জামিন খালেদা জিয়ার অধিকার

0
33

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান মোতাবেক সকল ক্ষমতার কেন্দ্র বিন্দু মহামান্য রাষ্ট্রপতি হলেও সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ মোতাবেক প্রধানমন্ত্রীই সকল ক্ষমতার একচ্ছত্র অধিপতি। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে অনেক বার প্রশ্ন উপস্থাপিত হলেও প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র ক্ষমতা এখনো অটুট ও অক্ষুণ্ণ রয়েছে। হালে সরকার ও দলীয় উদ্যেগে অনেক উচ্চ পর্যায়ের সভা বা জনসভায় প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রনায়ক হিসাবে সম্বোধন করা হচ্ছে, অন্যদিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়িত্বে থাকা সাবেক রাষ্ট্রপতি (সাবেক প্রধান বিচারপতি) সাহাবউদ্দিন আহাম্মদের ভাষায়, মাজার জেয়ারত ও মিলাদ শরীফে অংশ গ্রহণ ছাড়া চলমান সংবিধানে রাষ্ট্রপতির তেমন কোনো কার্যকর ভূমিকা নাই। তবে যখন রাষ্ট্রপতি শাসিত বা নেতৃত্বাধীন সরকার ছিল, তখনকার অবস্থা ছিল ভিন্ন। ঐ সময়ে রাষ্ট্রপতি সরকারিভাবে ক্ষমতা যে পদ্ধতিতে ভোগ করতেন এখন প্রধানমন্ত্রী সে প্রক্রিয়াতেই ক্ষমতা ভোগ করছেন। অর্থাৎ রাষ্ট্রের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং। বর্তমানে দেশে প্রধানমন্ত্রী শাসিত সরকার চালু রয়েছে।
উত্তারাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত দুই প্রধানমন্ত্রী একজন ক্ষমতায় এবং একজন সাবেক, যিনি ক্ষমতায় তিনি একজন ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। সাংবিধানিভাবে স্বাধীন প্রতিষ্ঠানগুলির নিয়ন্ত্রণও তার হাতে। অন্যজন কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে দিন যাপন করছেন, যিনি তার চাহিদা মতো চিকিৎসা পেতে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের মন গলাতেও ব্যর্থ। তবে দু’জনই মা’য়ের জাতি নারী এবং বয়সের দিক থেকে খুব একটা দূরত্বে নন। ক্ষমতায় থাকলে মন ও শরীর দু’টাই তরতাজা থাকে, আর জেলখানায় থেকে নিজ অধিকার বঞ্চিত থাকলে অসুস্থ একজন ৭৫ বৎসর নারীর যে অবস্থা হয় বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী খালেদা জিয়া সে অবস্থাতেই অন্ধকার প্রকোষ্টে আশা, প্রত্যাশায় দিন কাটাচ্ছেন। বাংলাদেশের রাজনীতির প্রেক্ষাপটে এ দুই জনই মূল খেলোয়াড়। একজনের উত্থানে অন্যজনের পতন। বাকী সব সাইড খেলোয়াড়। সংস্কৃতির জগতের সহনায়িকা বা সহশিল্পীর ভ‚মিকায়, ‘জি হুজুর’, ‘জাহাপনা’ বা ‘যেমন আদেশ’ বা ‘আপনার আদেশই শিরোধার্য’ বলে হুকুম পালন করাটাই দায়িত্ব ও কর্তব্য বলে সাইট খেলোয়াড়রা মনে করেন। এভাবে ভ‚মিকা পালন করা ছাড়া সাইড খেলোয়াড়দের অন্য কোনো পথও খোলা নাই। কারণ, এখন রাজনৈতিক দলে আনুগত্য প্রকাশের প্রতিযোগিতায় যে যত তোষামোদকারী সে তত সুবিধাভোগী এবং ক্ষমতাবান। ফলে নিজ অস্তিত্ব বিলীনের ঝুঁকি নিয়ে মূল খেলোয়াড়দের সামনে সাইড খেলোয়াড়রা জেনে শুনে সত্য বা ন্যায্য বা উচিৎ কথা বা সঠিক মতামত ব্যক্ত করতে বিরত থাকে, এ কারণে যে কোনো কথায় কখন জানি মূল খেলোয়াড়ের বিরাগ ভাজন হতে হয়। এ টেনশন নিয়েই হরহামেশা সাইড খেলোয়াড়দের দিন কাটে। জি হুজুর, জাহাপনা বলে দিন পার করাটাই সাইড খেলোয়াড়রা নিরাপদ মনে করছেন। এভাবেই মূল খেলোয়াড়রা তোষামোদীর চার দেয়ালের সোনার খাচায় বন্দি হয়ে নিজেদের একক সিদ্ধান্তই সঠিক এবং জনবান্ধব সিদ্ধান্ত বলে চালিয়ে নিচ্ছেন। সিদ্ধান্ত ‘জনবান্ধব’ কি না তা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পূর্বেই ‘তোষামোদীর তুরুপের তাসে বিচার্য বিষয় বিলীন হয়ে যায় বিধায় ক্ষমতায় থাকাবস্থায় কারো ভুল নিজের চোখে ধরা পড়ে না। যখন ধরা পড়ে তখন প্রতিকার থাকে ধরা ছোঁয়ার বাইরে।
সাম্প্রতিকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে শুধুমাত্র রাজনৈতিক মহলে নয়, বরং সর্বত্র আলোচনা হচ্ছে। মামলায় খালেদা জিয়ার কোন কারণে, কোন পদ্ধতিতে সাজা হয়েছে, তা নিয়ে বহু আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে এখন আলোচনা না করলেও সকল মানুষের মামলার জামিন হলেও ৭৫ বয়স্ক অসুস্থ এ নারীর কেন জামিন হচ্ছে না বা কেন তিনি চাহিদা মতো চিকিৎসা সেবা নিতে আদালত বা সরকারের বা রাষ্ট্রের অনুকম্পা পাচ্ছেন না, এটাই এখন জনমতের জিজ্ঞাস্য। দেশের সর্বোচ্চ আদালত সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে জামিনে মুক্তি দেয়ার কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না। অন্যদিকে সরকার থেকে বলা হচ্ছে যে, খালেদা জিয়ার জামিন নিয়ে সরকার কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে না, এটা আদালতের বিষয়। মিডিয়ার খবর, তিনি প্যারোলে মুক্তি পাচ্ছেন, সরকার থেকে প্যারোলের জন্য দরখাস্ত করতে উৎসাহিত করা হচ্ছে বলে মন্ত্রীদের চটকদার বক্তব্যে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। আইনের দৃষ্টিতে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তির মুক্তি তিনটি ক্ষমতা বলে হতে পারে। (১) রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা (সংবিধানের অনুচ্ছেদ-৪৯), (২) সরকারের প্রশাসনিক ক্ষমতা (ফৌজদারী কার্যবিধির ৪০১ ধারা) ও (৩) আপিল চলাবস্থায় আদালতের ক্ষমতা (ফৌজদারী কার্যবিধির ৪২৬ ধারা)।
সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘কোন আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত যে, কোনো দন্ডের মার্জনা, বিলম্বন ও বিরাম মঞ্জুর করিবার এবং যে কোনো দন্ড মওকুফ, স্থগিত বা হ্রাস করিবার ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির থাকিবে।’
ফৌজদারী কার্যবিধির ৪০১(১) ধারায় বলা হয়েছে যে, Power to suspend or remit sentences- When any person has been sentenced to punishment for an offence, the Government may at any time without conditions or upon any conditions which the person sentenced accepts, suspend the execution of his sentence or remit the whole or any part of the punishment to which he has been sentenced.
ফৌজদারী কার্যবিধির ৪২৬ ধারায় বলা হয়েছে, Release of appellant on bail (1) Pending any appeal by a convicted person, the Appellate Court may, for reasons to be recorded by it in writing, order that the execution on the sentence or order appealed against be suspended and, also, if he is in confinement, that he be released on bail or on his own bond. (2) The power conferred by this section on an Appellate Court may be exercised also by the High Court Division in the case of any appeal by a convicted person to a Court subordinate thereto.
সংবিধান, ফৌজদারী কার্যবিধি বা অন্য কোনো আইনে বিধিবদ্ধভাবে প্যারোল বলে কোনো শব্দ নাই। তবে বিভিন্ন আদালতের রায়ের রেফারেন্সে ও বিভিন্ন অভিধানে প্যারোলের সংজ্ঞা বা ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। যা নিম্নে উল্লেখ করা হলো:
১। Black’s Law Dictionary-তে Parole সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, The release of a prisoner from imprisonment before the full sentence has been served. Although not available under some sentences, parole is usu. granted for good behavior on the condition that the parolee regularly report to a supervising officer for a specified period. (Ref: Judicial Dictionary, Justice L.P. Singh & P.K. Majumdar)
২। চৌধুরী মুনীর উদ্দিন মাহফুজ সম্পাদিত ‘আইনি শব্দমালা’ অভিধানে বলা হয়েছে যে, ‘প্যারোল হচ্ছে কোনো বিচারাধীন হাজতী আসামী বা কয়েদীকে কোন শর্তের অধীন অপর কোন ব্যক্তির অধীনে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মুক্তি দেয়া। কোন ব্যক্তিকে প্যারোলে মুক্তিদানের ক্ষমতা সরকারের হাতে ন্যস্ত। কোন হাজতী বা কয়েদীকে তার নিকটতম কোন আত্মীয়-স্বজন অসুস্থ হলে বা মৃত্যু বরণ করলে দেখার জন্য স্বল্প সময়ের জন্য মুক্তি প্রদান করা হয়ে থাকে। সাধারণত এ ধরনের অধিকার রাজনীতিবিদ বা বিশিষ্ট ব্যক্তিরাই ভোগ করে থাকেন। Parole ১৯৬০ সালের Probation of offenders ordinance দ্বারা পরিচালিত হয়। আদালত কোনো অপরাধীর ইচ্ছানুসারে কারাদন্ডের পরিবর্তে প্রবেশন আসামীর অধীনে ও তত্ত্বাবধানে থাকার আদেশ দিতে পারেন। ১৯৬০ সালের Probation of offenders ordinance এর ৪ ও ৫ ধারা অনুযায়ী আদালত তরুণ অপরাধীদের এবং কতিপয় অপরাধের ক্ষেত্রে প্রথম অপরাধ কারীকে প্রবেশন এর আদেশ দিতে পারেন।’
৩। মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম প্রণীত Law Dictionary-তে প্যারোল সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, ‘প্যারোল, বচন, শর্তাধীন মুক্তি পালিয়ে যাইবে না এই শর্তসাপেক্ষে মুক্তি। কোনো বিচারাধীন হাজতী আসামী বা কয়েদীকে শর্তাধীনে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মুক্তি প্রদান করাকেই প্যারোল বলা হয়। এক প্রকার শর্তাধীন খাজনা। যাহা দ্বারা দন্ডপ্রাপ্ত অপরাধীকে তাহার মেয়াদ সমাপ্ত হইবার পূর্বে মুক্তি দেওয়া হয়, কিন্তু উক্ত মেয়াদের বাকি সময় তাহাকে সরকারী কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে থাকিতে হয় এবং প্যারোলের শর্ত ভঙ্গ করা হইলে পুনশ্চঃ কারান্তরালে যাইতে হয়। সচরাচর যুদ্ধ বন্দি কর্তৃক দেওয়া পলায়ন করা হইতে বিরত থাকিবার প্রতিশ্রুতি।’
৪। Oxford, Advanced Learner’s Dictionary মর্ম মতে প্যারোল সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, The release of a prisoner before the end of a sentence if he or she promises to behave well, or temporarily for a specila purpose.
৫। মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান এবং আনিসুজ্জামান সম্পাদীত ‘আইন শব্দকোষ’ অভিধানে প্যারোল সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, ‘প্যারোল বি. শর্তাধীন সাময়িক মুক্তি কারাগার হইতে বন্দির শর্তাধীন মুক্তি। বিশেষ বিবেচনায়, নির্দিষ্ট সময়ের অন্তে বন্দি কারাগারে প্রত্যাবর্তন করিবেন, এই শর্তে তাঁহার সাময়িক মুক্তিদান।’
বিভিন্ন অভিধানে প্যারোল সম্পর্কে যে ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে, বেগম খালেদা জিয়া মুক্তির প্রশ্নে সরকারি দলের কোনো কোনো নেতা প্যারোলের আবেদন করার যে সুরসুরি দিচ্ছেন, তা এখানে কতটুকু যুক্তি সংগত সেটাই প্রশ্ন। বেগম খালেদা জিয়ার মতো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের জন্য এ ধরনের প্যারোল কি প্রযোজ্য? রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা যখন ব্যক্তিকেন্দ্রিক হয়ে পড়ে তখন গণতন্ত্র, মানবতা, আইন, আদালত সবই হয়ে উঠে ব্যক্তিনির্ভর। বাংলাদেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের মতে, রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা তিন ভাগে বিভক্ত যথা: (১) রাজতন্ত্র, (২) একনায়কতন্ত্র বা গোষ্ঠি কেন্দ্রিক ও (৩) প্রজাতন্ত্র। একটি মামলার রায়ে তিনি মন্তব্য করেন যে, ‘রাষ্ট্র বা State শব্দটি Generic। রাষ্ট্র কী ধরনের শাসন ব্যবস্থা পরিচালিত তাহার উপর নির্ভর করে রাষ্ট্রের চরিত্রগত বা বৈশিষ্ট্যগত অবস্থান। যেমন রাষ্ট্র যদি রাজ-নিয়ন্ত্রিত হয় তবে তাহাকে বলা হয় রাজতন্ত্র (monarchy), যদি এক ব্যক্তি কেন্দ্রিক হয় তাহা হইলে তাহাকে বলা হয় এক নায়কতন্ত্র। ইহা গোষ্ঠি কেন্দ্রিক ও (oligarchic) হইতে পারে। কিন্তু প্রকৃত জন-মানুষের শাসন ব্যবস্থা প্রচলিত হইলে ঐ রাষ্ট্র ব্যবস্থাকেই বলে প্রজাতন্ত্র বা Republic। প্রায় সকল ক্ষেত্রেই ঐরুপ প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্রে লিখিত সংবিধান থাকে’ (সূত্র: ৬০ ডিএলআর পৃষ্ঠা ৫১১)। রাষ্ট্রের প্রকারভেদ সম্পর্কে বিচারপতি খায়রুল হকের ব্যাখ্যা যদি অনুসরণ করা হয় তবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা তিনটি মধ্যে কোন ক্যাটাগরীর অন্তর্ভুক্ত? এ বিবেচনার ভার পাঠক সমাজের উপর রইল। বর্তমানে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা যে পদ্ধতিতে চলছে এজন্যই কি এ দেশবাসী রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ করেছিল? বাংলাদেশের সংবিধানের তৃতীয় চ্যাপ্টারে জনগণের মৌলিক অধিকারের যে নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে, সে অধিকার কি জনগণ ভোগ করতে পারছে?
যতটুকু মনে পড়ে, ১/১১ সরকারের সময় বিচারাধীন কারাবন্দি হিসাবে সরকারের প্রশাসনিক আদেশে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কারামুক্ত হয়ে বিদেশে চলে গিয়েছিলেন। বেগম খালেদা জিয়ার উপর বিভিন্ন কারণে প্রধানমন্ত্রী নাখোশ বা অসন্তুষ্ট থাকতে পারেন। কিন্তু মনে রাখতে হবে, কোনো প্রকার ভীতি বা অনুগ্রহ, অনুরাগ বা বিরাগের বশবর্তী না হয়ে সকলের প্রতি আইন অনুযায়ী যথাবিহিত আচরণ করার শপথ তিনি নিয়েছেন। সে শপথের করণে নৈতিকভাবে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির প্রশ্নে তিনি প্রতিবন্ধক হতে পারেন কি?
মুখরোচক আলোচনায় বলা হয় যে, ‘বিচার বিভাগ স্বাধীন’। বিচারপতি এস.কে. সিন্হার পরে হালে পিরোজপুরে সরকার দলীয় সাবেক সংসদ সদস্যেকে সকালে জামিন না দেয়ায় দায়রা জজকে বদলী করে বিকেলে জামিন করানোর ঘটনায় বিচার বিভাগ কতটুকু স্বাধীন তা সহজেই অনুমান করা যায়। বিশ্বের যে কোনো আদালতের চেয়ে বাংলাদেশের উচ্চ আদালতের দেয়া Interpretation অনেক উন্নত মানের। কিন্তু যেখানে দুদকের মামলায় সকালের জামিন নামঞ্জুর হয়ে বিকেলে মঞ্জুর হয়ে যায় সেখানে উন্নতমানের চিকিৎসার জন্য বেগম খালেদা জিয়ার জামিন আটকে থাকে কেন?
বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির প্রশ্নে বিএনপি আন্দোলন করতে পারে না বলে সরকারের সাইড খেলোয়াড়রা উপহাস করে নানা ধরনে টিপ্পনী কাটেন। বিএনপি আন্দোলনের দিন ক্ষণ নির্ধারণ করে কাক্সিক্ষত সফলতা অর্জন করতে পারছে না। এ মুহূর্তে প্রয়োজন বিএনপি নেতা-কর্মীদের স্বেচ্ছায় কারাবন্দি হওয়ার কর্মসূচি ঘোষণা করা। বেগম খালেদা জিয়াকে বাঁচাতে হবে, এ অঙ্গীকার নিয়েই বিএনপি’কে মাঠে থাকতে হবে এবং এ জন্য বিএনপি নেতাকর্মীদের স্বেচ্ছায় কারাবন্দি হওয়ার কর্মসূচি গ্রহণ করাই এখন সম্মানজনক। এ ক্ষেত্রে ২০ দল ও ঐক্যফ্রন্ট কতটুকু সক্রিয় ভ‚মিকা রাখবে সেটা তাদের বিষয়। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি সরকারের জন্য হুমকি হবে জেনেই তার মুক্তিতে এতো আইন ও এতো প্রতিবন্ধকতা। দৃশত: প্রতীয়মান হচ্ছে যে, ‘একজনের উত্থানে অন্যজনের পতন’ নীতিকে প্রধানমন্ত্রী সঠিক মনে করেন বলেই বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির প্রশ্নে এতো বাহানা চলছে, জনগণের এ ধারণা পোষণ করা কি অযৌক্তিক?
লেখক: রাজনীতিক, কলামিষ্ট ও আইনজীবী

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY