আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটি কোলন ক্যান্সার স্ক্রিনিং করতে হবে ৪৫ বছরে

0
82

আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটি স¤প্রতি সময়ে যুবকদের মধ্যে কোলন ক্যান্সার বেড়ে যাওয়ার প্রবনতা দেখে স্ক্রিনিং করার বয়স ৫০ থেকে কমিয়ে ৪৫ করে দিয়েছেন।
সংস্থাটি তাদের গাইডলাইন পরিবর্তন করার সময় বলেছে যে , গভীর পর্যালোচনায় দেখা গেছে যে কোলন ক্যান্সার স্ক্রিনিং করার বয়স যদি ৫০ থেকে ৪৫ বছরে নামিয়ে আনা যায় তাহলে অনেক জীবন বেঁচে যাবে। তাদের এই গাইড লাইন পরিবর্তনে যে সুপারিশ করা হয়েছে
তা প্রায় সকল আমেরিকানদের জন্যই প্রযোজ্য হবে।
গউ ধহফবৎংড়হ ক্যান্সার সেন্টারের ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ প্রফেসর জর্জ চেং এই এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ” বর্তমানে আমরা প্রচুর অল্প বয়সী তরুণদেরকে কোলন ক্যান্সারে ভুগতে দেখি” , কেন এত বেশী লোক কোলন ক্যান্সারে ভুগছে তা মিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন!
তবে মোটা হয়ে যাওয়া, ব্যায়াম না করা এবং প্রসেস করা খাবার খাওয়া অন্যতম কারণ।
গত দুই দশকে ৫৪ ঊর্ধ্ব লোকদের মধ্যে কোলন ক্যান্সার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে যা প্রধানত সম্ভব হয়েছে বয়স্কদের মধ্যে কোলন ক্যান্সার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে স্ক্রিনিং অনেক বেড়ে যাওতে।।
অনেকেই স্ক্রিনিং করে ম্যালিগন্যান্ট হয়ে যেতে পারে এমন পলিপ সরিয়ে দিচ্ছেন। ফলে অনেক লোকই ভবিষ্যৎ কোলন ক্যান্সার থেকে বেঁচে যাচ্ছে।
কিন্তু ১৯৯৪ থেকে মেডিকেল ডাটা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে ৫০ থেকে কম বয়সীদের মধ্যে কোলন ক্যান্সারের হার প্রায় ৫০ ভাগ বেড়ে গেছে যা কিনা মৃত্যুর হার ও সমানুপাতিকহারে বেড়েই চলছে।
সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে যে যারা ৯০ এর দশকে জন্মেছে তারা ৫০এর দশকের চেয়ে প্রায় দুই গুণ বেশী ঝুঁকিতে আছে । বয়স বাড়ার সাথে সাথে এই যুবক শ্রেণী আরো বেশী ঝুঁকিতে আছে। তাই সবাইকে ৪৫ বছরের আগেই কোলন ক্যান্সারের স্ক্রিনিং করা উচিত।
আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটি যখন এই গবেষণা শুরু করেন তখন তারা নির্দিষ্ট জাতিগোষ্ঠী, বিশেষ করে আফ্রিকান আমেরিকান্দের মধ্যে সীমিত রাখতে চেয়েছিলেন। পরে গবেষণায় দেখা যায় যে কোলন ক্যান্সার অল্প বয়সীদের মধ্যে সকল জাতি গোষ্ঠীতেই একই হারে
বেড়ে চলছে । তাই প্রধান ক্যান্সার নিয়ন্ত্রনকারী কর্মকর্তা রিচারড ওয়েন্ডার সবার জন্য কোলন ক্যান্সার স্ক্রিনিং এর সময় ৫ বছর এগিয়ে দেন ।
অনেক বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে এখন অনেক প্রাইমারি কেয়ার ডাক্তাররা কোলন ক্যান্সার স্ক্রিনিং এর এই নতুন বয়সসিমার সুপারিশ মেনে স্ক্রিনিং এর জন্য সুপারিশ করবেন। সবাই যে এই সুপারিশ মেনে নেবেন তাও নয়। ইউএস প্রিভেন্টিভ টাস্কফোর্স বলতে চাই যে
বয়সসীমা কমিয়ে খুবই অল্পই লাভবান হওয়া যাবে ।
কিন্তু আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটি তাদের গবেষণার ব্যাপক উপাত্ত দিয়ে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়ছে যে আগাম স্ক্রিনিং সত্যি অনেক জীবন বাঁচাতে সাহায্য করে। ৫০ বছরের কাছাকাছি যাদের পারিবারিকভাবে কোলন ক্যান্সারের ইতিহাস আছে তাদেরকে ইতিমধ্যে
স্ক্রিনিং করিয়ে ফেলতে বলা হচ্ছে।
কোলন ও রেক্টাল ক্যান্সার হচ্ছে আমেরিকায় ধরা পরা রোগগুলোর মধ্যে ৪র্থ। আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটির মতে এই ২০১৮ সালে ৯৭০০০ হাজারের ও বেশী রোগীর কোলন ক্যান্সার ধরা পরবে এবং ৪৩ হাজারের রেক্টাল ক্যান্সার ধরা পড়বে। এই রোগে প্রায় ৫০ হাজার
লোক মারা যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।
কোলনটি বৃহৎ অন্ত্র হিসেবেও পরিচিত; মলদ্বার অন্ত্রের অংশ যা কোলন থেকে মলদ্বার পর্যন্ত চলে যায়। কোলনটেকাল ক্যান্সার মানব পাম্পলোমাইরাস (এইচপিভি) সাথে সংযুক্ত করা হয় না, যা গর্ভবতী ক্যান্সার হতে পারে, সেইসাথে সার্ভিকাল, গলা, পেনিলেস এবং অন্যান্য
ধরনের ক্যান্সার। একটি ভ্যাকসিন এইচপিভি সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে পারে।
কোলরেটাকাল ক্যান্সারের জন্য, আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটি অন্য একটি স্ক্রিনিং বিকল্পটি দেয় না কিন্তু কয়েকটি বিকল্প তালিকাভুক্ত করেছে: উচ্চ সংবেদনশীলতা স্টল পরীক্ষা, যা ডেঙ্গুতে রক্ত শনাক্ত করার জন্য ডিজাইন করে, যা প্রতি বছর পরিচালিত হওয়ার
প্রয়োজন; একটি ডিএনএ স্টল পরীক্ষা, ব্র্যান্ড নাম ঈড়ষড়মঁধৎফ অধীনে বিক্রি, প্রতি তিন বছর; একটি কোলনস্কোপি, প্রতি ১০ বছর; বা ভার্চুয়াল কলোনস্কোপি বা নমনীয় সিগমায়েডস্কোপি, প্রতি পাঁচ বছর। কোলনস্কোপি স্ক্রিনিং পদ্ধতিতে ক্যান্সারের লক্ষণের জন্য
প্যারাসিটামল পরীক্ষা করে এমন রোগীদের দ্রæতই একটি কোলনস্কোপি অনুসরণ করতে হবে, গ্রæপটি বলেছে।
৫০ থেকে ৫৪ বছর বয়সীদের মধ্যে কোলন ও রেক্টাল ক্যান্সার এখন ও কম বয়সীদের তুলনায় অনেক বেশী , যদি ও তা অনেক বছর যাবত তুলনা মুলকভাবে কমের দিকে। আর এটা সম্ভব হয়েছে স্ক্রিনিং এর জন্য। আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটি এখন ধারণা করছে যে কম
বয়সীদের ঝুঁকির পরিমাণ প্রায় বেশী বয়সীদের সমান ।
এমডি এন্ডারসনের চেং বলেন, “৪৫ বছর বয়স স্কেনিং এর জন্য খুবই আর্দশ একটি সময় এবং ক্রমাগতভাবে এর চেয়ে কম বয়সের লোকেদের ও ঝুঁিক বাড়ছে । ২০১৪ সালের একটি গবেষণাপত্রে , যেটাতে তিনি সিনিয়র লেখক ছিলেন গবেষণায় দেখিয়েছেন যে এই ধারা
চলতে থাকলে আগামি ২০৩০ এর মধ্যে ২০ থেকে ৩৪ বয়সীদের কোলন ও রেক্টাল ক্যান্সার এর পরিমাণ ৯৪ ও ১২৪ শতাংশ বেড়ে যাবে।
মেমরিয়াল ¯েøায়ান কেটারিং ক্যান্সার সেন্টারের আন্ড্রিয়া সারসেক বলেন, নতুন গাইড লাইনটি উচ্ছ ঝুঁকিতে আছে এমন বৃহৎ একটি জনগোষ্ঠীর দারুন উপকারে আসতে পারে । তিনি আরো বলেন যাদের ঘনঘন ডাইরিয়া, পেটের ব্যথা , কুষ্ঠকাঠিন্য আছে, তাদের উচিত
অবহেলা না করে তাড়াতাড়ি ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া দরকার।

যোগাযোগ :

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY