২৫ আগস্টের আগেই রোহিঙ্গা নিধন শুরু করে মিয়ানমার

0
8
রোহিঙ্গা গ্রামে ধ্বংসস্তূপ দেখলেন কূটনৈতিকরা

রাখাইন রাজ্যে গত ২৫ আগস্ট পুলিশের তল্লাশি চৌকিতে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হামলার আগে থেকেই রোহিঙ্গাদের বিতাড়ন করতে দমন-পীড়ন ও বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ শুরু করেছিল মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। বুধবার জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

গত মাসে রাখাইন থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা ৬৫ জন রোহিঙ্গার সাক্ষাৎকারের ওপর ভিত্তি করে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। বুধবার এই প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের হাই কমিশনার জেইদ রা’দ আল-হুসেইন।

গত ২৪ আগস্ট রাখাইনে ৩০টি পুলিশ ও একটি সেনা চৌকিতে হামলা চালায় রোহিঙ্গা বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। এতোদিন ধরে বলা আসা হচ্ছিল এর পরদিন থেকেই রোহিঙ্গা নির্মূল অভিযানে নামে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। এই অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে যোগ দেয় চরমপন্থী বৌদ্ধরা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৫ আগস্ট পুলিশ তল্লাশি চৌকিতে হামলার আগে থেকেই রোহিঙ্গাদের নির্মূল অভিযান শুরু করেছিল সেনাবাহিনী। এসময় সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের হত্যা-নির্যাতন ও শিশুদের ধর্ষণ করেছে।

মিয়ানমার সরকারের এই কর্মকাণ্ডকে ‘জাতিগত নির্মূলের প্রকৃষ্ট উদাহরণ’ উল্লেখ করে মানবাধিকার দপ্তরের হাই কমিশনার জেইদ রা’দ আল-হুসেইন বলেন, দেখা যাচ্ছে এই অভিযান ‘ফেরার সম্ভাবনা বাতিল করে বিপুল সংখ্যক লোককে জোর করে স্থানান্তরের একটি বিদ্বেষমূলক পরিকল্পনা।’

জেনেভায় নিজের দপ্তরে প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে আল-হুসেইন বলেন, ‘বিশ্বাসযোগ্য তথ্য এটাই ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ইচ্ছা করেই উত্তর রাখাইনে রোহিঙ্গাদের সম্পত্তি ধ্বংস করেছে, তাদের বাড়িঘর ও পুরো গ্রামে অগ্নিসংযোগ করেছে, যাতে এই লোকদের কেবল উচ্ছেদই নয়, বরঞ্চ তারা যাতে আর বাড়িঘরে ফিরতে না পারে সেটাও ঠেকানো।’

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী রোহিঙ্গা গ্রামগুলোতে নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে, নিরাপরাধ লোকদের আহত ও হত্যা করেছে এবং তাদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করেছে।’

এতে বলা হয়েছে, ‘প্রায় সব সাক্ষ্যতেই ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, আতংকিত লোকজন যখন পালাচ্ছিল তখন খুব কাছ থেকে তাদের পেছনে গুলি করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, শিশু ও বয়স্কসহ রোহিঙ্গাদের তাদের ঘরের ভেতরে রেখেই পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে।’

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY