বিশ্বের ৪০ দেশে ভেঙে পড়ছে বাস্তুসংস্থান

0
12

বিশ্বে এক পঞ্চমাংশ দেশ (৪০টি) বাস্তুসংস্থান বিনষ্টের উচ্চঝুঁকিতে রয়েছে। বনভূমি উজার করে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল নষ্ট করার ফলে এ ঝুঁকি বাড়ছেই। সুইজারল্যান্ডে অবস্থিত বিমা কোম্পানি সুইস রির পর্যবেক্ষণে এ আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে। খরব দ্য গার্ডিয়ান।

প্রতিষ্ঠানটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মানুষের কর্মকাণ্ডে খাদ্য, সুপেয় পানি ও বিশুদ্ধ বাতাস ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এমনকি প্রাকৃতিকভাবে বন্যাপ্রতিরোধ ব্যবস্থাও বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

সুইস রির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাস্তুতন্ত্রের উপর বৈশ্বিক জিডিপির অর্ধেকের বেশি (৩২ ট্রিলিয়ন ডলার) নির্ভর করে। অস্ট্রেলিয়া, ইসরাইল ও দক্ষিণ আফ্রিকা বাস্তুসংস্থান ধ্বংসের বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। এ ঝুঁকিতে ভারত, স্পেন ও বেলজিয়ামের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া বাস্তুসংস্থান ও কৃষি বিধ্বস্তের পথে রয়েছে পাকিস্তান, নাইজেরিয়াও।

প্রতিবেদনে ব্রাজিল ও ইন্দোনেশিয়ায় বিশাল বাস্তুসংস্থান ও তাদের প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর অর্থনৈতিক নির্ভরতার কথা উল্লেখ করে বনভুমি রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।

এদিকে গেল সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ বলেছে, গত এক দশকে বিশ্বে নেতৃত্বদানকারী দেশগুলোকে বাস্তুসংস্থানে ক্ষতি এড়ানোর ন্যূনতম লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। এছাড়া ২০১৯ সালে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছিল যে বৈশ্বিক ‘লাইফ সাপোর্ট’ বাস্তুসংস্থান পদ্ধতির ধ্বংসের ফলে মানুষেরাই বিপদে রয়েছে। এরইমধ্যে ৬০টি রাষ্ট্রের নেতারা এই ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধে অঙ্গীকার করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ডিউক বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক পলিসি, অর্থনীতি ও পরিবেশের অধ্যাপক আলেক্সজান্ডার পাফ বলেছেন, প্রত্যেক সমাজের এ বিষয়ে করার অনেক কিছু আছে। বাস্তুসংস্থানে জ্ঞান আর অবদানই এজন্য যথেষ্ট নয়, আমাদের কৃতকলাপের জন্য জবাবদিহি ও শাস্তির ব্যবস্থায় নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, প্রকৃত সমস্যা নির্ণয়ে অর্ধেক সমাধান থাকে বাকি অর্ধেকটা আমাদের কাজে দেখাতে হবে।

সুইস রি বলছে, উন্নয়নশীল ও উন্নত দেশগুলো বাস্তুসংস্থান নষ্টের মূল ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান গবেষণা কর্মকর্তা জেফারি বন বলেছেন, আমরা এ গবেষণার মাধ্যমে পৃথিবীজুড়ে বাস্তুসংস্থান ও বাস্তুতন্ত্রের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরার চেষ্টা করেছি এবং স্থানজুড়ে এর অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা রয়েছে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY