লাশের মুখ থেঁতলানো, শরীরে লেখা ফোন নম্বর; এরপর…

0
43

গাড়িতে ঘুমের ভান করে শুয়ে থাকতে থাকতেই জেহানা বুঝতে পেরেছিল মৃত্যু নিশ্চিত। আর এরপরই সবার অলক্ষ্যে নিজের শরীরে লিখে রেখেছিলেন দু’টি ফোন নম্বর। আর সেই ফোন নম্বরের সূত্র ধরে চালানো তদন্তে উঠে আসে নৃশংস হত্যার কারণ। ইতোমধ্যে খুনে ব্যবহৃত গাড়ি থেকে শুরু করে দড়ি সবই উদ্ধার করেছে পুলিশ।

গত ৩১ আগস্ট সকালে বর্ধমান শহর থেকে ১৯ কিলোমিটার দূরে নবগ্রামে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ের পাশেধান খেতের মধ্যে এক তরুণীর দেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। অজ্ঞাত পরিচয় লাশ হিসেবেই সেই তরুণীর দেহ চালান হয়ে যায় মর্গে।

নিয়মমাফিক ময়নাতদন্তের সময়ে মর্গের ডোমের চোখে পড়ে, তরুণীর দেহে দু’টি ফোন নম্বর লেখা রয়েছে। সেই ফোন নম্বরের সূত্র ধরেই পূর্ব বর্ধমান জেলার জামালপুর থানার পুলিশ মুম্বইতে হদিশ পায় করণ সিংহ নামে এক যুবকের।

করণকে জিজ্ঞাসা করেই তদন্তকারীরা জানতে পারেন, জেহানার সঙ্গে তার ‘ভালবাসা’র কথা। কিন্তু করণ অন্য ধর্মের হওয়ায় সেই সম্পর্ক মেনে নেয়নি জেহানার পরিবার।

করণের সঙ্গে কথা বলেই তদন্তকারীরা সন্দেহ করেন, জেহানা খুনের সঙ্গে যোগ থাকতে পারে তার বাড়ির লোকজনের।

এরপর পুলিশ জানতে পারে, কয়েকদিন আগেই জেহানাকে কলকাতায় নিয়ে গিয়েছে তার বাবা-দাদা।

সেই সূত্র ধরেই রবিবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে কলকাতায় পার্ক সার্কাস এবং আনন্দপুর এলাকায় হানা দেয় পুলিশ। আটক করা হয় জেহানার বাবা এবং দাদাকে। জেরার মুখে বাবা মুস্তাক স্বীকার করেন যে নিজের মেয়েকে খুন করেছেন তিনি।

পুলিশকে জেহানার বাবা-দাদা জানিয়েছেন, অন্য ধর্মের ছেলের সঙ্গে সম্পর্ক তাদের গ্রামের লোকজনও মেনে নেয়নি। গ্রামের মোড়লরা রীতিমতো একঘরে করে রেখেছিল তাদের।

ঠিক কীভাবে খুন হয়েছিল?

জেহানাকে ঘুমন্ত অবস্থাতেই গাড়ির মধ্যে গলায় দড়ির ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধ করা হয়। তারপর সেই দেহ টেনে নিয়ে যাওয়া হয় ধান খেতে। সেখানে পাথর দিয়ে মাথায় মুখে আঘাত করে থেতলে দেয়া হয় মুখ, যাতে কেউ চিনতেও না পারে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY