‘একটি মানুষের জন্য খালেদা জিয়া জেলে’

0
73

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ বলেছেন, দু বছর হয়ে গেছে বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে অসুস্থ অবস্থায় রয়েছেন। গত মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) তার পরিবারের সদস্যরা তাকে দেখেছেন। খালেদা জিয়ার শরীর প্রতিদিনই খারাপ হচ্ছে। তার জরুরি চিকিৎসা দরকার যে চিকিৎসাটা এই হাসপাতালে তিনি পাচ্ছেন না। শামা ওবায়েদ বলেন, সারা দেশের নেতৃবৃন্দ চাচ্ছেন খালদা জিয়ার মুক্তি এবং সঠিক চিকিৎসা। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশো অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

খালেদা জিয়া সবসময় গণতন্ত্রের জন্য কাজ করেছেন জানিয়ে বিএনপির এই সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, `আমি বলবো আজকে একটি দল নয়, আজকে একটি মানুষের জন্য তিনি জেলে রয়েছেন। আওয়ামী লীগের অনেক নেতাই বলেন, প্রধানমন্ত্রীর চাইলেই হয় (জামিন) প্রধানমন্ত্রী চাচ্ছে না বলে হচ্ছে না।’

তাহলে আপনি কি মনে করেন বিচার বিভাগকে প্রধানমন্ত্রী বলে দেয় এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অবশ্যই এবং এটা আন ফরচুনেট (অনাকাঙ্খিত)। দেশের নাগরিক হিসেবে আমরা বিচার বিভাগের ওপর শতভাগ আস্থা রাখতে চাই। এটা শুধু বেগম খালেদা জিয়ার ব্যাপারে নয়, আমাদের প্রতিটি নাগরিকই বিচার বিভাগের মুখোমুখি হতে পারি। আমরা আস্থা রাখতে চাই, কিন্তু আমরা আস্থা রাখতে পারছি না।

এসময় তিনি বলেন, যখন একটি নৃশংস হ’ত্যাকাণ্ড ঘটে বাংলাদেশের মাটিতে। তখন প্রধানমন্ত্রী ডিরেক্টরলি অর্ডার করে যে, ওই হ’ত্যাকাণ্ডের বিচার হোক। আর সেটা কিন্তু হচ্ছে। কিছুদিন পূর্বে নুসরাত হ’ত্যা মামলার রায়ে তা হল। এটা হল কেন? এমন তো আরো অনেক মামলার ঝুলে আছে। সাগর-রুনি হ’ত্যা সকল মিডিয়া প্রচার করছে। কিছু দিন আগে তাদের মৃত্যুবার্ষিকী গেল। তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন বলেছিলেন ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আসামিদের গ্রেফতার করা হবে। কিন্তু ৪৮ ঘণ্টা এখনো কি পার হয়নি?

তিনি বলেন, আজকে মনে হয় যে সাগর রুনি হ’ত্যার বিচারের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী সেই অর্ডারটা দেন নাই। যে আপনারা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত শেষ করুন বা বিচার শেষ করুন। সেটা হয়তো দেয় নি। এখন বাস্তবতা হচ্ছে আমরা উদাহরণ দিয়ে দেখি আমাদের সামনে গত কয়েক বছরে যে ঘটনা গুলো ঘটেছে প্রধানমন্ত্রী যদি হস্তক্ষেপ করে তাহলে বিচারের রায় হচ্ছে। রায় কি হলো সেটা আলাদা বিষয়। কিন্তু বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ হয়। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ছাড়া কিছুই হচ্ছে না। তাহলে দেশের সাধারণ নাগরিক যারা আছে তারা কি ভাববে? যে অবশ্যই প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। বিশেষ করে হাই প্রোফাইল। অবশ্যই বেগম খালেদা জিয়ার মামলা একটি হাই প্রোফাইলের।

শামা ওবায়েদ বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছাড়া যে কেউ কারাগারে অসুস্থ থাকতাম এবং জামিন চাইতাম মানবাধিকারের দিক দিয়ে তাহলে আমরা অনেক আগেই জামিন পেতাম। শুধুমাত্র উনি বেগম খালেদা জিয়া দেখে, শুধু মাত্র উনি বিএনপি চেয়ারপারসন দেখে প্রধানমন্ত্রী প্রতিহিংসার কারণে উনি জামিন পাচ্ছে না। আজকে এই সত্যিটা দিবালোকের মতো পরিষ্কার।

তাহলে বিএনপি কি করবে এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বিএনপি যেহেতু আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল তাই আইনি প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে। আইনজীবীরা পিটিশন করবেন সেভাবে তারা কাজ করছেন। একই সাথে সারাদেশের নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত। তারা চাচ্ছে খালেদা জিয়ার জন্য শুধু ঢাকায় না সারাদেশে মাঠে নেমে আন্দোলন করি। আমরা কর্মসূচি করতেছি সামনেও আমাদের কর্মসূচি রয়েছে এবং বিএনপি কাজ করে যাবে।

বিএনপির এই সাংগঠনিক সম্পাদক বলেন, উচ্চ আদালতের ওপর আমাদের আস্থা রাখা উচিত। আমরা আস্থা রাখতে চাই। কিন্তু বারবার আমরা হোঁচট খাই। যেই দেশে প্রধান বিচারপতিকে একটি রায় দেওয়ার কারণে দেশ থেকে পলায়ন করতে হয়। তখন অন্য যারা বিচারাপতি রয়েছে তাদেরকে কতটা ভীতির মধ্যে কাজ করতে হয়?

তিনি বলেন, গত ১২ বছরে আওয়ামী লীগ সুপরিকল্পিত ভাবে দেশে একটি ভয়ের রাজ্য তৈরি করছে। শুধু বিচার বিভাগ নয়, আপনি ব্যবসায়িদের দেখেন, শিক্ষকদের দেখেন, সুশীল সমাজ দেখেন কেউ কিন্তু কথা বলে না, বলতে ভয় পায়। ১/১১ সময় বেগম খালেদা জিয়ার নামে যে কয়টা মামলা হয়েছে তার থেকে বেশি মামলা রয়েছে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে। ২০০৯ সালে যখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলেন তখন অলৌকিক ভাবে তাদের মামলাগুলো গায়েব হয়ে গেল। ওনারা (আওয়ামী লীগ) প্রমাণ করেছে যেকোন ভাবে প্রধানমন্ত্রী হতে পারলে তাহলে আপনাকে কোটের বারান্দায় যেতে হবে না, আপনার মামলাগুল সব গায়েব হয়ে যাবে। এটাইতো হয়েছে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY