সন্তান জন্মদানের কয়েকঘণ্টা আগে করোনার টেস্টিং কিট বানালেন এই নারী

0
21

সারাবিশ্বে করোনা ভাইরাস এক আতঙ্কের নাম। প্রতিনিয়ত মানুষ মারা যাচ্ছেন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে। লাখো মানুষ আক্রান্ত হচ্চেন। এরই মাঝে ভারতীয় এক নারী গবেষক নিজ সন্তান জন্মদানের কয়েক ঘণ্টা আগে টেস্টিং কিট আবিষ্কার করে অবাক করে দিয়েছেন সবাইকে। ডা. মিনাল দাখাবে ভোসলে নামের ওই গবেষককে প্রশংসায় মাতছেন সবাই।

বিবিসির এক খবরে বলা হয়. গত বৃহস্পতিবার করোনা শনাক্তের জন্য একটি সহজলভ্য কিট আবিষ্কার করেছেন মিনাল দাখাভে। ভাইরাস বিশেষজ্ঞ মিনাল নিজের সন্তান জন্মদানের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ওই ‘টেস্টিং কিট’ বানান।
এই কিটটি পুনের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজি থেকে অনুমোদন পেলেই তা খোলাবাজারে দেয়া হবে।
ভারতের বানানো ওই করোনাভাইরাস পরীক্ষার কিট বৃহস্পতিবারই প্রথম বাজারে এসেছে, যা বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ জনসংখ্যার দেশে ফ্লুর লক্ষণ থাকা মানুষজনের দ্রুত পরীক্ষা করে কারা কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত, কারা নয় তা শনাক্তে আশা জোগাচ্ছে।
পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর পুনের মাইল্যাব ডিসকভারিকেই প্রথম এ ‘টেস্টিং কিটগুলো’ বানানো ও বাজারজাতকরণের অনুমতি দেয়া হয়েছে। প্রথম ব্যাচে তারা পুনে, মুম্বাই, দিল্লি, গোয়া ও বেঙ্গালুরুতে দেড়শটির মতো কিট পাঠিয়েছে।
বিবিসিকে মাইল্যাবের চিকিৎসাবিষয়ক পরিচালক ড. গৌতম ওয়াংখেড়ে বলেছেন, ‘আমাদের উৎপাদক অংশটি পুরোদমে কাজ করছে, সোমবারের মধ্যে আমরা পরবর্তী ব্যাচও পাঠাতে পারব।’
এ অনুজীব পরীক্ষাগার কোম্পানি এর আগে এইচআইভি এবং হেপাটাইটিস বি, সি ও অন্যান্য রোগের টেস্টিং কিটও বানিয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তারা এখন প্রতি সপ্তাহে এক লাখ করে কোভিড-১৯ পরীক্ষার কিট বানাতে পারবে, প্রয়োজন পড়লে এই সংখ্যা সপ্তাহে দুই লাখও করা সম্ভব।

মাইল্যাবের রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট প্রধান ভাইরোলজিস্ট মিনাল দাখাভে জানান, ‘আমাদের কিটগুলো দুই থেকে আড়াই ঘণ্টার মধ্যেই ফল জানাবে, যেখানে আমদানি করা কিটে ৬-৭ ঘণ্টা লাগে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটা তৈরি হয়েছে রেকর্ড সময়ে, মাত্র ছয় সপ্তাহের মধ্যে। যেখানে এ ধরনের কিট বানাতে অন্তত তিন থেকে চার মাস সময় লাগে।’

মিনালের নেতৃত্বাধীন দলই ভারতের এই করোনাভাইরাস টেস্টিং কিট উদ্ভাবন করেছে, যেটিকে তারা ‘প্যাথো ডিটেক্ট’ নামে ডাকছেন।
করোনাভাইরাসের পরীক্ষার কিট বানানোর সময় এ ভাইরোলজিস্টকে নিজের ‘ডেডলাইনের’ সঙ্গেও লড়তে হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে তিনি যখন কিট বানাতে কাজ শুরু করেছিলেন, তার মাত্র কয়েক দিন আগেই গর্ভকালীন জটিলতার চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছেড়েছিলেন তিনি। এ নারী গত সপ্তাহেই একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়েছেন।

মিনালের ভাষ্য– জরুরি ছিল। সে কারণেই আমি চ্যালেঞ্জটি নিয়েছিলাম। আমাকে দেশের ডাকে সাড়া দিতে হয়েছে। কিট বানাতে ১০ সদস্যের দল ‘কঠোর পরিশ্রম’ করেছে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY