করোনার ভ্যাকসিনের জন্য ১শ কোটি ডলার বিনিয়োগ যুক্তরাষ্ট্রের

0
13

যৌথভাবে করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) ভ্যাকসিন আবিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছে ব্রিটিশ-সুইডিশ ওষুধ কোম্পানি অ্যাস্ট্রাজেনেকা ও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়। ভ্যাকসিন উন্নয়নে অ্যাস্ট্রাজেনেকাকে ১ বিলিয়ন (১০০ কোটি) মার্কিন ডলারের বেশি অর্থায়ন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য বিভাগের বায়োমেডিকেল অ্যাভভান্সড রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (বারডা)।

আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে অন্তত ৪০০ মিলিয়ন বা চার কোটি ডোজ ভ্যাকসিন সরবরাহের ঘোষণা দিয়েছে অ্যাস্ট্রাজেনেকা। এই সময়ে অন্তত ১০০ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন উৎপাদনের সক্ষমতা নিশ্চিত করতে চায় ব্রিটিশ-সুইডিশ এই ওষুধ কোম্পানিটি।

মোট তিনটি ক্লিনিক্যাল ধাপে পরীক্ষামূলক প্রয়োগে ভ্যাকসিন উন্নয়নের কাজ করছে অ্যাস্ট্রাজেনেকা। এসব ধাপে ৩০ হাজার স্বেচ্ছাসেবী ও এক শিশুর শরীরে পরীক্ষামূলক প্রয়োগের বিষয়টিও রয়েছে।

অ্যাস্ট্রাজেনেকার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) প্যাসকাল সরিয়ট বলেছেন, যতদ্রুত সম্ভব করোনার ভ্যাকসিন তৈরি ও এই ভ্যাকসিন যাতে সর্বত্র পাওয়া যায়, সেজন্য সব ধরনের চেষ্টা করে যাবে অ্যাস্ট্রাজেনেকা।

যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির তথ্যমতে, বিশ্বে এ পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন অর্ধকোটিরও বেশি। মারা গেছেন ৩ লাখ ২৮ হাজার ২২৭ জন।

করোনার ভ্যাকসিন উৎপাদনে গত এপ্রিলে অ্যাস্ট্রাজেনেকাকে পার্টনার হিসেবে নাম ঘোষণা করে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়। বর্তমানে ভ্যাকসিন উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করছে যুক্তরাজ্যের জেনার ইনস্টিটিউট ও অক্সফোর্ড ভ্যাকসিন গ্রুপ।

গত মাসে দক্ষিণ ইংল্যান্ডের এক হাজারের বেশি স্বেচ্ছাসেবীর শরীরে পরীক্ষামূলকভাবে এই ভ্যাকসিনের প্রয়োগ ঘটায় অ্যাস্ট্রাজেনেকা। পরে সর্বশেষ ঘোষণায় ওষুধ কোম্পানিটি জানায়, এই পরীক্ষায় ফলাফল ইতিবাচক পাওয়া গেলে পরবর্তীতে আরও একাধিক দেশে এর পরীক্ষামূলক প্রয়োগ চলবে। তবে ওই পরীক্ষামূলক প্রয়োগের ফলাফল এখনও প্রকাশ করেনি অ্যাস্ট্রাজেনেকা। তবে কোম্পানি বলেছে, সম্ভবত না-ও কাজ করতে পারে এই ভ্যাকসিন।

এদিকে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন উন্নয়নে গত রোববার ৬৫ দশমিক ৫ মিলিয়ন পাউন্ডের (৭৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) অর্থায়নের ঘোষণা দিয়েছে ব্রিটিশ সরকার। সেপ্টেম্বরের শুরুতে ৩০ মিলিয়ন ডোজ ভ্যাকসিন উৎপাদন ও বিশ্ব বাজারে ছাড়ার আশা করছে দেশটি।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ কোম্পানি মডারনা জানিয়েছেন, তারা তাদের সম্ভাব্য ভ্যাকসিন একজনের শরীরে পরীক্ষামূলক প্রয়োগে ইতিবাচক ফলাফল পেয়েছেন। তাদের এই ভ্যাকসিন উন্নয়নে সহায়তা করছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার।

এর আগে মে’র শুরুতে ভ্যাকসিনের প্রথম পরীক্ষামূলক প্রয়োগের বিষয়টি জানায় মডারনা। এ সময় তারা আশা করেছিলেন, জুলাইয়ের মধ্যে সম্ভ্যাব্য ভ্যাকসিনের পরীক্ষামূলক প্রয়োগের তিনটি ধাপ শেষ করতে সক্ষম হবেন তারা। এসব পরীক্ষায় এই ভ্যাকসিন নিরাপদ প্রমাণিত হলে ২০২১ সালের শুরুতে বাজারজাতকরণের জন্য প্রস্তুত থাকবেন তারা।

এদিকে অ্যাস্ট্রাজেনেকা, মডারনার পাশাপাশি ভ্যাকসিন উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করছে ফ্রান্সের ওষুধ কোম্পানি সানোফি ও যুক্তরাজ্যের ওষুধ কোম্পানি গ্লাক্সোস্মিথক্লাইন।

বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ৯০টিরও বেশি ভ্যাকসিন উন্নয়নের কাজ চলছে। এর মধ্যে আটটি ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলছে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY