বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনে কাউকে ছাড় নয়: প্রধানমন্ত্রী

0
7

যখনই বিমানে উঠি, তখনই একটি ঘটনা ঘটে বা একটি নিউজ হয়। এটি কেন হয়, আমি জানি না। এখন সবাই আবার ভিআইপি, ভিভিআইপি এরপর আবার আরও ‘ভি’ লাগবে। যত ‘ভি’ লাগুক, বাংলাদেশে (ইমিগ্রেশনে) এরপর আর কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রোববার (৯ জুন) বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই মন্তব্য করেন। ১২ দিনের সরকারি সফরের বিষয়ে দেশবাসীকে অবহিত করতে সংবাদ সম্মেলনে আসেন প্রধানমন্ত্রী।

ফিনল্যান্ড সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আনতে গত বুধবার রাতে বিমানের ড্রিমলাইনার বোয়িং ৭৮৭ উড়োজাহাজ ঢাকা থেকে কাতারের উদ্দেশে রওনা দেয়। কিন্তু পাসপোর্ট ছাড়াই বিমানটি চালিয়ে কাতারের দোহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিয়ে যান পাইলট ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদ।

বিমানের ক্যাপ্টেনের এমন কাজের বিষয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, হয়তো পাসপোর্ট (নেওয়া) ভুলে যেতে পারে, পাসপোর্ট (নিতে) ভোলা কোনো ব্যাপার না। এখানে ইমিগ্রেশনে যারা ছিল, তাদের তো এই নজরটা থাকতে হবে। তারা কেন সেটি চেক করেনি, দেখেনি? আমরা এখন ইমিগ্রেশনে খুব কড়াকড়ি করতে বলেছি।

তিনি বলেন, প্রত্যেকের পাসপোর্টে সিল মারা আছে কি না, তাদের চেক ভালোভাবে হচ্ছে কি না—এসব বাড়াতে হবে। এরপর ভিআইপি এনক্লেভ আছে যেগুলো, সেখানেও তাদের লাগেজ চেক করার ব্যবস্থা করতে হবে। সেখানে কেউ যেতে গেলে টিকিট করে যেতে হবে। আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব যে কেউ যাওয়ার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিমানবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থা আইকাওয়ার যে সিকিউরিটি লেভেল, তার ৭০ শতাংশ অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি।

শেখ হাসিনা বলেন, আগে বিমানবন্দরে নিরাপত্তা নিয়ে কোনোমতে একটা ব্যবস্থা ছিল। আমরা বারবার ব্যবস্থা নিচ্ছি, চেক করছি, এ জন্য অনেকের পছন্দ হবে না। কারণ আগে যেগুলো করতে পারত, এখন পারছে না। আমরা ঠাট্টা করে তো বলি স্বর্ণপ্রসবিনী বিমান। খালি আমরা গোল্ড পাই, আমাদের রিজার্ভ বাড়ে, খুব ভালো কথা।

তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, (তার জন্য) দরদ একেবারে উথলে ওঠে। সবাই এটা ভুলে যান কীভাবে? একুশ আগস্ট গ্রেনেড হামলার কথা? কীভাবে আমরা বেঁচে গেছি! বাঁচারই তো কথা না, আইভি রহমান মারা গেলেন। এতগুলো মানুষের জীবন তারা নিল ক্ষমতায় থাকতে। একবার না, বারবার– বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে বা বাইরে থাকতে বারবার আমাদের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করেছে!

তিনি বলেন, হত্যাকারী তারপর আবার এতিমের হক আত্মসাৎকারী এবং দশ ট্রাক অস্ত্র চোরাকারবারি– এদের জন্য অনেকেরই মায়াকান্না। তাহলে এ দেশে অপরাধীর বিচার হবে কীভাবে? সেটাই প্রশ্ন। আমরা আলাপ-আলোচনা চালাচ্ছি ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে। তবে এরা এত বেশি টাকাপয়সা বানিয়ে ফেলেছে যে, সেখানে খুব বিলাসবহুল জীবনযাপন করছে। আর যখনই যাই তখনই একটা সমস্যা সৃষ্টি করার চেষ্টা করে। আজ হোক, কাল হোক, এক সময় শাস্তি কার্যকর হবেই।

এবার ঈদ জামাতের সময় জঙ্গি হামলার হুমকি ছিল জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঈদের জামাতের সময় তিনি সত্যিই খুব চিন্তিত ছিলেন। তবে গোয়েন্দা সংস্থা ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর আন্তরিক চেষ্টায় কোনো অঘটন ছাড়াই সুষ্ঠুভাবে ঈদ সম্পন্ন হয়েছে।

তিনি বলেন, গুলশানের হলি আর্টিসানে ২০১৬ সালের জঙ্গি হামলার পর থেকেই গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ও পুলিশ কড়া নজরদারি শুরু করে। কোথাও কোনো ধরনের তথ্য পেলেই সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এরপরও নানা নামে, নানাভাবে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে নানা ধরনের থ্রেট কিন্তু দিতেই থাকে। সারাক্ষণ এগুলো আসছে। সবটা বলে মানুষকে ভীত করতে চাই না। এগুলোর পেছনে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তদন্ত করে এবং তাদের বিরুদ্ধে যা যা ব্যবস্থা নেওয়ার তা নেওয়া হয়ে থাকে।

ধর্মের নামে বিভ্রান্ত করে উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানদের জঙ্গিবাদে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কে ভালো মুসলিম, কে না; কে সঠিক, কে সঠিক না; কে ভালো কাজ করছে, কে করছে না– সেটা বিচার করার দায়িত্ব আল্লাহ আমাদের দেননি। কেন মানুষ আল্লাহর ক্ষমতা কেড়ে নেবে? শেষ বিচার তো তিনি করবেন। মানুষ মারলেই একেবারে বেহেশতে চলে যাবে, এটা তো কোনোদিন হয় না। আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এত নিউজ দেয়, এত আইটেম দেয়, এমন তো কেউ দেয় না যে, মানুষ খুন করে বেহেশতে গিয়েছে। আর বেহেশতে গিয়ে তারা তো একটা মেসেজও দিতে পারেনি। তারা যদি মেসেজ পাঠাত, তখন না হয় বুঝতাম।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাপান সফর যেমন সফল হয়েছে, তেমনি চীনেও হবে। এরই মধ্যে তার দাওয়াত ছিল। কিন্তু সে সময় জাতীয় সংসদের জরুরি কিছু বিষয় থাকায় যাওয়া সম্ভব হয়নি। আগামী জুলাই মাসে আবারও দাওয়াত দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট। ৩০ জুন বাজেট পাস হওয়ার পর সেখানে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সামার সামিট হবে। তারিখটা ঠিক হলে সেখানে যাবেন তিনি।

জঙ্গিবাদের ভয়াবহতার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‌‘বেহেশতে যাওয়ার আগ্রহে এখন অনেক তরুণ বিভিন্ন উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। এটি অত্যন্ত ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। মনেহয় মানুষকে মারতে পারলেই বেহেশতের দিকে দু কদম এগিয়ে যাচ্ছে। যারা এভাবে মারা গিয়েছে তারা কি কেউ বেহেশত থেকে এমন ম্যাসেজ পাঠাতে পেরেছে যে আমরা খুব আরামে আছি?’

মুসলিম দেশগুলোতে সহিংসতা, রক্তপাতের অবসানে ওআইসিকে আরও উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, মুসলমানদের নিজেদের এমন সংঘাতে জড়িয়ে কাদের লাভ হচ্ছে? এর ফলে লাভবান হচ্ছে কেবল অস্ত্র ব্যবসায়ীরা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই যে আমরা আত্মঘাতী সংঘাত করে যাচ্ছি, একে অপরকে খুন করছি, রণক্ষেত্র হচ্ছে সমস্ত মুসলিম কান্ট্রি। প্রতিটা মুসলিম কান্ট্রির মধ্যেই খুনোখুনি হচ্ছে। লাভবান কে হচ্ছে? যারা অস্ত্র সরবরাহ করছে তারা, যারা অস্ত্র তৈরি করছে, বিক্রি করছে তারাই লাভবান হচ্ছে। আর মুসলমান মুসলমানের রক্ত নিচ্ছে।

জঙ্গিবাদের সঙ্গে শুধু মাদ্রাসা ছাত্ররা জড়িত নয় জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এক সময় ধারণা করা হতো শুধু কওমি মাদ্রাসার ছেলেরাই এসব কাজের সঙ্গে জড়িত। কিন্তু এখন কী দেখা যাচ্ছে? ইংলিশ মিডিয়ামসহ বিত্তশালী ছেলেরাও জঙ্গিবাদি কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়ে যাচ্ছে। কাজেই এগুলোর বিষয়ে আমাদের সচেতন হতে হবে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY