২০২১ মৌসুম দারুণ কাটবে সাকিবের

0
9

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) হঠাৎ করেই বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানায় যে অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে কথা বলবেন জাতীয় দলের প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো। পূর্বনির্ধারিত সময়ে গতকাল অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে হাজির হন এই দক্ষিণ আফ্রিকান কোচ। চলমান বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স, নিষেধাজ্ঞায় থাকা সাকিব আল হাসান, অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ক্রিকেটার, তামিম ইকবালের অধিনায়কত্ব, বায়ো-বাবল, পরবর্তী বিদেশ সফরে পেসারদের ঘিরে আশা, স্থগিত শ্রীলংকা সফর ও বর্তমান টুর্নামেন্টসহ নানা বিষয়ে কথা বলেছেন ডমিঙ্গো।

আগামী ২৯ অক্টোবর সব ধরনের ক্রিকেটে এক বছরের নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্ত হচ্ছেন সাকিব। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন তিনি। বিদেশে থাকলেও বাংলাদেশের এই বিশ্ব তারকার সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে কোচ ডমিঙ্গোর। তিনি জানান, ‘গতকাল (গত বুধবার) তার সঙ্গে কথা হয়েছে। ফিটনেস নিয়ে কঠোর পরিশ্রম করছে সে। সবাই জানি, সে এই মুহূর্তে দেশের বাইরে রয়েছে। অন্য খেলোয়াড়দের মতো নিজেকে খেলায় মানিয়ে নিতে সময় লাগবে তার। তার জন্য ধৈর্য ধরতে হবে।

এক বছর ধরে সে খেলার মধ্যে নেই। সে খেলতে মুখিয়ে আছে। বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডার সে। তাকে খুঁজে পেতে সময় দরকার। থ্রোয়ারে ছুড়ে দেওয়া বল ও মেশিনের বল মোকাবিলা এবং চাপের মধ্যে ১৪০ কিলোমিটারের বল মোকাবিলা করার মধ্যে অনেক বড় পার্থক্য রয়েছে। সে নিজেকে খুঁজে পেতে ও আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে সময়ের প্রয়োজন। আমরা জানি, সে একজন কোয়ালিটি প্লেয়ার। আমি আশা রাখছি, বাংলাদেশের জন্য ২০২১ মৌসুমটা তার দুর্দান্ত হবে।’

বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপের প্রাথমিক পর্বে রান পাননি টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরা। এ টুর্নামেন্টে তাদের পারফরম্যান্স নিয়ে চিন্তিত নন প্রধান কোচ ডমিঙ্গো। তিনি জানান, আমি খুশি। এ টুর্নামেন্টে খেলাটা দারুণ ব্যাপার। মাঠে ছেলেরা অনেক পরিশ্রম করছেন। বোলাররা দারুণ বল করছেন। কিছু রান পেলে ব্যাপারটি দারুণ হতো। ডমিঙ্গো মনে করেন, প্রত্যেকে বুঝতে পারছে যে প্রায় সাত মাস মাঠের খেলায় ছিল না। তাদের সময় দেওয়া প্রয়োজন। এ টুর্নামেন্ট খেলার আগে ভালো প্র্যাকটিস ম্যাচও হয়নি। সব ম্যাচই এখন প্রতিযোগিতামূলক। উইকেট সহজ হয়নি। এজন্য ব্যাটসম্যানদের সংগ্রাম করতে হয়েছে। বেশ কিছু তরুণ খেলোয়াড় ভালো পারফরম্যান্স করেছে। সিনিয়রদের মধ্যে মুশফিক, রিয়াদ, তামিম কিছু রান পেয়েছে। মূল কথা হচ্ছে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট খেলছেন টাইগাররা।

দীর্ঘ দিন পর প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফিরে পেসাররা নজর কাড়ছেন। গত সাত-আট মাস ধরে তরুণ ভালো মানের পেসারদের খুঁজছিলেন কোচ ডমিঙ্গো। তিনি বলেন, ‘অবশেষে আমরা একটি ভালো পেস বোলারদের গ্রুপ হিসেবে উন্নতি করেছি। যারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে। যদি তাসকিন, ফিজ (মোস্তাফিজ), আল-আমিন, হাসান মাহমুদ, খালেদ, শরিফুলদের দিকে তাকান- সেখানে ছয়-সাত জন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভালো করতে পারে। যদি ২৮০ রান হয় তা হলে আমরা বলি বোলাররা খারাপ খেলেছে। যদি একটি দল ১৮০ করে তা হলে বলি ব্যাটসম্যানরা খারাপ করেছে। আমি মনে করি, গত দুই সপ্তাহে সত্যি কিছু দারুণ বোলিং হয়েছে। এটা আমার জন্য ইতিবাচক দিক।’ অভিজ্ঞ রুবেল হোসেন বোলিংয়ে আলো ছড়িয়েছেন।

তরুণ তাসকিনও ভালো করেছেন। এ দুজনের পারফরম্যান্সে অনেক খুশি কোচ ডমিঙ্গো। বিদেশের মাটিতে প্রতিযোগিতা করতে হলে ভালো মানের পেসার দরকার। আশার আলো দেখছেন ডমিঙ্গো। অনূর্ধ্ব-১৯ দলের পেসার শরিফুলের পারফরম্যান্স দেখে মুগ্ধ তিনি। তিন লেগ স্পিনার আমিনুল বিপ্লব, আফ্রিদি ও রিশাদের প্রসঙ্গে ডমিঙ্গো জানান, রিশাদ দারুণ খেলছে। সব ম্যাচেই ভালো করেছে। তার মধ্যে প্রতিভা রয়েছে। তাদের পর্যবেক্ষণে থাকবেন রিশাদ। প্রথম ম্যাচে আঙুলের ইনজুরিতে পড়েন আফ্রিদি। ডমিঙ্গো মনে করেন, বাংলাদেশের কিছু কোয়ালিটি লেগ-স্পিন বোলার প্রয়োজন। ফিঙ্গার স্পিনার রয়েছে প্রচুর। যেমন- নাইম, তাইজুল, মিরাজ ও সাকিব আছেন। লেগ-স্পিন অপশন দরকার। সাদা বলের ক্রিকেটে লেগ স্পিনারকে বেশি পছন্দ ডমিঙ্গোর। বোলিং অ্যাকশনে পরিবর্তন এনেছেন তাইজুল ইসলাম। তার নতুন বোলিং অ্যাকশন প্রসঙ্গে ডমিঙ্গো জানান, ‘তাইজুল এখনো কিছু কাজ করছে। আমরা তার সঙ্গে কাজ করছি। এ কাজগুলোও চলমান। নাইম দারুণ বোলিং করেছে। বাবা হওয়ার পর মিরাজ ফিরে এসেছে।’

বাংলাদেশ ওয়ানডে দলের অধিনায়ক তামিম ইকবাল। বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপের প্রাথমিক পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছে তার দল তামিম একাদশ। তামিমের অধিনায়কত্ব প্রসঙ্গে ডমিঙ্গো জানান, অধিনায়কত্বের ব্যাপারে তামিমের সঙ্গে আমি আলোচনা করেছি। তার নেতৃত্বের ধরন হচ্ছে সে চায় এগিয়ে যেতে। কিছু জিনিস নিয়ে তার এখনো কাজ করা দরকার। মাত্র তিন ম্যাচ খেলেই বিচার করা যাবে না। সে কিছু বোলার ব্যবহার করেছে, সে তাদেরকে ভালো করে জানে না এবং কিছু ব্যাটারের সঙ্গে খেলেছে আগে সে খেলেনি। সে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়। খেলা ভালো বোঝে। খেলোয়াড়রা তাকে সম্মান করবে। আগামীতে দলকে দারুণ নেতৃত্ব দেবে বলে আমি আশা করছি।’ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের খেলোয়াড়দের ব্যাপারে ডমিঙ্গো জানান, তাদের উন্নতির জন্য সময় দেওয়া দরকার।

দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে বায়ো-বাবলের মধ্যে আছেন টাইগারদের প্রধান কোচ ডমিঙ্গো। তিনি জানান, ‘হোটেল ছেড়ে বেরোতে পারছি না কোথাও। তবে প্র্যাকটিস শেষে ফিরি। এটা সহজ নয়। তিন সপ্তাহ ধরে খেলোয়াড়রাও বায়ো-বাবলের মধ্যে রয়েছে। দু-একজন বলেছে, এটা কঠিন। আমরা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছি। খেলোয়াড়দের সমর্থন দেওয়া প্রয়োজন।’ বায়ো-বাবল কি খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স প্রভাব ফেলছে? ডমিঙ্গো জানান, ‘এটা সবার জন্য নতুন। আমরা মানিয়ে নিয়েছি। আমি মনে করি, পারফরম্যান্স বিবেচনায় আনতে হবে তখনই জানুয়ারিতে আবারও যখন আমরা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট শুরু করব।’

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY