তাবরেজ হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ প্রত্যাহার

0
8

গণপিটুনিতে নিহত মুসলিম যুবক তাবরেজ আনসারিকে হত্যার অপরাধে গ্রেফতার করা ১১ জনের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ বাতিল করেছে ভারতের ঝাড়খণ্ড পুলিশ।

গণপিটুনিতে নিহত তাবরেজ আনসারির হত্যার অপরাধে গ্রেফতার করা হয় ১১ জনকে। কিন্তু, আটককৃতদের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ বাতিল করেছে দেশটির ঝাড়খণ্ডের পুলিশ।

জানা গেছে, ঝাড়খণ্ডের সরাইকেলা খারসওয়ান চার মাস আগে চোর সন্দেহে গণপিটুনির ঘটনা ঘটে। তাতেই গুরুতর জখম হন ২২ বছরের মুসলিম যুবক তাবরেজ। তাকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর চারদিন পর মৃত্যু হয় তাবরেজ আনসারির।

চূড়ান্ত ময়না তদন্তের রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে তাবরেজ “কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট” এর কারণে মারা গিয়েছিল এবং এটি কোনও পূর্ব পরিকল্পিত হত্যার মামলা নয়। গতমাসেই ৩০৪ ধারায় পুলিশ চার্জশিট ফাইল করে। যেখানে বলা হয়, এই ঘটনা হত্যার সমতুল নয়।

এর আগে নিহত আনসারির স্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে ১১ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ এনেছিল পুলিশ।

সরাইকেলা খারসওয়ানের পুলিশ সুপার কার্তিক এস গণমাধ্যমকে জানান, ‘প্রথমত, ঘটনাস্থলেই আনসারির মৃত্যু হয়নি ও তাকে মারার কোনও উদ্দেশ্য স্থানীয়দের ছিল না। দ্বিতীয়ত, মেডিক্যাল রিপোর্টেও খুনের যথার্থ প্রমাণ মেলেনি। এছাড়া, চূড়ান্ত ময়না তদন্তে বলা হয়েছে যে, কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট ও মাথায রক্তক্ষরণের জেরে মৃত্যু হয়েছে তাবরেজ আনসারির।’

ঘটনার সূত্রপাত হয় ১৮ জুন, যেদিন ঝাড়খণ্ডের ধাতকিডি গ্রামের কিছু বাসিন্দা একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে মারেন আনসারিকে, এবং তাঁকে ‘জয় শ্রীরাম’ ও ‘জয় হনুমান’ বলতে বাধ্য করা হয় বলে খবরে প্রকাশ। এই ঘটনার পর আনসারিকে চুরির দায়ে গ্রেফতার করে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়, কিন্তু গণপিটুনিতে পাওয়া আঘাতের কারণে চারদিন পর হাসপাতালে মৃত্যু হয় তাঁর।

২৩ জুন ধাতকিডি গ্রামের ১১ জন বাসিন্দাকে গ্রেফতার করে পুলিশ, এবং বরখাস্ত হন দুজন পুলিশকর্মী। গ্রামবাসী এবং গ্রেফতার হওয়া ১১ জনের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানতে পারে, অভিযুক্তদের মধ্যে মাত্র পাঁচজন ক্লাস টেনের গণ্ডি পেরিয়েছেন, এবং অধিকাংশই হয় দিনমজুর বা বেকারত্ব ঘোচাতে চাকরির সন্ধানে করছেন। এরপরই পুলিশ, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে খুন, ধর্মীয় কারণে ইচ্ছাকৃত প্রহারের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY