জীবনের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়লেন সালাহ!

0
7

যেসব দেশে যুদ্ধ চলছে তাদের চেয়ে মোটেই ভালো অবস্থা নয় ফিলিস্তিনের। নিজের দেশের ভিতর তারাই যেন যাযাবর। প্রতিনিয়ত পাখির মতো ফিলিস্তিনিদের গুলি করে মারছে দখলদার ইসরায়েল। তাদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না নারী, শিশু এমনকি প্রতিবন্ধীরাও।

সোমবার গাজায় নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিদের ওপর গুলিবর্ষণ করে অন্তত ৫৫ জনকে হত্যা করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। তাদের মধ্যে রয়েছেন ২৯ বছর বয়সী ফাদি আবু সালাহও। ২০০৮ সালে গাজায় ইসরায়েলের বিমান হামলায় দুই পা হারিয়েছিলেন তিনি। তবে সেবার ইসরায়েলি বাহিনীর হাত থেকে প্রাণে বেঁচে গেলেও এবার আর বাঁচতে পারেননি।

গত বছর জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে অস্বীকৃতি জানিয়ে বিক্ষোভে ইব্রাহিম আবু সুরিয়া নামের এক পঙ্গু ফিলিস্তিনি নিহত হবার পর এবার স্বাধীনতার জন্য জীবন দিলেন আরেক পঙ্গু ফিলিস্তিনি।

সোমবার জড়ো হওয়া প্রায় ৫০ হাজার ফিলিস্তিনিদের বিক্ষোভে সকাল থেকেই হুইল চেয়ারে করে নেমে পড়েন সালাহ। একটা পর্যায়ে শান্তিপূর্ণ এ বিক্ষোভে ইসরাইলি সেনারা নির্বিচারে গুলি চালালে তিনিও প্রতিরোধ করা শুরু করেন। দুপুরের পরেই ইসরাইলি সেনাদের গুলিতে নিহত হন এ লড়াকু ফিলিস্তিনি। সংবাদ: রয়টার্স, আলজাজিরা।

২৯ বছর বয়সী আবু সালাহ ফিলিস্তিনি তরুণদের প্রতি সবসময় আহবান করতেন, “প্রতিমুহূর্তে আমাদের প্রতিরোধ অব্যহত রাখতে হবে।”

ইসরাইলি সেনার গুলির জবাবে গুলতি নিয়ে তার পাথর নিক্ষেপের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে আবু সালাহর এ লড়াইয়ের কাহিনি। পরবর্তীতে নিহতের ছবিও আলোচনায় ওঠে আসে একইভাবে।

রয়টার্স সূত্রে জানা যায়, দখলকৃত পশ্চিম তীরের জেনিন শহরের কাছেই আরাবাহ নামক গ্রামের বাসিন্দা হচ্ছেন আবু সালাহ।

২০০৮ সালে গাজায় তিন সপ্তাহ ব্যাপী ইসরাইলি সেনা ও হামাসের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক যুদ্ধে প্রাণ হারায় বিপুল সংখ্যক ফিলিস্তিনি। পরবর্তীতে ছয় মাস ধরে চলা এক ইসরাইলে আগ্রাসানে এক হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি শহিদ হন। সে সময় ইসরাইলি সেনাদের গুলিতে পা হারান ফাদি আবু সালেহ।

কিশোরকাল থেকেই আবু সালাহ ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লড়তে ঘরে বসে থাকেননি কখনো। একটা সময় ইসরাইলের কারাগারেও ঠাঁই হয়েছিল তার। পরবর্তীতে মুক্ত হয়ে মাতৃভূমিকে ইহুদি শক্তির হাত থেকে উদ্ধার করতে আবারও নেমে পড়েন প্রতিবাদী ভূমিকায়। একটা সময় ইসরাইলি সেনাদের গুলিতে পা হারিয়ে পঙ্গুত্বকেই বরণ করেছিলেন তিনি।

এ তরুণ একটা সময়ে ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি ছিলেন বেশ কয়েক বছর। পরবর্তীতে এক মার্কিন সমঝোতায় ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের প্রচেষ্টায় ইসরাইলি কারাগার থেকে মুক্তি পান আবু সালাহ। তার সাথে আরও ৮৯ জন ফিলিস্তিনি বেরিয়ে আসে দখলদারদের কারাগার থেকে।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদে দেখা যাচ্ছে, এ বছরেরও কয়েকমাস ধরে চলমান বিক্ষোভে স্ত্রী-সন্তান ও পরিবার নিয়ে অংশগ্রহণ করেন তিনি। পশ্চিম তীর থেকে এসে গাজাতেই আশ্রয় নেন তাঁবু গেড়ে। চার শিশু সন্তানকে নিয়ে সেখানেই অস্থায়ীভাবে সংসার গাড়েন তিনি।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY