জিয়ার মাজার সড়ানোর চক্রান্ত সর্বশক্তি দিয়ে প্রতিহত করা হবে: বিএনপি

0
94
ঢাকা: শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজার সড়ানোর চক্রান্ত জাতীয়তাবাদী সর্বশক্তি দিয়ে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি।
মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ এ ঘোষণা দেন।
রিজভী আহমেদ বলেন, শহীদ জিয়ার এ মাজারটি আজ কোটি কোটি জনগণের হৃদয়ে স্থান দখল করে আছে। জিয়ার মাজার সরানোর উদ্যোগ দেশে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির তৈরী করবে। এই মাজার সরানোর মতো দুঃসাহস দেখালে পরিণতি ভাল হবে না। জনগণ তাদের সকল অপচেষ্টাকে জীবন দিয়ে প্রতিহত করবে। জাতীয়তাবাদী শক্তি শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও শহীদ জিয়ার মাজার উচ্ছেদের অশুভ পরিকল্পনা প্রতিরোধ করবে।
তিনি বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ ষড়যন্ত্র শুরু করে ১৯৯৬ সালে প্রথম ক্ষমতায় আসার পর। সে সময় তিনি জিয়া উদ্যানের নাম পরিবর্তনই শুধু করেননি, তিনি শহীদ জিয়ার মাজারে যাওয়ার ক্রিসেন্ট লেকের ওপর থেকে বেইলি ব্রীজটিও সরিয়ে দিয়েছিলেন। আবার ২০১৪ সালের ১৭ জুন একনেক এর সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শহীদ জিয়াউর রহমানের মাজার অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার ঘোষনা দেন। এ অবৈধ সরকার সম্পূর্ণ ঈর্ষান্তিত হয়ে মহান স্বাধীনতার ঘোষকের মাজার সরিয়ে দেয়ার চক্রান্ত করছে।
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের মাজারটি সংসদ ভবন এলাকা থেকে অনেক দুরে অবস্থিত। মাজারের কারণে সংসদের কার্যক্রমের কোন ক্ষতি হচ্ছেনা। সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় জনবিচ্ছিন্ন এ সরকার মাজারটি অন্যত্রে সরানোর অপচেষ্টা করছে।
একদলীয় নব্য বাকশালী পার্লামেন্টে স্পীকার ড. শিরিন শারমিন  জাতীয় সংসদকে জনস্বার্থে ও দেশের স্বার্থে বিতর্কের জায়গা না রেখে প্রধানমন্ত্রীকে স্তাবকতা করার একটি অডিটোরিয়ামে পরিণত করেছেন। তাঁর পক্ষে গণতন্ত্রবিনাশী যেকোন উদ্যোগই গ্রহণ করা সম্ভব। কারন তাঁকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিহিংসামূলক ইচ্ছাগুলোকে আমলে নিয়েই কাজ করতে হয়।
বিএনপির এই নেতা বলেন, একটি অবৈধ ও গণবিচ্ছিন্ন সরকার কখনোই সুষ্ঠভাবে দেশ পরিচালনা করতে পারে না। কারণ ক্ষমতাবিলাস, দুর্নীতি, সন্ত্রাস আর রক্তপাতের জেনারেল লাইসেন্স নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করে বলেই তারা চরমভাবে ব্যর্থ হয়।
রাজকোষ থেকে টাকা পাচার, তনু হত্যা, বাঁশখালীতে পুলিশের নির্বিচার হত্যাকান্ড এবং ইউপি নির্বাচন নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের নজীরবিহীন খুনোখুনী আর ভোট ডাকাতি আড়াল করার জন্যই আবারো জিয়ার মাজার সরানোর ইস্যু সামনে নিয়ে আসা হয়েছে।
রিজভী বলেন, ভোটারবিহীন প্রধানমন্ত্রীর শহীদ জিয়ার মাজার সহ্য না হবারই কথা। কারন শেখ হাসিনা তাঁর পিতার পথ অনুসরণ করে গণতন্ত্রকে কবর দিয়েছেন। আর শহীদ জিয়া বহুদলীয় গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। এক বন্য প্রতিহিংসায় প্রধানমন্ত্রী আচ্ছন্ন হয়ে আছেন। জিয়া পরিবার তথা জাতীয়তাবাদী শক্তির ওপর রক্তাক্ত আক্রমণ চালিয়েও তার প্রতিহিংসার লেলিহান বহ্নি কোনভাবেই প্রশমিত হচ্ছে না। এখন তিনি টার্গেট করেছেন বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহীদ জিয়ার মাজারকে।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ডা. জেড এম জাহিদ হোসেন, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাজিম উদ্দিন আলম, অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সালাম, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, সহ দফতর সম্পাদক আব্দুল লতিফ জনি, আসাদুল করিম শাহীন, সহ তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব, নির্বাহী কমিটির সদস্য রফিক সিকদার, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, হেলেন জেরিন খান প্রমুখ।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY