বড় ভাই মাশরাফিকে হারিয়ে উৎফুল্ল মিরাজ

0
50

কেবল বয়সভিত্তিক দলে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা মেহেদী হাসান মিরাজের। এবার তার কাঁধে পুরো রাজশাহী কিংস। বিপিএলে এই প্রথমবার নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা খারাপ যাচ্ছে না বাংলাদেশি অলরাউন্ডারের। অভিজ্ঞ অধিনায়ক এবং বাংলাদেশ দলের সবচেয়ে সিনিয়র ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মর্তুজার বিপক্ষে প্রথম দেখায়ই জয় তুলে নিয়েছেন মিরাজ।

মাশরাফির রংপুরের বিপক্ষে ম্যাচ জিততে পেরে অনেক বেশি উচ্ছ্বসিত রাজশাহীর অধিনায়ক মিরাজ। সম্পূর্ণ তারুণ্য নির্ভর দল নিয়ে অভিজ্ঞ ক্রিকেটারে ঠাসা দল রংপুরকে হারানো মিরাজের কাছে অনেক বড় অর্জন। শেষ ওভারের রোমাঞ্চকর ম্যাচে পাঁচ রানের জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছিল রাজশাহী কিংস। এ ম্যাচে দুর্দান্ত অধিনায়কত্ব করায় সকলের প্রশংসাও কুড়িয়েছেন বিপিএলের সবচেয়ে তরুণ কপ্তান মিরাজ।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে বড় ভাই মাশরাফিকে হারানোর অনুভুতি প্রকাশ করতে দিয়ে মিরাজ বলেন, ‘ভালো লাগারই কথা। বড় ভাই আমাদের মাশরাফি ভাই আমরা জানি। রংপুর চ্যাম্পিয়ন দল। ওদের হারাতে পেরে দলের সবার ভালো লাগে। অন্যরকম অনুভূতি কাজ করে।

‘আর ভালো দলকে হারাতে পারলে ভালোই লাগে। আমাদের দলে সবাই তরুণ। তরুণেরা ভালো করতে পারলে জেতা সহজ হয়ে যাবে। বড় ভাইদের সঙ্গে খেললাম ভালোই লাগল। খেলা শেষে দেখেন মাশরাফি ভাইরা হেরে গেছে সবাই সমর্থন দিয়েছে যে আমরা ভালো করেছি। খেলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলে খেলা শেষে আমরা-আমরাই। সবার সঙ্গে দেখা-কথা হয়।’

মাশরাফির বিপক্ষে প্রথম অধিনায়কত্ব ভয়ের বদলে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে মিরাজকে। গতবারের চ্যাম্পিয়নদের মনে প্রাণে হারাতে চেয়েছে রাজশাহী এবং সেই স্পৃহাই তাঁদের ভেতরের বিশ্বাস বাড়িয়ে দিয়েছে।

মিরাজের ভাষায়, ‘কখনো ভয় লাগিনি। দিনশেষে এটা একটা খেলা। যারা ভালো খেলবে তারা জিতবে। অবশ্যই রংপুর ভালো দল। অনেক অভিজ্ঞ মাশরাফি ভাই। অনেকবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন বিপিএল ও অন্যান্য টুর্নামেন্ট। যারা আমরা জুনিয়র আছি বিশ্বাস ছিল যে ঘুরে দাঁড়াতে করতে পারব। জিততে পারবে। এই আত্মবিশ্বাস দিয়েই আমরা জিতেছি। রান কিন্তু বেশি হয়নি আমাদের। ১৩৬ লক্ষ্য। আমাদের বিশ্বাস ছিল যে আমরা জিততে পারব, ঘুরে দাঁড়াতে পারব। এ কারণেই জিতেছি।’

পরাজিত অধিনায়ক হিসেবে সংবাদ সম্মেলনে মাশরাফিই আগে যান। রংপুর রাইডার্স অধিনায়ক মিরাজের অধিনায়কত্ব নিয়ে তিনি বললেন, ‘অবশ্যই ওর জন্য অনেক ভালো। ও এখান থেকে যতটুকু শিখবে আন্তর্জাতিক ম্যাচে সেটা কাজে দেবে। শুধু আন্তর্জাতিক ম্যাচে অধিনায়কত্বের জন্য না, এখান থেকে যেন সে নেতৃত্বটা নিতে পারে। এটা যত তাড়াতাড়ি নিতে পারে তত ভালো। ওর জন্য অবশ্যই এটা অনেক ভালো যে এসব ম্যাচে অধিনায়কত্ব করছে।’

পাশাপাশি মাশরাফি নিজে ম্যাচ হারের আরেকটা সুবিধাজনক দিক দেখছেন।

ঘুরে দাঁড়ানো কতটা কঠিন, সেটাও মাশরাফি মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, ‘অবশ্যই কঠিন। বিশেষ করে টানা দুটি ম্যাচ এভাবে (জিততে জিততে হেরে গেলে) হারলে তো আরও কঠিন। দুটো ম্যাচই আমাদের জেতা উচিত ছিল। পরপর এভাবে হারলে ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হয়ে যায়। আসলে এখান থেকে বের হওয়ার শর্টকাট কোনো উপায় নেই। সামনের ম্যাচে অবশ্যই কঠোর পরিশ্রম আর নিজেদের উজাড় করে দিয়ে চেষ্টা করতে হবে। কিছুই সহজ নয়, তবে একটা জয় হয়তোবা দলের ছন্দ বদলে করে দিতে পারে। গত আসরেও আমরা ছয় ম্যাচের তিনটা জিতেছিলাম। যদি পরের ম্যাচটা জিতি, এবার আমাদের ছয় ম্যাচের তিনটায় জয় হবে। আসলে টি-টোয়েন্টিতে আমরা ছন্দটা ধরতে পারছি না। বিশেষ করে খুবই প্রয়োজনীয় মুহূর্তে।’

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY