প্রার্থিতা ফিরে পেয়ে যা বললেন গোলাম মাওলা রনি

0
26

পটুয়াখালী-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী গোলাম মাওলা রনির মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকার অভিযোগে বাতিল হয়েছিল আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে যোগ দেয়া রনির মনোনয়নপত্র।

নির্বাচন কমিশনে আপিলের মাধ্যমে মনোনয়নপত্রের বৈধতা ফিরে পাওয়ার পর বিএনপি’র টিকিটে আসন্ন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অধিকার ফিরে পেলেন গোলাম মওলা রনি। এরপর এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের আচরণে আমি সন্তুষ্ট।’

তিনি নির্বাচন কমিশনে সাংবাদিকদের বলেন, ‘তাদের প্রতিটি জিনিসই আমার পছন্দ হয়েছে। শুধু আমিই নয়; আজকে যারা এসেছে তারা সবাই সন্তুষ্ট ইসির প্রতি।’

তবে এ সময় তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার আসন থেকে সিইসির ভাগিনা নির্বাচন করেছে। এটা নিয়ে ভোটারদের মনে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন সিইসির ভাগিনা যেহেতু এ আসনে তাহলে কোনো ভোটে হবে না।’

‘অনেকে বলছে সরকার সিইসিকে খুশি করার জন্য এই আসনে তার ভাগিনাকে মনোনয়ন দিয়েছে; আবার অনেকে বলছে সিইসি নিজে তার ভাগিনার জন্য আসন চেয়েছে। আমার মনে হয় এ বিষয়ে সিইসির একটা বিবৃতি দেওয়া উচিত। তাহলে জনমনে সন্দেহ থাকবে না।’

খালেদা জিয়ার প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়ার মতো আরও একটি কেস দেখেছি আজকের শুনানিতে। কমিশন এটাকে স্থগিত রেখেছেন। কমিশন বলেছে পরে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিবে। এসব দেখে আপাতত মনে হচ্ছে খালেদা জিয়ার মনোনয়ন বহাল থাকবে।’

বৃহস্পতিবার (৬ ডিসেম্বর) একাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের বাতিল হওয়া মনোনয়নের ওপর শুনানি শুরু করে নির্বাচন কমিশন। এ আপিল শুনানি শুরু হয় চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী নবাব মো: শামছুল হুদাকে দিয়ে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের লিফটের ১০ তলায় এজলাসে এ আপিল শুনানি শুরু হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্যান্য কমিশনাররা সেখানে উপস্থিত থেকে আপিল শুনানি গ্রহণ করছেন। নির্বাচন ভবনে এ আপিল শুনানি শুরু হয়। আজ এক থেকে ১৬০ পর্যন্ত ক্রমিক নম্বরের আবেদনের শুনানি হবে। ৮ই ডিসেম্বর পর্যন্ত ৫৪৩ পর্যন্ত আবেদনের আপিল শুনানি গ্রহণ করবে কমিশন।

এ বিষয়ে বুধবার (৫ ডিসেম্বর) নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ জানান, নির্বাচনে নিবন্ধিত দলগুলো যাকে প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন কমিশনকে জানাবে তিনিই হবেন দলীয় বৈধ প্রার্থী। বুধবার নির্বাচন কমিশনের মিডিয়া রুমে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন তথ্য জানান তিনি।

হেলালুদ্দীন আরও জানান, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার বিরুদ্ধে বৈধতা চেয়ে এবং বৈধ প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিপরীত পক্ষের প্রার্থী মনোনয়নপত্র বাতিল চেয়ে ইসির কাছে মোট ৫৪৩টি আপিল আবেদন জমা পড়েছে। আবেদনগুলো ৬ ডিসেম্বর থেকে ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত শুনানি করে নিষ্পত্তি করবে নির্বাচন কমিশনে (ইসি)।
৬ ডিসেম্বর প্রথম দিন ১ থেকে ১৬০ নম্বর আপিল আবেদনের শুনানি হবে। ৭ ডিসেম্বর দ্বিতীয় দিনে ১৬১ থেকে ৩১০ নম্বর আবেদনের শুনানি হবে। আর শেষ দিন ৮ ডিসেম্বর ৩১১ থেকে ৫৪৩ নম্বর আবেদনের শুনানি হবে।

তিনি জানান, নির্বাচন কমিশন আবেদনগুলো তিনভাগে ভাগ করে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে শুনানি করবে। ইতিমধ্যে একটি এজলাস কক্ষ প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদারসহ অন্য নির্বাচন কমিশনাররা শুনানি করবেন। শুনানি শেষে তাৎক্ষণিকভাবে রায় জানিয়ে দেয়া হবে। কারও আবেদন নাকচ হলে রায়ে নকল কপি আমরা দিয়ে দেবো।

ইসি সচিব বলেন, রাজনৈতিক দল বিবেচনায় নয়, ক্রমিক নম্বর অনুযায়ী আপিল আবেদনের শুনানি করা হবে। কোন দলের কতটি আবেদন পড়েছে, তা বাছাই করা হয়নি। আমার এই তিনদিন কেবল গ্রহণ করেছি। আগামী কাল বলতে পারবো- কয়টা বাতিল, কয়টা গ্রহণের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছে।

তিনি বলেন, সবাই জানে ২৮ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ছিল। সে সময় মোট ৩ হাজার ৬৫টি মনোনয়নপত্র দাখিল হয়েছিল। ২ ডিসেম্বর বাছাইয়ে ৭৮৬টি বাতিল হয়। এরপর ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ৫৪৩টি আপিল আবেদন জমা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথমদিন ৮৪টি, দ্বিতীয় দিন ২৩৭টি এবং শেষ দিন বুধবার (৫ ডিসেম্বর) ২২২টি আপিল আবেদন জমা পড়ে।

দুইদিনের মধ্যে আপিল আবেদন নিষ্পত্তি করা নিয়ে বিএনপির দাবি প্রসঙ্গে হেলালুদ্দীন বলেন, তাদের বুঝিয়ে বলেছি- তারা মেনে নিয়েছে, যে দুই দিনে সম্ভব নয়। কেননা, শুনানি করে সিদ্ধান্ত নিয়ে তাৎক্ষণিক রায় দেয়া, দুই দিনে সম্ভব নয়। তাই তিনদিনেই করতে হবে। যতক্ষণ শুনানি শেষ না হবে, ততক্ষণ চলবে। সকাল ১০টা থেকে মধ্যাহ্ন বিরতি দিয়ে যতক্ষণ লাগে, শেষ করতেই হবে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY