হতাশার ভিড়ে উজ্জ্বল মুশফিক-মেহেদি, কী ভাবছেন প্রধান নির্বাচক?

0
7

প্রথমদিন সন্ধ্যার পর দুই তরুণ তৌহিদ হৃদয় ও ইরফান শুক্কুর জোড়া হাফসেঞ্চুরি উপহার দিয়ে একটা ভিন্ন ধারণার খোরাক জুগিয়েছেন। ঐ দুই নবীন উইলোবাজের ব্যাটিং দেখে মনেই হয়নি শেরে বাংলার উইকেটে তেমন কোন বড় সমস্যা আছে বা উইকেটই ভাল খেলা এবং রান করার পথে প্রধান অন্তরায়।

তবু গতকাল (বৃহস্পতিবার) তৃতীয় ম্যাচের প্রথম ইনিংসের একদম শেষভাগের আগপর্যন্ত রান খরায় ভুগেছে বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপ। গড়পড়তা স্কোরলাইন ছিল খুবই কম। তারকা ব্যাটসম্যানদের প্রায় সবার ব্যাটেই মন্দা। সে অর্থে তারকা ব্যাটসম্যানদের ব্যাট কথা বলছে না। দেখে মনে হয়েছে, শেরে বাংলার উইকেটে সমস্যা।

কিন্তু বৃহস্পতিবার পড়ন্ত বিকেল থেকে সন্ধ্যার পরে তরুণ শেখ মেহেদি হাসান ও নির্ভরতার প্রতীক মুশফিকুর রহীম দেখিয়ে দিলেন উইকেটের দোষ দিয়ে লাভ নেই, ভাল খেলার ইচ্ছেটই আসল। ভাল খেলতে চাইলে খেলা যায়, রানও করা যায়, ইনিংসও লম্বা করা সম্ভব। তাই তো, যে পিচে বাকিদের ব্যাটে রানখরা, সেখানে তরুণ মেহেদির ঝড়োগতির ৮২ আর মুশফিকুর রহিমের ৯৫+ স্ট্রাইকরেটের সেঞ্চুরি।

শেখ মেহেদি ৯ বাউন্ডারি ও তিন ছক্কায় ৫৭ বলে খেলেছেন ৮২ রানের ঝড়ো ইনিংস, মুশফিকুর রহীমও প্রায় বল পিছু রান তুলে অনবদ্য শতক (১০৯ বলে ৯ চার ও ১ ছয়ে ১০৩) উপহার দিয়েছেন। এমন দুটি ইনিংসের পর প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নুরও উপলব্ধি, ‘উইকেট ঠিকই ছিল। কোন সমস্যা ছিল না। পিচের দোষ দিয়ে লাভ নেই। ব্যাটসম্যানরা ভাল করতে পারেনি। সেটাই আসল ও শেষ কথা।’

প্রধান নির্বাচকের ধারণা, ‘আসলে দীর্ঘ ছয় সাত মাস একদম প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ক্রিকেট না খেলা অবশ্যই একটা বড় কারণ। পাশাপাশি জৈব সুরক্ষা বলয়ে থেকে খেলতে নেমে শতভাগ মনোযোগ-মনোসংযোগ ধরে রাখা এবং স্বাভাবিক পারফরম করা সহজ কাজ নয়। এতে ঘাটতি থাকায় আগের খেলাগুলোয় রান কম হয়েছে। টপ-মিডল অর্ডারে রান ওঠেনি একদমই।’

নান্নু মনে করেন, ‘ধীরে ধীরে পরিবেশ-পরিস্থিতির সঙ্গে ধাতস্ত হচ্ছে ক্রিকেটাররা। এ পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতেও একটু সময় প্রয়োজন। আগামী ম্যাচগুলোও দেখবেন রান তোলার হার বাড়বে। স্কোরলাইনও হবে মোটা চওড়া।’

তবে এটা ঠিক যে, এবারের প্রেসিডেন্টস কাপে সত্যিই উইকেটের অবস্থা ভাল ছিল না। শুরু থেকেই উইকেটের আচরণ ছিল রহস্যময়। পেস ও বাউন্স কোনটায়ই স্থিতি ছিল না তেমন। কোন বল একটু ভাল পেসে ব্যাটে এসেছে, আবার কোন ডেলিভারি থেমে এসেছে। এমনিতেই ছয়-সাত মাস ম্যাচ খেলার বাইরে, তার ওপর ‘ডাবল পেসড’ উইকেট; এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে স্বাভাবিক ব্যাটিং আসলে সহজও ছিল না

বেশিরভাগ ব্যাটসম্যানই ঐ প্রতিকূলতা ও অনভ্যস্ততাকে জয় করতে পারেননি। বৃহস্পতিবার উইকেটের আচরণ একটু ভাল থাকায় শেখ মেহেদি ও মুশফিকুর রহীম নিজেদের মেলে ধরতে পেরেছেন। সামনের খেলাগুলোয় পিচ ভাল থাকলে হয়তো বাকিরাও রান পাবেন। এতে স্কোরলাইন বড় হবে, আকর্ষণ-প্রতিদ্বন্দ্বিতাও বৃদ্ধি পাবে।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY