নির্বাচন: কোনদিকে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি

0
9

করোনাকালে যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি হয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে ততো বেহাল দশা ঘটছে বলে খবরে প্রকাশিত হয়েছে। দিনে দিনে বেড়েই চলেছে গোলাগুলি, হত্যা, চুরি-ছিনতাই।

এমতাবস্থায় উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা কাজ করছে দেশবাসীর মধ্যে। নির্বাচন সামনে রেখে এই অবস্থা আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন ঘিরে সারা দেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠার পর পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।

ব্লাক লাইভ ম্যাটার আন্দোলনের সুযোগে এক শ্রেণির অপরাধী লুটপাট ও জ্বালাও-পোড়াও করেছে। সন্ত্রাস ও অস্থিরতায় মানুষের মধ্যে ভয়ভীতি কাজ করেছে। এ অবস্থায়ও রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেট দুই দল একে অপরকে দোষারোপ করছে।

ডাউনটাউন ম্যানহাটন বাংলাদেশ বিজনেস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. রিয়াজুল কাদির লস্কর (মিঠু) বলেন, ‘শহরের কেন্দ্রে ব্যবসা পরিচালনা করি। অনেক রাত পর্যন্ত প্রতিষ্ঠান খোলা থাকে। ক্রেতা সেজে জিনিস কিনে টাকা না দিয়ে দৌড় দেয়ার ঘটনা ঘটছে মাসে দু’একবার।’

‘পুলিশকে জানালে আগের মতো দ্রুত কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। আমি মনে করি ড্যামোক্রেট মেয়র এবং গভর্নর আইন করে পুলিশের ক্ষমতা খর্ব করেছেন। পরিকল্পিতভাবে অপরাধীদেরকে সুযোগ করে দিচ্ছে বলে আমি মনে করি।’

নিউইয়র্ক সিটি মেয়র বিল দা ব্লাজিও জনগণকে সতর্ক করে বলেন, ‘কেউ যদি সহিংসতা করার চেষ্টা করে, তাহলে আমরা সেই সহিংসতা অবশ্যই থামাব।’ এমন পরিস্থিতিতে পুলিশ অফিসাররা হয়তো প্রতিবাদ সমাবেশস্থলে যেতে চাইবেন না। ‘শান্তিপূর্ণ সমাবেশকে সব সময়ই নিউইয়র্কে স্বাগত জানানো হয়। আর এনওয়াইপিডি একটি অত্যন্ত বিশ্বের মধ্যে উঁচুমানের পেশাদারি পুলিশ ফোর্স।’

সাংস্কৃতিকর্মী শিবলী ছাদিক বলেন, ‘এ কথা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই নিউইয়র্কে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির যথেষ্ট অবনতি হয়েছে। সরকারকে বুঝতে হবে এ পরিস্থিতি কেন তৈরি হলো। এর পেছনে রয়েছে বৈষম্য এবং বর্ণবাদের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ। কেবল নিউইয়র্ক নয়, গোটা দেশে তৈরি হওয়া বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন যত্ন নিয়ে সামাল না দিয়ে জোরপূর্বক তা দমন করতে চেয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যা হিতে বিপরীত হয়েছে।’

নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের (এনইয়াইপিডি) পক্ষ থেকেও নির্বাচন-পরবর্তী শান্তি-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিষয়ে ব্রিফিং করা হচ্ছে। বোঝাই যাচ্ছে, গোটা পরিস্থিতি নিয়ে ভালোই উদ্বেগে রয়েছে। আর এই উদ্বেগ কেবল নিউইয়র্ক নয়, গোটা দেশে।

নিউইয়র্ক পোস্টের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি যাই হোক, মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও ভয় রয়েছে। নির্বাচনের পর নতুন প্রেসিডেন্টের জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ হবে এই ভয় দূর করে দেশকে ঐক্যবদ্ধ করা।’ সেই সঙ্গে যে কোনো মূল্যে দেশজুড়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নও একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

আগামী ২৪ অক্টোবর থেকে নিউইয়র্কে শুরু হচ্ছে আগাম ভোট নেয়া। চলবে ১ নভেম্বর পর্যন্ত। বিভিন্ন স্টেটে এরই মধ্যে আগাম ভোট শুরু হয়েছে। এরপর দেশজুড়ে ভোট হবে আগামী ৩ নভেম্বর। অনেক মানুষ এবার আগাম ভোট দিয়েছেন। ডাকযোগে কিংবা ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তাদের ভোট দিতে দেখা যাচ্ছে। এরই মধ্যে আগাম ভোটের সংখ্যা তিন কোটি ছাড়িয়ে গেছে। ২০১৬ সালের নির্বাচনের তুলনায় এই ভোট পাঁচ গুণ।

উল্লেখ্য, মিনেসোটার মিনিয়াপোলিসে জর্জ ফ্লয়েড নামে ৪৬ বছরের এক কৃষ্ণাঙ্গকে গ্রেফতার করার সময় নিষ্ঠুরভাবে একজন শ্বেতাঙ্গ পুলিশ অফিসার হাঁটু দিয়ে তার গলা চেপে ধরে রেখেছিলেন। গত ২৫ মে পুলিশ হেফাজতে জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যু গোটা দেশ কেঁপে ওঠে। ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। সেই থেকে সারা দেশে অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY