পৃথিবীর কাছেই অফুরন্ত পানির ভাণ্ডার!

0
50

‘প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে’। তবু অমরত্বের পেছনে ছুটছে মানুষ। অমরত্বের প্রত্যাশায় মানুষ ব্যর্থ হলেও প্রাণী বিজ্ঞানীরা বিস্ময়কর এক তথ্য দিয়েছেন।

সম্প্রতি এক গবেষণায় প্রাণী বিজ্ঞানীরা বলছেন, পুরোপুরি না পারলেও প্রায় অমরত্ব লাভ করেছে ছোট্ট এক সামুদ্রিক প্রাণী।

এ প্রাণীটির নাম ব্যাকওয়ার্ড এজিং জেলিফিশ। প্রাণীবিদরা একে টারিটোপসিস ডোরনি (Turritopsis dohrnii) বলে ডাকেন। তবে এখন জেলিফিশের এই ক্ষুদ্র প্রজাতিকে অমর জেলিফিশ বলছেন বিজ্ঞানীরা। ভূমধ্যসাগর ও জাপানের সমুদ্রে দেখা যায় টারিটোপসিস ডোরনি নামের জেলিফিশ। জাপানের কিয়োতো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা খোঁজ করেছেন এ জেলিফিশের অমরত্বের রহস্য।

তারা বলেন, কখনই বার্ধক্য আসে না ব্যাকওয়ার্ড এজিং জেলিফিশের। বয়সের ভারে এদের মৃত্যু হয় না। বয়সকে লুকিয়ে ফের যৌবনে ফিরে যাওয়ার অদ্ভুত ক্ষমতা রয়েছে এ প্রাণীটির। বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের এক দল গবেষক।

তারা এই জেলিফিশদের জীবনচক্রের ওপর নজর রেখে দেখেছেন, কখনও এসব জেলিফিশের দেহের কোনো অংশে আঘাত লাগলে বা অসুস্থ হয়ে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে এরা ‘পলিপ দশা’ তে চলে যায়। পলিপের আকারে দেহের চারপাশে মিউকাস মেমব্রেন তৈরি করে তারা।

এর পর ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সেরে উঠলেই পলিপ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসে তারা। তখন বিজ্ঞানীরা এটি দেখে অবাক হন যে, পলিপ অবস্থা থেকে বের হয়ে আসা জেলিফিশগুলোর দেহের প্রায় সব কোষই নতুন ও সজীব।

আর এভাবেই নিজেদের বয়স কমিয়ে যৌবনে চলে আসে তারা। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, এসব জেলিফিশ তিন দিন পলিপ অবস্থায় থেকে শরীরের সব কোষ রূপান্তর করে ফেলে।

তবে এ নিয়ে বিজ্ঞানীরা বলছেন, বার্ধক্যে উপণিত হলে জেলিফিশরা বার্ধক্যের উল্টো দিকে ধাবিত হয়ে অমর হয়ে থাকলেও যে কোনো দুঘর্টনায় যেমন- বড় মাছ এদের খেয়ে ফেললে বা হঠাৎ বড় কোনো রোগে আক্রান্ত হলে অবশ্যই এরা মারা যায়। কিন্তু বয়স বেড়ে যাওয়ার কারণে মৃত্যু এদের হয় না।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY