খালেদার মুক্তির মেয়াদ বাড়াতে আগস্টে আবেদন

0
15

মানসিকভাবে চাঙ্গা থাকলেও শারীরিকভাবে ভালো নেই বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তার উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন। তার স্বজনরা আরও বলেছেন, উন্নত চিকিৎসা নিতে পারায় বেগম জিয়ার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। গতকাল বুধবার দেশ রূপান্তরকে খালেদা জিয়ার এক স্বজন বলেন, এখনো তার ডায়াবেটিকস নিয়ন্ত্রণহীন। পায়ের ব্যথা আছে। ওই স্বজন আরও বলেন, তবে তিনি দলের নেতাকর্মীদের খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং যুক্তরাজ্যে থাকা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত ফোনে যোগাযোগ রাখছেন।

এদিকে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে আগস্ট মাসের শেষে তার মুক্তির মেয়াদ বাড়াতে আবেদন করা হবে বলেও জানিয়েছেন তার ওই স্বজন। তিনি আরও বলেন, ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের জনগণকে ঈদের শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি করোনাভাইরাস থেকে নিরাপদে থাকতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে বলেছেন। লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশবাসীকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি তার অসুস্থ মায়ের (খালেদা জিয়া) সুস্থতা কামনায় দোয়া চেয়েছেন।

গত ২৪ মার্চ আইনমন্ত্রী আনিসুল হক তার নিজ বাসভবনে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘খালেদা জিয়াকে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তার মুক্তির শর্ত হলো এ সময়ে খালেদা জিয়াকে ঢাকায় নিজের বাসায় থেকে চিকিৎসা নিতে হবে। তিনি বিদেশে যেতে পারবেন না।’ পরদিন ২৫ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতাল থেকে মুক্তি পান খালেদা জিয়া।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘বিদেশে নিয়ে চেয়ারপারসনের উন্নত চিকিৎসা করা প্রয়োজন। কিন্তু সরকার যে নির্বাহী আদেশে মুক্তি দিয়েছে তাতে উল্লেখ করা হয়েছে দেশেই চিকিৎসা নিতে হবে। বিদেশে যেতে পারবেন না।’

‘আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ শেষ হবে। এরপর বিএনপি কী করবে’ জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এখনো সময় আছে। ঈদের পর আমরা নিজেরা আলাপ করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’

গত ২৫ মার্চ (বুধবার) কারামুক্তির পর খালেদা জিয়ার চিকিৎসার সার্বিক তদারকি করছেন লন্ডনে অবস্থানরত পুত্রবধূ ডা. জোবাইদা রহমান। এছাড়া দল সমর্থক চিকিৎসকদের নিয়ে মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছিল। তারা জোবাইদার সঙ্গে সমন্বয় করে চিকিৎসা দিচ্ছেন। বিএনপি গঠিত মেডিকেল বোর্ডের অন্যতম সদস্য ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, সরকারের নির্বাহী আদেশে গত ২৫ মার্চ মুক্তি পান খালেদা জিয়া। পরদিন ২৬ মার্চ থেকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের কারণে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসার পরিবেশ না থাকায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে মানসিকভাবে চেয়ারপারসন ভালো আছেন। পরিবারের সদস্যদের সান্নিধ্য পাওয়ায় মানসিকভাবে চাঙ্গা আছেন তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খালেদা জিয়ার ওই স্বজন বলেন, জেলে থাকা অবস্থায় আত্মীয়স্বজনসহ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত সাক্ষাৎ না হওয়ায় মানসিকভাবে বিপর্যয়ের মধ্যে ছিলেন বেগম জিয়া। এখন পরিবারের সান্নিধ্যে সময় কাটানোর কারণে মানসিকভাবে ভালো আছেন। তিনি আরও বলেন, করোনার কারণে লন্ডনে নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের চিকিৎসা করা এখন সম্ভব নয়। কারণ বয়স ও অসুস্থতার বিষয় বিবেচনা করে সেখানে তার চিকিৎসা দুরূহ। সময়ের ব্যবধানে সেখানকার পরিবেশ, পরিস্থিতি অনুকূল এলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বাইরে নেওয়ার জোর প্রচেষ্টা চালানো হবে। সূত্র: দেশরুপান্তর।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY