‘বাংলাদেশি’ মেয়ের সোনা জয়

0
133

হিটে প্রথম হয়েই সোনা জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন মার্গারিটা মামুন। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রাশিয়ান এই তরুণীই শেষ পর্যন্ত জিতে নিলেন রিদমিক জিমন্যাস্টিকসে ব্যক্তিগত অল-অ্যারাউন্ড ইভেন্টের সোনা।

এই ইভেন্টে চারটি রুটিন। বল, হুপ, রিবন ও ক্লাব অ্যাপারাটাস ব্যবহার করতে হয়। রিও অলিম্পিকের পঞ্চদশ দিন শনিবার তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্বদেশী ইয়ানা কুদ্রিয়াভসেভাকে পেছনে ফেলে সর্বমোট ৭৬.৪৮৩ স্কোর করে সোনা জিতেছেন মার্গারিটা। কুদ্রিয়াভসেভা ৭৫.৬০৮ স্কোর করে জিতেছেন রুপা। ব্রোঞ্জ জেতা ইউক্রেনের গানা রিজাতদিনোভার স্কোর ৭৩.৫৮৩।

২০ বছর বয়সি মার্গারিটা বাবার সূত্রে বাংলাদেশি। তার বাবা রাজশাহীর ছেলে আবদুল্লাহ আল মামুন পেশায় একজন প্রকৌশলী। ১৯৮৩ সালে শিক্ষাবৃত্তি নিয়ে রাশিয়া (তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন) যাওয়ার পর সেখানেই বিয়ে করে স্থায়ী হন। মার্গারিটার মা আনা রাশিয়ার প্রাক্তন রিদমিক জিমন্যাস্ট। মার্গারিটার জন্মও রাশিয়াতেই। তবে জুনিয়র লেভেলে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন বাংলাদেশের হয়ে। সিনিয়র লেভেলে ফিরে যান রাশিয়ায়।

২০১১ সালে জিমন্যাস্টিকসের দুনিয়ায় পরিচিত নাম হয়ে ওঠা মার্গারিটার অন্যান্য অর্জনও কম নয়। সে বছরই মন্ট্রিল বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে বল ফাইনালে ২৭.০২৫ পয়েন্ট নিয়ে জিতে নেন সোনার পদক। একই আসরের অল-অ্যারাউন্ডে ১০৬.৯২৫ পয়েন্ট নিয়ে জেতেন ব্রোঞ্জ। একই বছর রাশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে হুপ আর বলে অল-অ্যারাউন্ড চ্যাম্পিয়ন হয়ে ডাক পান জাতীয় দলে। এই টুর্নামেন্টে পরের দু’বছরও অল-অ্যারাউন্ড চ্যাম্পিয়ন তিনি।

রিদমিক জিমন্যাস্টিকসে বিশ্ব রেকর্ডটাও মার্গারিটার দখলে। ২০১৬ বাকু বিশ্বকাপে চারটি ইভেন্টে মোট ৭৭.১৫০ স্কোর করে গড়েন এই রেকর্ড। আর এবার অলিম্পিকে জিতলেন সোনা। ‘বাংলার বাঘিনী’ নামে পরিচিত মার্গারিটার এই সাফল্যে খানিকটা গর্বিত হলো বাংলাদেশও।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY