ভারতীয় রুপির দরে রেকর্ড পতন

0
40

তুরস্কের আর্থিক সঙ্কটের কারণে শঙ্কিত বিনিয়োগকারীরা উদীয়মান বাজারের মুদ্রা বিক্রি করে দেওয়ায় গতকাল ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির মান রেকর্ড নিম্নে গিয়ে দাঁড়ায়। মঙ্গলবার এক ডলারের বিপরীতে ৭০ দশমিক শূন্য ৯ রুপি লেনদেন হতে দেখা গেছে। ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরের পর যা একক দিনের হিসাবে রুপির সর্বনিম্ন মান। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ বিষয়ে প্রতিবেদন হয়েছে।

তুরস্কের লিরার দুর্দশা অন্যান্য উদীয়মান বাজারের মুদ্রায় ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। গত সপ্তাহজুড়ে রুপির পাশাপাশি দক্ষিণ আফ্রিকা, আর্জেন্টিনা, মেক্সিকো, ব্রাজিল ও রাশিয়ার মুদ্রার মানও কমে গিয়েছে। তুরস্কের মতো এসব দেশও বিদেশি পুঁজি, বিশেষত ডলারের ওপর বড় মাত্রায় নির্ভরশীল।

চলতি বছর প্রায় ৭ দশমিক ২ শতাংশ মান হারিয়েছে রুপি। উদীয়মান বাজারের মুদ্রাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বাজে পারফরম্যান্সে রয়েছে এটি। এর আগে জুনে ইকোনমিক টাইমসের এক জরিপে বলা হয়েছিল, বৈশ্বিক রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে চলতি বছরের ডিসেম্বর নাগাদ ডলারের বিপরীতে রুপির মান ৭০-এ পৌঁছতে পারে। কিন্তু বর্তমান অবমূল্যায়ন থেকে চলতি বছর শেষে রুপির মান এমনকি ৮০-তে নেমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ফ্যাক্টর এলএলসির সিইও পিটার ব্র্যান্ড বলেন, রুপির দুর্দশা এখনো শেষ হয়নি। ডলারের বিপরীতে রুপির মান ৭১ পার হলে ভারতীয় মুদ্রাটি ৮০-তেও নেমে যেতে পারে। চলতি বছর রুপি ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত মান হারাতে পারে।

এক ডলারের বিপরীতে ৬৩ দশমিক ৬৭ মান নিয়ে বছর শুরু করার পর থেকে রুপির মান নিম্নমুখী রয়েছে। এদিকে গতকাল অপরিশোধিত তেলের দাম ২০ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭২ দশমিক ৮১ ডলারে দাঁড়াতে দেখা গেছে। এক বছর আগের একই সময়ে ব্যারেলপ্রতি অপরিশোধিত তেলের দাম ছিল ৫০ ডলার।

বিশ্লেষকদের মতে, তেলের উচ্চমূল্যের কারণে ভারতীয় মুদ্রা সংকুচিত হয়ে পড়ছে। এতে ব্যবসায়ীদের কাছে আকর্ষণ হারাচ্ছে মুদ্রাটি। অ্যাসোসিয়েশন অব মিউচুয়াল ফান্ডস ইন ইন্ডিয়ার প্রধান নির্বাহী এনএস ভেঙ্কটেশ বলেন, রুপি ডলারের বিপরীতে ৭০-এর বেঞ্চমার্ক পার হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। তবে ভারতীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী উলে­খ করে তিনি রুপির মান ৬৯-এর কাছাকাছি স্থিতিশীল হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন।

ভেঙ্কটেশ বলেন, রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (আরবিআই) রুপির উত্থান-পতনের বিষয়টি দেখছে। ফলে মুদ্রা বিনিময় বাজারের প্রতিক্রিয়া নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই। উল্লেখ্য, রুপির মান বৃদ্ধিতে সহায়তার অংশ হিসেবে চলতি বছর দুই দফা সুদহার বাড়িয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এদিকে রুপির মানের পতনের কারণে ভারতের চলতি হিসাব ঘাটতি সম্প্রসারিত হচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। গত সপ্তাহে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ভারতের চলতি হিসাব ঘাটতি ২ দশমিক ৬ শতাংশ বাড়বে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে।

ডলারের বিপরীতে দুর্বল রুপি আমদানিকে ব্যয়বহুল করে তুলছে। এদিকে জ্বালানি তেলের মতো বেশকিছু পণ্যের আমদানি কমানো সম্ভব নয়।

উল্লেখ্য, আমদানির মাধ্যমে দেশের সিহংভাগ জ্বালানি চাহিদা পূরণ করে ভারত। রুপির অবনমনে তেল আমদানি ব্যয়বহুল হওয়ার অর্থ হলো, পরিবহন ব্যয় বাড়বে। ফলে সবজি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্যান্য দ্রব্যের দামও বাড়তে থাকবে।

এছাড়া দুর্বল রুপির কারণে বিদেশে শিক্ষা ও ভ্রমণও আরো ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে। কম্পিউটার, স্মার্টফোন ও গাড়ির মতো আমদানিকৃত উৎপাদাননির্ভর পণ্যের দামও ঊর্ধ্বমুখী হবে। রুপির মান কমায় আমদানি নির্ভর সব শিল্প ও বাণিজ্য দুর্ভোগের শিকার হবে। অন্যদিকে রুপির অবনমন রপ্তানিকারকদের জন্য লাভজনক। রপ্তানি নির্ভর সব শিল্পই দুর্বল রুপি থেকে লাভবান হবে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY