তথ্য নিরাপত্তা : নিয়ন্ত্রণ না হারাতে ফেসবুককে সতর্ক করল ইইউ

0
25

ফেসবুকের সাম্প্রতিক তথ্য বেহাতের ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ইইউর তথ্য গোপনীয়তা দেখভালকারী সংস্থার এক শীর্ষ কর্মকর্তা দাবি করেছেন, একটি বড় ধরনের গোপনীয়তা লঙ্ঘনের পর ফেসবুকের তথ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনেকটা ভেঙে পড়েছে। তিনি এ বিষয়ে নিয়ন্ত্রণ না হারাতে ফেসবুককে সতর্ক করেছেন। খবর এএফপি।

ইইউর বিচার ও ভোক্তাবিষয়ক কমিশনার ভেরা জরোভা বলেন, ফেসবুক ব্যবস্থাপনা বিভাগের কাছে তার একটি প্রশ্ন— তারা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছেন কিনা। তিনি দাবি করেছেন, ফেসবুকের সাম্প্রতিক তথ্য বেহাতের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ৫০ লাখ ইউরোপিয়ানও রয়েছেন।

ভেরা জরোভা বলেন, প্রতিষ্ঠানটির বিশালতার কারণে তা পরিচালনা করা খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে। তার পরও তাদের সেটা করতে হবে। কারণ তারা আমাদের তথ্য সংগ্রহ করছে এবং এর মাধ্যমে বিপুল অংকের অর্থ আয় করছে। মোট কথা, প্রতিষ্ঠানটি আমাদের গোপনীয়তাকে পণ্য বিবেচনা করছে।

কয়েকদিন আগে ফেসবুক স্বীকার করেছে, তাদের অন্তত পাঁচ কোটি গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে প্রবেশাধিকার পেয়েছে হ্যাকাররা।

ভেরা জরোভা জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তথ্য পেতে তার আরো কয়েক ঘণ্টা বা দিন লাগবে। তবে তিনি অনুমান করছেন— ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচ কোটি ফেসবুক ব্যবহারকারীর মধ্যে অন্তত ৫০ লাখ ইউরোপিয়ান।

চলতি বছরের শুরুর দিকে ইউরোপে গোপনীয়তা বিষয়ে জেনারেল ডাটা প্রটেকশন রেগুলেশন বা জিডিপিআর আইন কার্যকর হয়েছে। ইইউ অঞ্চলের গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা দিতে এ আইন করা হয়েছে।

ভেরা জরোভা বলেন, ফেসবুক তথ্য বেহাতের বিষয়টি দ্রুতই তাদের জানিয়েছে। এ থেকে এটা স্পষ্ট, ইউরোপের নতুন জিডিপিআর আইনের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

জিডিপিআর আইন অনুযায়ী, গ্রাহক তথ্যের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হলে নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ আইন ভঙ্গকারী প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করতে পারবে। এক্ষেত্রে আইন ভঙ্গকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের আগের বছরের বার্ষিক রাজস্বের ৪ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা করা হবে। তবে তথ্য বেহাতের ঘটনার ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করতে পারলে বার্ষিক রাজস্বের ২ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা হবে। ভেরা জরোভা জানান, ফেসবুক ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই বিষয়টি তাদের জানিয়েছে।

চলতি বছরের শুরুর দিকে ফেসবুকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা নামের একটি ব্রিটিশ রাজনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান তাদের ৮ কোটি ৭০ লাখ গ্রাহকের তথ্য হাতিয়ে নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি এসব তথ্য ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের কর্মপন্থা নির্ধারণে ব্যবহার করেছে। এ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বব্যাপী তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে। এ ঘটনায় মার্ক জাকারবার্গ ও ফেসবুকের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) শেরিল স্যান্ডবার্গকে মার্কিন সিনেটের শুনানিতে হাজির হতে হয়েছিল। এমনকি ইউরোপীয় পার্লামেন্টের শুনানিতেও হাজির হয়েছিলেন জাকারবার্গ। এসব শুনানিতে ফেসবুক নির্বাহীরা গ্রাহক তথ্য সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন। তবে এর কয়েক মাস যেতে না যেতেই আবারো একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখা গেল।

জরোভা বলেন, বড় ধরনের গ্রাহক তথ্য বেহাতের ঘটনা ঘটলেও আগে কোম্পানিগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কিংবা গ্রাহকদের তা জানাত না। তবে ফেসবুকের সাম্প্রতিক ঘটনায় তা হয়নি।

গত রোববার ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে জানায়, ফেসবুক ইউরোপে সর্বোচ্চ ১৬৩ কোটি ডলার জরিমানার মুখে পড়তে পারে। সাম্প্রতিক তথ্য বেহাতের ঘটনায় ইউরোপীয় নাগরিক ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সামাজিক মাধ্যমকে এ জরিমানা গুনতে হতে পারে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY