বিমান দুর্ঘটনায় তিন গুণ বেশি ক্ষতিপূরণ কেন নয়

0
24

বর্তমানে বাংলাদেশে এয়ারলাইন্স ইন্ডাস্ট্রি পরিচালিত হয় ১৯২৯ সালের পুরনো ও প্রায় অকার্যকর ওয়ারসো কনভেনসনে (Warsaw convention)। পরবর্তীতে পরিবর্তিত আকারে হুগুই প্রটোকল (Hague Protocol) অনুযায়ী। ১৯৬৬ এবং ১৯৬৮ সালে ক্যারিয়েজ বাই এয়ার এক্টের (Carriage By Air Act) মাধ্যমে ওয়ারসো কনভেনসনকে (Warsaw Convention) বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্ত এবং কার্যকর করা হয়।

কিন্তু আইনটি অত্যাধিক পুরনো হওয়ায় ১৯৯৯ সালে মন্ট্রিল কনভেনশনে (Montreal Convention) তৈরি করা হয়। যা কিনা ২০০৩ সাল থেকে কার্যকর হয়। ২০০৩ সালের এই আইনটি সময়োপযোগী, আধুনিক এবং বিমানের যাত্রীদের দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে সঠিক ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করে।

বিমান বন্দরে ল্যাগেজ ও মালামাল হারানো অথবা আহত ও নিহতদের ক্ষেত্রে পুরনো আইনে একটা সীমিত পর্যায়ের বেশি ক্ষতিপূরণ আদায় করা সম্ভব নয়। সেখানে নতুন আইনে প্রায় তিনগুণ বেশি ক্ষতিপূরণ সম্ভব।

জনস্বার্থে এ বিষয়ে কোর্টে একটি রিট দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এ. এইচ. ইমাম হাসান। রিট আবেদনের শুনানি করেন হাইকোর্টের বিচারপতি জে. বি. এম. হাসান এবং বিচারপতি মোহাম্মদ খাইরুল আলম। তাদের দু’জনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ চার সপ্তাহের একটি রুল জারি করেন।

রুলে হাইকোর্ট জানতে চেয়েছে, মন্ট্রিল কনভেনশন বাংলাদেশে বাস্তবায়ন না করা কেন অবৈধ হবে না।

এ প্রসঙ্গে রিট আবেদনকারীর পক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার অনিক আর হক বলেন, ইন্টারন্যাশনাল এভিয়েশন ইন্ডাষ্ট্রি নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা আইএটিএ (International Air Transport Association) এবং আইসিএও (International Civil Aviation Organization) এর সদস্যভুক্ত দেশগুলোকে বারবার তাগাদা দিয়ে আসছে মন্ট্রিল কনভেনশন বাস্তবায়নের জন্য। কিন্তু বাংলাদেশ এখনো ১৯২৯ সালের পুরনো আইন দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। যেটা প্রায় অকার্যকর এবং সময় অনুপোযুগী।

এ ব্যাপারে তিনি একটি উদাহারণ দেন। বলেন, নতুন আইনটি থাকলে নেপালে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থরা প্রায় তিনগুণ বেশি ক্ষতিপূরণ পেতে পারতেন।

এই বিষয়ে জনস্বার্থে রিট দাখিলকারী আইনজীবী ব্যারিষ্টার এ. এইচ. ইমাম হাসান বিডি২৪লাইভকে বলেন, ‘বিশ্বের প্রায় ১২৪টিরও বেশি দেশ নতুন আইন দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। আমি বিগত ২০১৭ সালের ২ মার্চ, নেপাল দুর্ঘটনার প্রায় বছর খানেক আগে, বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষকে আইনি নোটিশ পাঠাই।

জবাবে তারা জানান, ২০১৫ সালে মন্ত্রণালয়ে মিটিং হয়েছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। ভারত, পাকিস্তানসহ পার্শ্ববর্তী দেশগুলো যখন নতুন আইন বাস্তবায়ন করেছে সেখানে বাংলাদেশ পিছিয়ে থাকবে কেন?

জনস্বার্থে দায়ের করা এই রিটের আবেদনকারী হিসেবে ছিলেন সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিষ্টার ফয়সাল দস্তগীর এবং ব্যারিষ্টার মাহমুদ আল ফাহাদ।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY