কুবিতে বাসে ওঠাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের হাতাহাতি

0
13

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে(কুবি) বাসে ওঠাকে কেন্দ্র করে শাখা ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটছে। সোমবার রাতে দুই দফায় এ হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা দুই পক্ষকে নিয়ে বসে বিষয়টি মীমাংসা করে দেন বলে জানা যায়।

জানা যায়, সোমবার কুমিল্লা শহর থেকে ক্যাম্পাসমুখী রাত ৮ টার বাসে ওঠার জন্য শিক্ষার্থীরা বাসের সামনে ভীড় করে। এসময় শাখা ছাত্রলীগের কর্মী ও শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের শিক্ষার্থী জিলান আল সাদ ঈশান (পদার্থ ১১ ব্যাচ) ভীড় ঠেলে আগে বাসে উঠতে গেলে কাজী নজরুল ইসলাম হল শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আহসানুল হক শিপন (নৃবিজ্ঞান ১১ ব্যাচ) তাকে কেন সামনের শিক্ষার্থীদের পিছনে ফেলে সে বাসে উঠেছে জানতে চেয়ে জিলানী শিপনের উপর চড়াও হয়ে তাকে চপেটাঘাত করে। পরবর্তীতে শিপন বাসে উঠে জিলানীকে মারধর করে। বাসের মধ্যে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে শিক্ষার্থীরা তাদেরকে থামিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে রাত ৯টার দিকে বাসটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে এসে থামলে তারা শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজ ও সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলাম মাজেদের সামনেই সেখানে উপস্থিত শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হল এবং কাজী নজরুল ইসলাম হলের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে এমন ঘটনা ঘটলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির কাওকে দেখা যায়নি। এমনকি কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ফোর্স তৎক্ষনাৎ উপস্থিত হলেও ছাত্রদের নিজস্ব বিষয় বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. কাজী মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন। ঘটনা চলাকালীন সময়ে তাকে বিষয়টি জানানোর পরে তিনি বলেন,‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের নিজেদের মধ্যে ঝামেলা হয়েছে তারা নিজেরাই সমাধান করে নিবে। আমি ছাত্রনেতাদের বলেছি তারা বসে বিষয়টি মিমাংসা করে দিবে।’

শুধু এই ঘটনাই নয় এর আগেও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি সংঘর্ষের ঘটনায়ই এমন গা-ছাড়া ভাব দেখিয়েছেন প্রক্টর। যা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ।

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজ বলেন,‘ রাত আটটার বাসে একই ব্যাচের দুই বন্ধুর মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে আমরা তাদের নিয়ে বসে মীমাংসা করে দেই।’

প্রক্টর ড. কাজী মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন বলেন, আমি শুনেছি দুই হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঝামেলা হয়েছে। ছাত্রলীগ নেতারা তাদের নিয়ে বসেছিল। ছাত্ররা বিষয়টি মীমাংসা করে ফেললে আমাদের কিছু করার নাই। তবে মীমাংসা না হলে আমরা ব্যবস্থা নিব।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন ঘটনায় উপস্থিত থাকুক বা না থাকুক শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলার বিষয়ে প্রক্টরিয়াল বডির সবসময় সজাগ ও কাজ করে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY