মঙ্গলগ্রহে রোবটের সেলফি!

0
31

সেলফি তোলা আধুনিক প্রজন্মের ছেলে-মেয়েদের রীতিমতো একটি ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। তবে এখান আর শুধু মানুষ নয়, সেলফি তোলায় পিছিয়ে নেই মঙ্গলের একমাত্র বাসিন্দা ‘কিউরিওসিটি রোভার’। অনুসন্ধানকাজে মার্কিন মহাকাশ সংস্থা ‘নাসা’র পাঠানো গবেষণাযান ‘কিওরিসিটি’ এবার সেলফি তুলে পাঠিয়েছে পৃথিবীর বাসিন্দাদের কাছে।

এর আগে অবশ্য চীনের পাঁচিলের ওপরে সেলফি, আইফেল টাওয়ারে সেলফি কিংবা স্ট্যাচু অফ লিবার্টির সামনে সেলফি দেখেছিল বিশ্ববাসী।

মঙ্গল গ্রহের মার্টিন ল্যান্ডস্কেপের ভেরা রুবিন ব্রিজ এলাকায় ৩৬০ ডিগ্রি কয়েকটি সেলফি নিয়ে নাসার বৈজ্ঞানিকদের কাছে পাঠিয়েছে সে। এর সাথে সংযুক্ত থাকা ‘মার্স হ্যান্ড লেন্স ইমেজার’ (এমএইচএলআই) ক্যামেরা দিয়ে তোলা এসব সেলফি পাঠানো হয়েছে নাসার গবেষণাগারে।

ঠিক সেই মুহূর্তে মঙ্গলের ওই এলাকায় চলছিল ধুলো ঝড়। তাই এই ছবি থেকে মঙ্গলের ধুলোঝড় থেকে অনেক নতুন তথ্য পাওয়া যাবে। যানটি থেকে এক সঙ্গে তিনটি ছবি তোলার সুযোগ থাকলেও বালিয়াড়িতে অবস্থান করা কিউরিওসিটি একসঙ্গে মাত্র একটি ছবি তুলতে সক্ষম হয়েছে।

নাসার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মঙ্গলের মাটি থেকে নতুন কিছু পাথরের নমুনা সংগ্রহ করেছে রোভার। এবার সেই পাথরগুলিকে ভেঙে তার ছবি তুলে সে পাঠাবে পৃথিবীতে। তার থেকেও বেশ কিছু নতুন তথ্য পাওয়া যাবে। ইতোমধ্যেই পাথরের ওপরের অংশের যে ছবি সে পাঠিয়েছে, তার থেকেই বেশ কিছু নতুন তথ্য মিলেছে বলে জানান বিজ্ঞানীরা।

২৬০ কোটি মার্কিন ডলার দিয়ে বানানো এ রোভারটি গত কয়েক মাস ধরে অনুদানের অভাবে কাজ স্থগিত করে রেখেছিল। সম্প্রতি অনুদানের পাবার পর এটি আবার তার কাজ শুরু করে।

মঙ্গলগ্রহের নানা বিষয় নিয়ে মানুষের আগ্রহ মেটাতে ২০১২ সালে লাল গ্রহটিতে পাঠানো হয় কিউরিওসিটি নামে মঙ্গলযানটি। নানা বিষয়ে ক্রমাগত অনুসন্ধান করে চলেছে কিউরিওসিটি। তবে শুধু অনুসন্ধান কাজের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ই নয়, পৃথিবীতে মানুষকে সেসব তথ্য সরবরাহও করছে মঙ্গলযান।

কিউরিওসিটি রোভার হচ্ছে মঙ্গল গ্রহে নাসার প্রেরিত চতুর্থ রোবটযান। মঙ্গল গবেষণার ইতিহাসে এটিই এখন পর্যন্ত নাসার বিজ্ঞানীদের সবচেয়ে বড় সাফল্য। রোবটযানটির ওজন প্রায় এক টন। একটি ছোট গাড়ির আকারের কিউরিওসিটিতে আছে হরেক রকম বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি, ক্যামেরা আর আবহাওয়া কেন্দ্র। রোভার যানটির আছে একটি শক্তিশালী ড্রিলসহ রোবটিক হাত, দূর থেকে পাথর চূর্ণ বিচুর্ণ করতে পারা লেজার, একটি রাসায়নিক গবেষণাগার আর বিকিরণ মাপার ডিটেক্টর।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY