ট্রেন চলছে মেয়াদোত্তীর্ণ ইঞ্জিনে

0
71

বাংলাদেশের রেলের মোট ইঞ্জিনের অর্ধেকেরই বেশি স্বাভাবিক মেয়াদোত্তীর্ণ বলে জানা গেছে। এ কারণে রেলের প্রকল্পর মেয়াদ ও ব্যয় দুটিই বাড়ানো হচ্ছে।

সূত্র জানায়, সাধারণত রেলের লোকোমোটিভ বা ইঞ্জিনের আয়ুষ্কাল থাকে ২০ বছর। মেরামত করে সেগুলো আরও ১০ বছর কাজে লাগানো যায়। কিন্তু বাংলাদেশ রেলওয়েতে ব্যবহৃত ইঞ্জিনের প্রায় অর্ধেকেরই স্বাভাবিক মেয়াদ পার হয়ে বাড়তি আয়ুষ্কালও শেষ হয়েছে বহু আগে। এ অবস্থায় রেলের গতি বাড়াতে ৭০ নতুন ইঞ্জিন কেনার প্রকল্প নেওয়া হয় ২০১১ সালে, যা ২০১৭ সালের জুনের মধ্যে রেলবহরে যোগ হওয়ার কথা ছিল। তবে, পুরোনো ইঞ্জিনের মতো ইঞ্জিন কেনার প্রকল্পেরও মেয়াদ পার হয়েছে প্রায় দুই বছর আগে।

দুই দফায় বর্ধিত মেয়াদও শেষ হচ্ছে আগামী জুনে। এ অবস্থায় নতুন করে আবারও প্রকল্পে মেয়াদ, ব্যয় ও অর্থায়নের ধরনে পরিবর্তন করে সংশোধনী চাইছে বাস্তবায়নকারী সংস্থা বাংলাদেশ রেলওয়ে। এ সংশোধনী প্রস্তাব আজ মঙ্গলবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেলে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষেদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় তোলা হচ্ছে।

রেলপথ মন্ত্রণালয় বলছে, বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়েতে ইঞ্জিন আছে ২৭৫টি। এর মধ্যে ১৮১টি মিটারগেজ ও ৯৪টি ব্রডগেজ। এসব ইঞ্জিনের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল ২০ বছর। এর মধ্যে ১৪২টি ইঞ্জিনের বয়স অতিক্রম করেছে। ব্যয়বহুল মেরামত ও অধিক জ্বালানি ব্যয়ের মাধ্যমে মেয়াদোত্তীর্ণ এসব রেলের ইঞ্জিন চলমান রাখা হয়েছে। এছাড়া অনেক পুরোনো মডেল হওয়ায় মেরামতের সময় প্রয়োজনীয় খুচরা যন্ত্রাংশও পাওয়া যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক কাজী মো: রফিকুল আলম বলেন, রেলের ইঞ্জিনের স্বল্পতা রয়েছে। তবে প্রয়োজন মেটাতে অনেক পদেক্ষপ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ইঞ্জিন কেনার প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এর মধ্যে ৭০টি ইঞ্জিন কেনায় কোরিয়ার ইডিসিএফ ফান্ড নেওয়া হবে। এতদিন অর্থায়ন সংকটে ইঞ্জিন কেনা যায়নি। এখন অর্থায়ন সংকট কেটেছে কাজও দ্রুত এগিয়ে যাবে। টেন্ডার ফাইন্যান্সিংয়ের মাধ্যমে এতে অর্থায়ন হবে। এছাড়া গেল সপ্তাহেও ৪০ লোকোমোটিভ কেনার জন্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। আশা করি, আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে ইঞ্জিন সংকট দূর হবে।

জানা গেছে, বর্তমানে রেলওয়েতে ইঞ্জিন সংকটের কারণে কোচ পরিচালনা করায় সমস্যা দেখা দিয়েছে। রেলপথে যাত্রীর সংখ্যা বাড়লেও সে তুলনায় মিলছে না ইঞ্জিন। তাছাড়া পুরোনো ইঞ্জিনের গতিও বেশ কম। এ অবস্থায় রেলের ইঞ্জিন সংকট কাটাতে ২০১১ সালে কোরিয়ার নির্মিত ৭০টি মিটারগেজ (এমজি) ডিজেল ইলেকট্রিক রেলের ইঞ্জিন সংগ্রহ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ৭০টি মিটার গেজ (এমজি) ডিজেল ইলেকট্রিক (ডিই) লোকোমোটিভ সংগ্রহ শীর্ষক ১ হাজার ৯৫৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাল ছিল ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত। পরবর্তীতে দুই দফায়, দুই বছর সময় বাড়িয়ে করা হয় ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত।

এদিকে সংশোধীতে, ছয় বছর থেকে বাড়িয়ে মেয়াদ ১৩ বছর বা ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত, ৭১৩ কোটি টাকা ব্যয় বৃদ্ধি করে মোট ব্যয় ২ হাজার ৬৫৯ কোটি ৩৩ লাখ টাকা এবং সম্পূর্ণ সরকারি তহবিলের (জিওবি) পরিবর্তে অর্থায়নের ধরন পরিবর্তন করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে কোরিয়ান ইডিসিএফ ঋণ নেওয়া হবে ২০৪৪ কোটি ৩৩ লাখ টাকা।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY