জাতীয় পরিবেশ পদক পেল ওয়ালটন হাই-টেক

0
49

জাতীয় পরিবেশ পদক অর্জন করেছে দেশের ইলেকট্রনিক্স, ইলেকট্রিক্যাল অটোমোবাইলস, হোম অ্যাপ্লায়েন্স ও টেলিকমিউনিকেশন পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড।

গাজীপুরের চন্দ্রায় অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটি এ বছর ‘পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ’ ক্যাটাগরিতে এই পুরস্কার অর্জন করেছে।

বুধবার সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এই পদক তুলে দেন। প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ভাইস চেয়ারম্যান এস এম শামসুল আলম পুরস্কার গ্রহণ করেন।

তিন ক্যাটাগরিতে জাতীয় পরিবেশ পদক পেয়েছে চার ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। ‘পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ’ ক্যাটাগরিতে ওয়ালটন হাই-টেকের সঙ্গে যৌথভাবে পুরস্কারটি পেয়েছে কুষ্টিয়া পৌরসভা। এ ছাড়া ‘পরিবেশবিষয়ক শিক্ষা ও প্রচার’ ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছেন চট্টগ্রামের পতেঙ্গার বাটার ফ্লাই পার্কের মালিক আলতাব হোসেন। হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এইচবিআরআই) কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল ইসলাম ‘পরিবেশবিষয়ক গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন’ শ্রেণিতে পুরস্কার পেয়েছেন।

পুরস্কারের জন্য মনোনীত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ২১ ক্যারেট মানের দুই তোলা ওজনের স্বর্ণের সমপরিমাণ অর্থ এবং ৫০ হাজার টাকার চেক, ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আগামী এক বছরে সারা দেশে ৩০ লাখ গাছের চারা লাগানোর ঘোষণা রয়েছে সরকারের। অনুষ্ঠানে এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিরও উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার এবারের প্রতিপাদ্য ‘সবুজে বাঁচি, সবুজ বাঁচাই; নগর-প্রাণ-প্রকৃতি সাজাই’। জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০১৮ উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক বাণীতে নগরে বসবাসকারী মানুষের জীবনকে সুন্দর, স্বাস্থ্যসম্মত ও প্রশান্তিময় করার জন্য নগরে উপযুক্ত প্রজাতির গাছপালা রোপণে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘বৃক্ষ আমাদের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে সম্পৃক্ত। মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণের পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাসহ নৈসর্গিক শোভা বর্ধনে বৃক্ষের গুরুত্ব অপরিসীম।’

প্রসঙ্গত, সরকার পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়নে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি প্রদানের লক্ষ্যে ২০০৯ সালে জাতীয় পরিবেশ পদক প্রবর্তন করে। শুরুতে চারটি ক্যাটাগরি যথা- (ক) পরিবেশ সংরক্ষণ, (খ) পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ, (গ) পরিবেশবিষয়ক গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং (ঘ) পরিবেশগত শিক্ষা ও প্রচার-এ জাতীয় পরিবেশ পদক প্রদান এবং জাতীয় পরিবেশ পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে স্বর্ণ পদক, সনদপত্র এবং ৩০ হাজার টাকা সম্মানী প্রদান করা হতো।

পরবর্তীতে ২০১১ সালে জাতীয় পরিবেশ পদকের সম্মানী ৫০ হাজার টাকায় উন্নীত করে জাতীয় পরিবেশ পদক নীতিমালা সংশোধিত হয়। পরিবেশ সংরক্ষণ এবং উন্নয়নে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ব্যক্তিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ও অনন্য অবদান রেখে চলেছেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ২০১২ সালের ২৪ মে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় পরিবেশ পদক কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুসরণে পরিবেশ উন্নয়নে ব্যক্তি সাধারণের অবদানকে স্বীকৃতি প্রদানের লক্ষ্যে জাতীয় পরিবেশ পদক নীতিমালা পুনরায় সংশোধনের উদ্যোগ গৃহীত হয়। সে মোতাবেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে ৬টি ক্যাটাগরিতে জাতীয় পরিবেশ পদক প্রদান করা হয়।

ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাষ্ট্রিজ (ডব্লিউএইচআইএল) হচ্ছে ওয়ালটন গ্রুপের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান। এটি ওয়ালটন ভোক্তা পণ্য ও মোটরগাড়ি শিল্পের উৎপাদন ও যন্ত্র সংযোজন কেন্দ্র। কারখানাটির সম্পূর্ণ আয়তন ২১ লাখ ৬০ হাজার স্কয়ার ফিট। আট হাজার কারিগরি পেশাদার ও সদস্য এখানে কাজ করে থাকেন। এখানে রেফ্রিজারেটর, ফ্রিজার, মোটরসাইকেল, এয়ার-কন্ডিশনার এবং তাদের অতিরিক্ত অংশ ডিজাইন, উৎপাদন এবং সংযোজন করা হয়। এতো বৃহৎ নির্মাণ যজ্ঞের পাশাপাশি ওয়ালটন হাই-টেক পরিবেশ রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। যার স্বীকৃতি পেল এবার।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY