কমলাপুরে বাড়ি ফেরা মানুষের উপচে পড়া ভিড়

0
69

ঈদুল আজহায় রেলপথে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা বুধবার থেকেই শুরু হয়েছে। তবে মানুষের ঢল নামে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে। সে ধারা এখনো অব্যাহত রয়েছে। শনিবার সকাল থেকেই কমলাপুর রেল স্টেশনে ঘরমুখো যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়।

ঈদের বাকি আর তিন দিন। ঈদে সরকারি ছুটি রোববার থেকে শুরুর কথা থাকলেও তার আগে শুক্র-শনিবারের কল‌্যাণে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই ছুটির আমেজ শুরু হয়। স্বজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে নাড়ির টানে ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গ্রামের বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে মানুষ।

সকাল থেকে কমলাপুর স্টেশনে ট্রেনের সিডিউল অনুযায়ী দিনাজপুরগামী একতা এক্সপ্রেস, অগ্নিবীণা, রাজশাহীগামী ট্রেন, ময়মনসিংহগামী ঈশা খাঁন এক্সপ্রেস, সিলেটগামী জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস ও কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেসের জন্য অনেকেই পরিবার-পরিজন ও বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে, কেউবা একাই কাঙ্খিত ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ কারণে কমলাপুরে ছিল উপচে পড়া ভিড়।

স্টেশন সূত্র জানা গেছে, বৃহস্পতিবারের তুলনায় শুক্র ও শনিবার এ দুদিন কমলাপুরে অন্যদিনের তুলনায় যাত্রীদের ভিড় সবচেয়ে বেশি।

বাংলাদেশ রেলওয়ের স্টেশনমাস্টার সীতাংশু চক্রবর্তী জানান, ভোর থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত ঢাকা থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে ১৩টি ট্রেন ছেড়ে গেছে। এর মধ্যে ভোর ৫টায় ঢাকা থেকে জয়দেবপুরের উদ্দেশে তুরাগ, সাড়ে ৫টায় দেওয়ানগঞ্জের উদ্দেশে কমিউটার, ৬টা ২৫ মিনিটে রাজশাহীর উদ্দেশে ধূমকেতু, ৬টা ৪০ মিনিটে সিলেটের উদ্দেশে পারাবত, ৭টায় নোয়াখালীর উদ্দেশে উপকূল, ৭টা ২০ মিনিটে দেওয়ানগঞ্জ বাজারের উদ্দেশে তিস্তা, ৭টা ৫৫ মিনিটে চট্টগ্রামের উদ্দেশে মহানগর প্রভাতী, ৮টা ১০ মিনিটে কিশোরগঞ্জের উদ্দেশে সিন্ধু এক্সপ্রেস ছেড়ে গেছে। এ ছাড়া কমলাপুর থেকে নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশে ছেড়ে গেছে তিনটি লোকাল ট্রেন। দুটো ট্রেন ছেড়ে গেছে রংপুর ও জয়দেবপুরের উদ্দেশে। এসব ট্রেনে যাত্রীদের চাপ ছিল খুব বেশি।

স্টেশনে পরিবারসহ একতা এক্সপ্রেস ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছিলেন ব্যাংক কর্মকতা রাবাব আদিল। তিনি রাইজিংবিডিকে বলেন, চাকুরির সুবাদে ঢাকায় থাকলেও মন পড়ে থাকে গ্রামে। ঈদের সময় পরিবার-পরিজন নিয়ে গ্রামে ঈদ করতে যাওয়ায় মনে আলাদা প্রশান্তি কাজ করে। যে কারণে শত ভোগান্তির মাঝেও বাড়ি ফেরায় আলাদা ভালো লাগা থাকে।

বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন বলেন, সড়ক পথে অতিরিক্ত যানজটসহ নানা বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। এসব এড়াতে তাই ট্রেনের টিকিট কেটেছি।

তিনি বলেন, ‘একটু চাপ বেশি দেখছি যাত্রীর। তবে যেতে পারব। প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগির জন্য বিড়ম্বনার মধ্যে এই ঘরে ফেরাতেই আনন্দ।’

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বলছে, যাত্রীরা যেমন সুন্দর ও সুশৃংঙ্খলভাবে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট কাটতে পেরেছেন, আশা করা যায় ঠিক তেমনি সবার ঈদ যাত্রাও আনন্দদায়ক হবে। ট্রেন যাত্রায় যাত্রীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঠিক রাখতে এবং কোনো সমস্যা যেন না হয় সেজন্য রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।

রেলপথে ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা অব্যাহত থাকবে ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এরপর ঢাকায় ফেরার পালা।

এদিকে রাজশাহী, খুলনা, রংপুর, দিনাজপুর, লালমনিরহাট স্টেশন থেকে বিশেষ ব্যবস্থায় এখন ঈদে ট্রেনের ফিরতি টিকিট বিক্রি হচ্ছে। ৬ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে এই বিক্রি কার্যক্রম। আজ অগ্রিম ফিরতি টিকিট বিক্রির শেষদিন। আজ ১০ সেপ্টেম্বর বিক্রি হচ্ছে ১৯ সেপ্টেম্বরের অগ্রিম ফিরতি টিকিট।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY