসেছে। ২০১৭ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সে এননইউনুস নামের একটি ফেসবুক গ্রুপের সঙ্গে সক্রিয় ছিল। এই গ্রুপে থাকাকালীন সময়ে সে আইডি হ্যাকের বিভিন্ন কলা কৌশল আয়ত্ত করে। এক সময় সে এতটাই দক্ষ হয় চ্যালেঞ্জ করে মানুষের আইডি হ্যাক করা শুরু করে। ধ্রুব বলেন, আমরা তার কাছ থেকে জানতে পেরেছি সে বিভিন্ন মডেল অভিনেত্রীদের আইডি টার্গেট করতো। তারপর চ্যালেঞ্জ দিয়ে হ্যাক করে তাদের কাছ থেকে অর্থ দাবি করতো। কোনো কোনো আইডি থেকে কিছু ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করে তাদের পরিচিতদের পাঠিয়ে দিতো। টাকার বিনিময়ে আইডি ফিরিয়ে দেয়ার প্রস্তাব দিতো। টাকা দিলে আইডি ফিরিয়ে দিতো। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পরে আদালতের নির্দেশে বর্তমানে সে জেলহাজতে আছে।

ভুক্তভোগী মডেল শার্লিন হাসান বলেন, এই হ্যাকার প্রথমে আমার এক বন্ধুর ম্যাসেঞ্জারে যোগাযোগ করে বলে আমি একজন হ্যাকার। আপনার বন্ধুকে বলেন তার আইডি হ্যাক হয়েছে। পরে সে ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে আইডি ফিরিয়ে দেয়ার প্রস্তাব দেয়। পরে সাইবার টিমের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তারাই তাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে আসেন। তিনি বলেন, শুধু আমি না এই হ্যাকার আরো অনেক মডেলের আইডি হ্যাক করেছে। থানায় যেদিন অভিযোগ দিতে গিয়েছিলাম সেদিন আরো অনেকেই সেখানে আইডি হ্যাকের অভিযোগ দিতে এসেছিল। মূলত সে সেলিব্রেটিদের আইডি হ্যাক করে। টাকা না দিলে এসব আইডির নাম পরিবর্তন করে বিক্রি করে দেয়।

এদিকে ডিএমপির সাইবার নিরাপত্তা ও অপরাধ বিভাগ ১৭ বছর বয়সী এক হ্যাকারের সন্ধান পেয়েছেন। সে ঢাকার একটি নামকরা কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। ইউটিউবে পাকিস্তানি ভিডিও দেখে হ্যাকিংয়ের প্রতি উদ্বুদ্ধ হয়। আয়ত্ত করে নেয় আইডি হ্যাকের কৌশল। এরপর থেকে একের পর এক আইডি হ্যাক করতে থাকে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে নাস্তিক দমন করার উদ্দেশ্যে সে প্রথমে আইডি হ্যাক করা শুরু করে। কাজের প্রসারের জন্য সে ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে একটি গ্রুপ খোলে। গ্রুপের এডমিন ছিল ওই শিক্ষার্থী। গ্রুপের সদস্য সংখ্যা ছিল প্রায় ৭০ হাজার। ১৭ বছর বয়সী এই শিক্ষার্থী গ্রুপের মাধ্যমে ৭০ হাজার সদস্যকে আইডি হ্যাকের প্রশিক্ষণ দিতো। তাদের প্রত্যেকের নামে ৪-৫টি করে ভুয়া ফেসবুক আইডি খোলা থাকতো। জাতীয় পরিচয়পত্র নকল তৈরি করে তারা বিকাশ ও রকেটে অ্যাকাউন্ট খুলতো। গ্রুপের সদস্যদের মধ্যে এডমিনের ঘনিষ্ঠ কিছু সদস্য আইডি হ্যাকের কাজ জোগাড় করতো। প্রতিটা আইডি হ্যাক করে বিনিময়ে তারা মালিকের কাছ থেকে হাতিয়ে নিতো টাকা। পরে এক নারী ভুক্তভোগীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে আটক করা হয়।

ডিএমপির সাইবার নিরাপত্তা ও অপরাধ বিভাগের সহকারী কমিশনার ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, মিথ্যা তথ্য দিয়ে ১৭ বছর বয়সী ওই শিক্ষার্থী ফেসবুকে অসংখ্য আইডি খুলেছিল। সে যেসব আইডি হ্যাক করতো তার সমস্ত ছবি, ভিডিও অন্যান্য তথ্য তার নিজস্ব একটি হোস্টেস সাইডে আগেই নিতো। তারপর ফেসবুক কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করতো এই আইডি তার। এমনকি আইডির সমস্ত ছবি, ভিডিও ও অন্যান্য তথ্যর মালিক সে। এভাবে নিজের কব্জায় আইডি নিতো। উদ্ধার করা ছবি, ভিডিও দিয়ে আইডির মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রতারণা করতো।

তিনি বলেন, আইডি হ্যাক করে এই গ্রুপের সদস্যরা ভুক্তভোগীর কাছ থেকে সাড়ে চার হাজার টাকা নিতো। কারণ এর ওপরে নিলে জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর দেয়ার ঝামেলা ছিল। এজন্য তারা কোনো অবস্থাতে সাড়ে চার হাজারের ওপরে টাকা নিতো না। আবার গ্রুপের অন্যান্য হ্যাকাররা তাদের বাবা মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে বিকাশ, রকেট অ্যাকাউন্ট খুলতো। যাদের বিকাশে অ্যাকাউন্ট থাকতো তারা বেশি টাকা নিতো। ইশতিয়াক বলেন, এই গ্রুপের সদস্যদের মধ্য ছেলে-মেয়ে উভয়ই ছিল। তাদের প্রত্যেকের বয়স ১৪ থেকে শুরু করে ১৮ বছরের নিচে। উঠতি বয়সী এসব ছেলে মেয়েরা বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী। ইউটিউবে বিভিন্ন ভিডিও দেখে তারা এপথে আসে। সাইবার টিম গ্রুপ এডমিনকে গ্রেপ্তারের পর তার বয়স কম দেখে কোনো রকম আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। তার বাবা মাকে ডেকে এনে তাদের মুচলেকায় তাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তবে তাকে নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে। ওই শিক্ষার্থী ছাড়া গ্রুপের আরো কিছু সদস্যকেও নজরদারিতে রাখা হয়েছে। তাদের কার্যক্রম নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে।

ফেসবুক আইডির পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের টার্গেট করে ইমেল আইডি হ্যাক করে প্রতারণা শুরু করেছে হ্যাকাররা। ইমেলের সমস্ত তথ্য নিজেদের কব্জায় নিয়ে আইডির মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে টাকা হাতিয়ে নেয় তারা। বেশ কিছুদিন ধরে এমন অহরহ ইমেল আইডি হ্যাকের অভিযোগ পাচ্ছে বলে জানিয়েছে ডিএমপির সাইবার টিম। তারা জানিয়েছে, ফেসবুক আইডি হ্যাকের পরিমাণ বেশি হলেও ইমেল আইডি হ্যাকের সংখ্যা নেহাত কম নয়। আর যাদের ইমেল আইডি হ্যাক হচ্ছে তাদের বেশিরভাগই বিভিন্ন সেক্টরের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। তাই এসব আইডি হ্যাক হওয়াতে বেশ বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হচ্ছে তাদের। এসব আইডি উদ্ধার করতে গিয়ে মালিকদের হ্যাকারের চাহিদা পূরণ করতে হচ্ছে। আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে যারা অভিযোগ নিয়ে যাচ্ছেন তাদেরটা অনেক ঝক্কি-ঝামেলার মধ্যে দিয়ে উদ্ধার করা হচ্ছে।

একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মহাব্যবস্থাপক আলী হোসেন বলেন, প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ মেইলিং আমাকে করতে হয়। কিন্তু চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে আমার আইডি হ্যাক হয়ে যায়। কোনোভাবেই আইডি উদ্ধার করতে পারছিলাম না। অথচ অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আমার মেইলের মধ্যে ছিল। উপায়ান্তর না পেয়ে ডিএমপির সাইবার টিমের সাহায্য নিয়ে আইডি উদ্ধার করি। একটি মার্কেটিং অফিসের এডমিন সারোয়ার হোসেন বলেন, ফেব্রুয়ারি মাসে শেষের দিকে আমার ইমেল আইডি হ্যাক হয়ে যায়। হ্যাকার আমার মোবাইলে ফোন করে জানায় এক লাখ টাকা দিলে আইডি ফিরিয়ে দিবে। এমনকি আইনি পদক্ষেপ বা টাকা না দিলে সমস্ত তথ্য মুছে ফেলবে বলে হুমকি দেয়। পরে পঞ্চাশ হাজার টাকা দিয়ে তার কাছ থেকে আইডি মুক্ত করি।

ডিএমপির সাইবার নিরাপত্তা ও অপরাধ বিভাগের উপ-কমিশনার আলিমুজ্জামান বলেন, জানুয়ারি মাস থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আইডি হ্যাকের মহামারি চলছে। সমাজের সকল শ্রেণি পেশার মানুষের আইডি হ্যাক হচ্ছে। যারা হ্যাক করছে তাদের অধিকাংশই স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী। ইদানীং বেশ কিছু ঘটনার তদন্ত করে আমরা এই সত্যতা পেয়েছি। হ্যাকাররা আইডি হ্যাক করে বিভিন্ন তথ্য নিয়ে প্রতারণা করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, অভিভাবকদের আরো বেশি সচেতন হতে হবে। তাদের সন্তানেরা কয়টা ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে, কোনো গ্রুপের সঙ্গে আছে কিনা। এসব গ্রুপের সঙ্গে তার কি কাজ, বেশি সময় ইউটিউবে কাটাচ্ছে কিনা। যদি কাটায় তবে সে আসলে কি নিয়ে ব্যস্ত থাকে। এসব বিষয়ে নজর রাখতে হবে। ইন্টারনেটের আনলিমিটেড ব্যবহার থেকে বিরত রাখতে হবে। এ ছাড়া সে যদি মা বাবার জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে বিকাশ, রকেটে অ্যাকাউন্ট খোলে তবে সেটি সে কোন উদ্দেশ্যে খুলেছে খেয়াল রাখতে হবে। ফেসবুক ব্যবহারকারীদের কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সাইবার ক্রাইমের ডিসি আলিমুজ্জামান। সূত্র: মানবজমিন।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY