মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সু চির প্রার্থী থিন কিয়াও

0
213

ইয়াঙ্গুন, ১১ মার্চ, ২০১৬ (বাসস) : মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দেশটির সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজনৈতিক দল ক্ষমতাসীন ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) দুইজন প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করেছে। তবে তাদের মধ্যে সুচির নাম নেই।
বার্মা হিসেবেও পরিচিত এই দেশটির তৃতীয় একজন প্রার্থীর নাম প্রস্তাব করবে সামরিক বাহিনী।
নানা জল্পনা-কল্পনা শেষে বৃহস্পতিবার অং সান সু চির দল তার নাম ঘোষণা করে। মিয়ানমার সংসদের নিম্নকক্ষে ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি)’র এমপি সান এইচলিয়াং দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হিসেবে সু চির ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং সাবেক গাড়ি চালক উ থিন কিআও’এর নাম ঘোষণা করেন। সু চি এক বিবৃতিতে উ থিনকে সমর্থন দেয়ার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই দেশটির পার্লামেন্ট তাদের নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করবে।
মিয়ানমারের সংবিধান অনুযায়ী মোট তিনজন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হতে পারবেন। এদের মধ্যে পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ থেকে একজন, নিম্নকক্ষ থেকে একজন ও সেনাবাহিনীর জন্য সংরক্ষিত প্রতিনিধিদের মধ্য থেকে একজন।
এরপর নির্বাচিত-সংরক্ষিত সব সদস্যদের ভোটে বিজয়ী ব্যক্তিই হবেন প্রেসিডেন্ট। প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের মধ্যে পরাজিত দুইজন হবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট।
থিন কিয়াও সু চির খুব কাছের মানুষ ও বন্ধু। ফলে এনএলডি নিয়ন্ত্রিত পার্লামেন্টে তিনিই যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন এটি প্রায় নিশ্চিত।
২০০৮ সালে সেনা-প্রণীত সংবিধানের ধারা অনুযায়ী সন্তান বিদেশি নাগরিক হওয়ায় এনএলডি প্রধান সু চি প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হতে পারছেন না।
সু চির প্রয়াত স্বামী যুক্তরাজ্যের নাগরিক ছিলেন, তার সন্তানরাও যুক্তরাজ্যের নাগরিক।
অবশ্য, সু চি এর আগে বলেছিলেন, তার স্থান প্রেসিডেন্টের ‘উপরেই’ হবে।
নিজের মনোনীত প্রার্থী প্রেসিডেন্ট হলে তার মাধ্যমেই সু চি দেশ শাসন করবেন এমন ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছেন। তিনি বলেছেন এনএলডির প্রার্থী প্রেসিডেন্ট হলে তিনি তার (সু চির) নিয়ন্ত্রণেই থাকবেন। প্রেসিডেন্ট সু চির ‘প্রক্সি’ হিসেবে কাজ করবেন।
নভেম্বরে অনুষ্ঠিত মিয়ানমারের সাধারণ নির্বাচনে পার্লামেন্টে ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় এনএলডি। তবে মিয়ানমারের সংবিধান অনুযায়ী, সংসদের একচর্তুথাংশ আসন সেনাবাহিনীর জন্য সংরক্ষিত।
সু চির স্কুল জীবনের বন্ধু এ মানুষটি (ইউ থিন কিয়াও) সু চির খুবই বিশ্বস্ত পরামর্শক। তিনি দলনেত্রী এবং দলের প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল। মিয়ানমারের খ্যাতনামা লেখক ও কবি মিন থু উনের ছেলে থিন কিয়াওয়ের বয়স ৬৯ বছর। সু চি পরিচালিত দাতব্য প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ নির্বাহী তিনি। এ ছাড়া ইউ থিন কিয়াও-এর স্ত্রী এনএলডির এমপি।
১৯৬২ সালে অর্থনীতিতে ইয়াঙ্গুন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক এবং পরবর্তীতে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি লাভ করেন।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY