উচ্চ আদালতের নির্দেশে চাকরি পেলেন প্রতিবন্ধী রাসেল

0
15

হাইকোর্টের রায়ের ফলে পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক পদে নিয়োগ পেয়েছেন মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার শারীরিক প্রতিবন্ধী যুবক মো. রাসেল ঢালী। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) তিনি কাজে যোগ দেবেন।

বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রায় সাত বছর পর চাকরি ফিরে পাওয়ার বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন রিটকারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া। রাসেলের রিট মামলাটি সম্পূর্ণ বিনা খরচে পরিচালনা করেছেন এই আইনজীবী।

রাসেলের নিয়োগপত্রে বলা হয়েছে, হাইকোর্ট বিভাগের করা রিটের রায়ের নির্দেশনা ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের স্মারকপত্রের আলোকে জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ এবং ১৬তম গ্রেডে বেতনে রাজস্ব খাতে অস্থায়ী ভিত্তিতে পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক পদে নিয়োগ দেয়া হলো। রাসেল ঢালীর বাড়ি সিরাজদিখান উপজেলার চন্দধুল গ্রামে। তার কর্মস্থল ইছাপুরা ইউনিয়নে।

নিয়োগের বিষয়ে আইনজীবী মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ বলেন, রাসেল ঢালী আদালতের রায়ের আলোকে নিয়োগ পাওয়ায় প্রতিবন্ধীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপিত হলো। দেরিতে হলেও রাসেল ঢালী ন্যায়বিচার পেয়েছেন।

এর আগে ২০১৯ সালের ১০ ডিসেম্বর পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক পদে রাসেল ঢালীকে প্রতিবন্ধী কোটায় নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। স্বাস্থ্য সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালকসহ সাতজনকে এ নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়।

হাইকোর্টের বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি জাফর আহম্মেদের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও নিয়োগ বঞ্চিত রাসেল ঢালীর করা এক রিটের শুনানি নিয়ে এ নির্দেশ দিলেন আদালত। আদালতে রাসেল ঢালীর পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোকলেছুর রহমান।

ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের অধীনে মুন্সিগঞ্জ জেলার পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির বিভিন্ন পদে জনবল নিয়োগের জন্য ২০১৩ সালের ১৩ এপ্রিল বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। এর মধ্যে মুন্সিগঞ্জ জেলার জন্য ১৯টি পদ রাখা হয়।

সিরাজদিখান উপজেলার ইছাপুর ইউনিয়ন থেকে পরিকল্পনা পরিদর্শক পদে প্রার্থী হিসেবে রাসেল ঢালী আবেদন করেন। ওই বছরের ২১ জুন লিখিত পরীক্ষায় জেলার বিভিন্ন থানার ৫৭ প্রার্থী উত্তীর্ণ হন, তাদের মধ্যে রাসেলও ছিলেন। ১৯টি পদ থাকলেও পরে চূড়ান্তভাবে ১৫ জনকে নিয়োগ দেয়া হয়। সেখানে শারীরিক প্রতিবন্ধী রাসেল ঢালীকে নিয়োগ দেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

নিয়োগ না পেয়ে রাসেল ঢালী পরীক্ষায় কত নম্বর পেয়েছেন তা জানতে চেয়ে তথ্য অধিকার আইনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেন। কর্তৃপক্ষের দেয়া তথ্যানুযায়ী পরিকল্পনা পরিদর্শক পদের জন্য মৌখিক পরীক্ষায় ৩০ নভেম্বরের মধ্যে ২৮ পান তিনি। প্রতিবন্ধী কোটা থাকার পরও তাকে চাকরিতে নিয়োগ দেয়নি কর্তৃপক্ষ। এরপর নিয়োগ না দেয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করেন রাসেল ঢালী।

রিট আবেদনের ওপর প্রাথমিক শুনানি শেষে ২০১৪ সালের ২ জুন হাইকোর্ট রুল জারি করেন এবং পরিদর্শক পদটি সংরক্ষণের নির্দেশ দেন। এ রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে রাসেল ঢালীকে পরিদর্শক পদে নিয়োগের নির্দেশনা দিয়ে ২০১৭ সালের ১৬ নভেম্বর রায় দেন আদালত।

এর পরও নিয়োগ না দেয়ায় আদালত অবমাননার আবেদন করা হয়। ওই আবেদন শুনানি নিয়ে হাইকোর্টের বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খিজির হায়াতের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ২০১৯ সালের ১০ ডিসেম্বর বিবাদীদের প্রতি আদালত অবমাননার রুল জারি করার পর কর্তৃপক্ষ তাকে নিয়োগের উদ্যোগ নেন। তারই ধারাবাহিকতায় আদালতের রায়ের আলোকে রাসেল ঢালী আজ আজিমপুর অফিস থেকে যোগদানপত্র গ্রহণ করেন।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY