যুব সংঘ চ্যাম্পিয়ন, ব্রঙ্কস ইউনাইটেড রানার্স আপ

0
6

এক্সিট কার এন্ড লিমো সার্ভিস এবং অ্যাপোলো ব্রোকারেজ’ ফুটবল লীগ ও টুর্নামেন্টের রানার্স আপ এবং চ্যাম্পিয়ন দলের মাঝে পুরষ্কার বিতরণ করা হয়। এবারে ওজনপার্ক যুবসংঘ চ্যাস্পিয়ন এবং ব্রঙ্কস ইউনাইটেড রানার্স আপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে, ফাইনালে যুব সংঘের সোহেল হ্যাট্রিক করার গৌর অর্জনের পাশপাশি সেরা খেলোয়ার মনোনীত হয়েছেন। ইতিপূর্বে লীগের খেলায় সোনার বাংলা চ্যাম্পিয়ন ও আইসাব রানার্স আপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে। লীগের পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থাকার চার দল নিয়ে টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল ও ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ স্পোর্টস কাউন্সিল অব আমেরিকা আয়োজিত চলতি বছরের ‘এক্সিট কার এন্ড লিমো সার্ভিস এবং অ্যাপোলো ব্রোকারেজ’ ফুটবল টুর্নামেন্টে প্রথমবার ওজনপার্ক যুবসংঘ চ্যাস্পিয়ন এবং ব্রঙ্কস ইউনাইটেড রানার্স আপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। নিউইয়র্ক সিটির এলমহার্স্টস্থ নিউটাউন অ্যাথলেটিক মাঠে (কুইন্স মল সংলগ্ন) গত রোববার অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলায় যুব সংঘ ৫-৪ গোলে ব্রঙ্কস ইউনাইটেড-কে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয়।

এদিন অপরাহ্নে ফুটবল র্টুনামেন্টের ফাইনাল খেলার উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন এবং বিশেষ অতিথি নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল সাদিয়া ফয়জুননেসা। স্পোর্টস কাউন্সিলের সভাপতি মহিউদ্দিন দেওয়ানের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই পর্বে লীগ ও টুর্নামেন্টের প্রধান পৃষ্ঠপোষক শমশের আলী, স্পোর্টস কাউন্সিলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মনজুর আহমেদ চৌধুরী, প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও উপদেষ্টা আব্দুর রহীম বাদশা, উপদেষ্টা ছদরুন নূর, শামসুল আবেদীন, ডা. এনামুল হক, হাজী এনাম, আতাউর রহমান সেলিম, আব্দুর নূর বড় ভুইয়া ও আব্দুল হাসিম হাসনু এবং বাংলাদেশ সোসাইটি ইনক’র আসন্ন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ‘নয়ন-আলী’ প্যানেলের সভাপতি পদপ্রার্থী কাজী আশরাফ হোসেন নয়ন সংক্ষিপ্ত শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। এই পর্ব উপস্থাপনায় ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জুয়েল আহমেদ।

উদ্বোধনী পর্বে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা মুজাহিদুল ইসলাম, মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক এমদাদ চৌধুরী ও টুর্নামেন্টের পৃষ্ঠপোষক আব্দুল কাদের মিয়া,‘নয়ন-আলী’ প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী মোহাম্মদ আলী, কোষাধ্যক্ষ প্রার্থী মোহাম্মদ জে খান, সহ অন্যান্য প্রার্থী সহ কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ এবং স্পোর্টস কাউন্সিলের কর্মকর্তাদের মধ্যে সহ সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ রশিদ রানা, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইকুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ মফিজুর রহমান রুমি, দপ্তর সম্পাদক আব্দুল কাদির লিপু ও প্রচার সম্পাদক তৈয়বুর রহমান টনি, কাজী তোফায়েল ইসলাম, আবু তাহের আসাদ, জহির উদ্দিন জুয়েল, শাহাদাৎ হোসেন, জাকির হোসেন, রফিকুল ইসলাম ডালিম, ইয়াকুত রহমান, মীর জাকির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও পুরষ্কার বিতরনী পর্বে, বাংলাদেশ সোসাইটি ইনক’র নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ‘রব-রুহুল’ প্যানেলের সভাপতি পদপ্রার্থী মোহাম্মদ রব মিয়া, সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী রুহুল আমীন সিদ্দিকী, সহ সভাপতি প্রার্থী আব্দুল খালেক খায়ের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী বাকির আজাদ, কোষাধ্যক্ষ প্রার্থী নওশেদ হোসেন, সোসাইটির জনসংযোগ ও প্রচার সম্পাদক রিজু মোহাম্মদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন বলেন, নিউইয়র্কে বাংলাদেশী ফুটবল লীগকে আরো জনপ্রিয় করতে তিনি কমিউনিটিকে এগিয়ে আসার পাশাপাশি বাংলাদেশ মিশন থেকে সার্র্বিক সহযোগিতা প্রদানের আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, ইতিপূর্বে মিশনের উদ্যোগে ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছিলো। আগামীতে স্পোর্টস কাউন্সিলকে সম্পৃক্ত করে টুর্নামেন্টের অয়োজন করা হবে।
কনসাল জেনারের সাদিয়া ফয়জুননেসা বলেন, বাংলাদেশের মেয়েরা খেলাধুলায় ভালো করছে। নিউইয়র্কের ফুটবল লীগের ঐতিহ্য রয়েছে। এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে হবে। নিউইয়র্কের নারীদের জন্য ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন করার জন্য তিনি স্পোর্টস কাউন্সিলের প্রতি আহ্বান জানান।

খেলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ: উদ্বোধনী পর্ব শেষে প্রথমে কনসাল জেনারেল সাদিয়া ফয়জুননেসা এবং পরে রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন একটি বল কি করে ফাইনাল খেলার উদ্বোধন করেন। খেলা শুরু হয় বিকেল ৫টা ২ মিনিটে। আক্রমন পাল্টা আক্রমের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলায় ওজনপার্ক যুবসংঘ ৫-৩ গোলে ব্রঙ্কস চ্যাস্পিয়ন ইউনাইটেড-কে পরাজিত করে। খেলার প্রথমার্ধ ২-২ গোলে ড্র ছিলো। এই অর্ধে যুব সংঘের পক্ষে সোহেল ২টি এবং ব্রঙ্কসের পক্ষে রাসেল ও সামি একটি করে গোল করেন। খেলার দ্বিতীয়ার্ধে উভয় দল আরো একটি করে গোল করলে এই অর্ধ ৩-৩ গোলে ড্র হয়। এই অর্ধে যুব সংঘের পক্ষে বাবলু এবং ব্রঙ্কসের পক্ষে রাজু একটি করে গোল করেন। পরবর্তীতে ১০ মিনিটের অতিরিক্ত খেলায় যুব সংঘের পক্ষে সোহেল ও বাবলু একটি করে গোল করেন। টুর্নামেন্টের ফাইনালে সোহেল হ্যাট্রিক করার গৌরব অর্জন করেন।
ফাইনাল খেলার প্রথমার্ধের ১৪ মিনিটের সময় বাবলুর থ্রো করা বল চমৎকার কিকে প্রথম গোল করেন সোহেল (১-০)। এর ৩ মিনিট পরেই অর্থাৎ ১৭ মিনিটের সময় সংঘবদ্ধ আক্রমণ থেকে ডি বক্স থেকে চমৎকার হেডে ব্রঙ্কস ইউনাইটেডের রাসেল দলের পক্ষে প্রথম গোল করে খেলায় সমতা ফিরিয়ে আনেন (১-১)। এরপর রাসেল আরো একটি গোল করার সুযোগ নষ্ট করেন। খেলার ২২ মিনিটের ব্রঙ্কস ইউনাইটেডের পক্ষে কাফির বলে চমৎকার শটে সামি গোল করে দলকে এগিয়ে নিয়ে যান (২-১)। খেলার ৩৫ মিনিটের সময় যুব সংঘের সোহের আবার গোল করে খেলায় সমতা ফিরিয়ে আনেন (২-২)। পরবর্তীতে দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরু হয় বিকেল ৫টা ৪৯ মিনিটে। এই অর্ধের ৯ মিনিটের সময় ফ্রি কিক থেকে পাওয়া যুব সংঘের রুহেলের বলে বাবলু গোল করে দলকে এগিয়ে নিয়ে যান (৩-২)। আবারো চলতে থাকে আক্রমণ পাল্টা আক্রমণ। এরপর খেলার ১৯ মিনিটের সময় গোল পোষ্টের সমানের জটলা থেকে ব্রঙ্কস ইউনাইটেডের পক্ষে রাজু গোল করে খেলায় সমতা ফিরিয়ে আনেন (৩-৩) এবং খেলাটি ড্র অবস্থায় শেষ হয়।

পরবর্তীতে অতিরিক্ত ১০ মিনিটের খেলায় ফাইনালের চুড়ান্ত ফলাফল নির্ধারিত হয়। এই সময় খেলার ৬ মিনিটের সময় যুব সংঘের পক্ষে সোহেল গোল করে ফাইনালে নিজের হ্যাট্যিক করার গৌরব অর্জনের পাশাপশি দলে পক্ষে চতুর্থ গোল করেন (৪-৩)। এরপর খেলা শেষ হওয়ার ২ মিনিট আগে যুব সংঘের পক্ষে বাবলু চমৎকার লং শটে আরো একটি গোল করেন (৫-৩)।
খেলা শেষে পুরষ্কার বিতরনী পর্বে প্রধান অতিথি রাষ্ট্রদূত মামুদ বিন মোমেন ছাড়াও অতিথি যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান, প্রধান পৃষ্ঠপোষক শমশের আলী ও সভাপতি মহিউদ্দিন দেওয়ান বক্তব্য রাখেন। যৌথভাবে এই পর্ব পরিচালনা করেন জুয়েল আহমেদ ও আব্দুল বাসিত খান বুলবুল। পরে প্রধান অতিথি ও পৃষ্ঠপোষকগণ পুরষ্কার বিতরণ করেন।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY