গ্রামীণফোন ছাড়তে চান বেশি গ্রাহক

0
19

নম্বর অপরিবর্তিত রেখে অপারেটর বদল বা মোবাইল নম্বর পোর্টেবিলিটি (এমএনপি) সেবা গতকাল সোমবার থেকে শুরু হয়েছে। প্রথম দিনেই গ্রামীণফোন ছাড়তে চেয়েছেন সবচেয়ে বেশি গ্রাহক। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গ্রামীণফোন ছেড়ে অন্য অপারেটরে যেতে আবেদন করেছেন বেশি মানুষ। আর সবচেয়ে কম গ্রাহক টেলিটক ছেড়ে অন্য অপারেটরে যেতে আবেদন করেছেন। গ্রামীণফোনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যারা ছেড়ে যাওয়ার আবেদন করছেন তাদের নানা কৌশলে আটকে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। পোর্টিং করা হচ্ছে না। আবেদনকারীদের মধ্যে মাত্র ২/৩ ভাগেরও কম গ্রাহকের পোর্টিং সম্পন্ন করেছে গ্রামীণফোন।

রবির হেড অব কর্পোরেট এ্যাফেয়ার্স শাহেদ আলম ইত্তেফাককে বলেন, গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত অন্য অপারেটরের ৯৭৬ জন রবিতে পরিবর্তনের জন্য আসে। এর মধ্যে গ্রামীণফোনের নম্বর ছিল ৮০ শতাংশ। কিন্তু গ্রামীণফোনের নম্বরের ক্ষেত্রে মাত্র আড়াই শতাংশ সফলভাবে রবি নেটওয়ার্কে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। বাকী সাড়ে ৯৭ শতাংশ গ্রামীণফোন স্থগিত রেখেছে। তিনি অভিযোগ করেন, ৫ মিনিটের মধ্যে গ্রাহকের কনফারমেশন আসার কথা। কিন্তু গ্রামীণফোনের কাছ থেকে এক ঘন্টার নিচে কোন কনফারমেশনই আসেনি। এমএনপির এই পর্যায়ে এসে এটা প্রত্যাশিত নয়। বাংলালিংকের অভিযোগ আরো ভয়াবহ। প্রতিষ্ঠানটির কর্পোরেট কম্যুনিকেশনসের সিনিয়র ম্যানেজার আংকিত সুরেকা ইত্তেফাককে বলেন, ‘সোমবার বিকাল পর্যন্ত ৫০০ জনেরও বেশি গ্রাহক অন্য অপারেটর থেকে আমাদের নেটওয়ার্কে যুক্ত হতে চেষ্টা করেছেন। রবি থেকে আমাদের নেটওয়ার্কে যোগদানের ক্ষেত্রে সাফল্যের হার ৩০ শতাংশ। কিন্তু গ্রামীণফোনের ক্ষেত্রে এই হার একজনও না। অর্থাত্ ০ শতাংশ।’ তারা কাউকেই ছাড়েনি।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রথম দিনে দেড় হাজারের বেশি মানুষ অপারেটর পরিবর্তনের আবেদন করেছেন। তবে সফলভাবে পোর্টিং সম্পন্ন হয়েছে দুই শতাধিকের বেশি গ্রাহকের। এর মধ্যে গ্রামীণফোনের পোর্টিং সবচেয়ে কম। বাংলালিংকে যে ৫০০ জনের মতো আবেদন এসেছে তার ৭০ ভাগ অর্থাত্ সাড়ে ৩শ’ এসেছে গ্রামীণফোন থেকে। রবিতে যে আবেদন এসেছে তার ৮০ ভাগ অর্থাত্ প্রায় ৮০০ জনের বেশি আবেদন এসেছে গ্রামীণফোন ফোন থেকে। ফলে দেখা যাচ্ছে প্রথমদিনে গ্রাহকরা যে অপারেটর ছাড়তে চাচ্ছেন তার মধ্যে প্রায় সাড়ে ১১শ’ গ্রাহকই গ্রামীণফোন ছেড়ে অন্য অপারেটরে যেতে আবেদন দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই গ্রামীণফোন থেকে নেটওয়ার্ক পরিবর্তন করতে চাওয়া গ্রাহকের কাছে তাত্ক্ষণিকভাবে মোবি ক্যাশ থেকে ঋণ পাঠিয়ে ‘ঋণ থাকায়’ প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার কথা জানানো হয়। এছাড়া গ্রামীণফোনের জিপে এবং ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স সংক্রান্ত সেবার বকেয়া থাকার কথা বলেও গ্রাহকদের নম্বর পরিবর্তন করতে দেওয়া হয়নি। বাংললিংক থেকে রবিতে নম্বর পরিবর্তণের ক্ষেত্রেও কিছু সমস্যা হয়েছে।

নাসির খান গতকাল সকাল ১০টার সময় কুষ্টিয়ার রবি গ্রাহক সেবা কেন্দ্রে গিয়ে হাজির হন নিজের ব্যবহূত গ্রামীণফোনের নম্বরটি রবি নম্বরে পরিবর্তনের জন্য। তার কাছ থেকে ফি এবং প্রায়োজনীয় তথ্য নিয়ে নতুন সিমকার্ড দেওয়া হয়। কিন্তু সারা দিনেও তার অপাটেরের পরিবর্তন হয়নি। নাসির হোসেন বলেন, তিনি গ্রাহক সেবা কেন্দ্র থেকে নতুন সিমকার্ড নিয়ে বাসায় ফেরার পর তাকে রবির গ্রাহক সেবা কেন্দ্র থেকে জানানো হয়, গ্রামীণফোন তার নম্বরটি পরিবর্তনে অস্বীকৃতি জানিয়ে প্রক্রিয়া স্থগিত করেছে। তিনি পরে গ্রামীণফোনের গ্রাহক সেবা কেন্দ্রে যোগাযোগ করলে সেখান থেকে তাকে বলা হয়, তার কোন বকেয়া কিংবা অন্য কোন সমস্যা নেই। তিনি নেটওয়ার্ক পরিবর্তন করতে পারবেন। কিন্তু পরে রবি থেকে আবারও জানানো হয়, গ্রামীণফোন তার পরিবর্তন প্রক্রিয়া স্থগিত রেখেছে এবং তার প্রমাণও তাদের কাছে আছে। পরে এ বিষয়ে তিনি আবারও গ্রামীণফোন গ্রাহক সেবা কেন্দ্রে যোগাযোগ করলে আর কোন তথ্য দেওয়া হয়নি। একই ধরনের বিড়ম্বনার কথা জানান নারায়ণগঞ্জের আব্দুস শুক্কুরসহ আরো অনেকেই। শুক্কুর বলেন, প্রথম দিনেই তার নম্বরটি রবিতে পরিবর্তনের জন্য যান। কিন্তু তাকেও সিমকার্ড দেওয়ার পর জানানো হয় গ্রামীণফোন তার পরিবর্তন প্রক্রিয়া স্থগিত রেখেছে। কেন রেখেছে সেটি এখন আর বলছে না।

এসব অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে গ্রামীণ ফোনের হেড অব কমিউনিকেশন সৈয়দ তালাত কামাল ইত্তেফাককে বলেন, গ্রামীণফোন এমএনপি সেবা নিশ্চিত করতে সবার আগে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। ফলে গ্রাহকরা যে ধরনের সমস্যার কথা বলছেন, তা হওয়ার কথা নয়। এটা একটা সংক্রিয় সেবা এমনটি হওয়ার কথা নয়। তারপরও এ সংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন।

এমএনপির কাজটি করছে ইনফোজিনিয়ান বিডি টেলিটেক। প্রতিষ্ঠানটির এমডি মাবরুর হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, প্রথম দিনেই আশানুরূপ গ্রাহক এমএনপিতে আগ্রহ দেখিয়েছে। অনেকগুলোই সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। অনেকের ব্যালান্স জটিলতা বা অন্য সমস্যা থাকায় তাদের কার্যক্রম শেষ করা যায়নি। সকালে যারা আবেদন করেছেন দুপুরের মধ্যেই তাদেরটা হয়ে গেছে। ইনফোজিনিয়ানের পক্ষ থেকে কোন ধরনের জটিলতা ছাড়াই কাজ চলছে। তবে কত গ্রাহক আবেদন করেছেন সেই সংখ্যাটি বলতে চাননি মাবরুর।

এদিকে গতকাল টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসিতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ সেবা শুরুর ঘোষণা দেন কমিশনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জহুরুল হক। তিনি বলেন, সেবা চালুর প্রথম দিন বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ১৭ জন তাদের অপারেটর পরিবর্তন করেছেন। আবেদন করেছেন শতাধিক গ্রাহক। এ সেবা নিতে গ্রাহককে ৫০ টাকা চার্জের সঙ্গে সিম রিপ্লেসমেন্ট ট্যাক্স এবং ভ্যাটসহ মোট ১৫৭ টাকা ৫০ পয়সা দিতে হচ্ছে। তবে এই চার্জ একেক অপারেটর একেকভাবে নিচ্ছে। গ্রামীণফোন ১৫৫ টাকা নিলেও রবি নিচ্ছে ১৪৯ টাকা। আর বাংলালিংক নিচ্ছে ১০০ টাকা। বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের ৭২টি দেশে এমএনপি চালু আছে। প্রতিবেশি দেশ ভারত ২০১১ সাল থেকে এবং পাকিস্তান ২০০৭ সাল থেকে এই সেবা চালু করেছে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY