খেলোয়াড়ি অধ্যায় ‘শেষ’, পাকিস্তান ক্রিকেটে নতুন দায়িত্বে বাট

0
11

‘আমি বুঝতে পারছি পাকিস্তানে (খেলোয়াড় হিসেবে) আমার ভবিষ্যত নেই’- সোজাসাপ্টা মন্তব্য পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক সালমান বাটের। যিনি বুঝতে পেরেছেন নিজ দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা এখন আর সম্ভব নয় তার। তাই এটিকে নিয়তি হিসেবে মেনে নতুন দায়িত্বে পথচলা শুরু করছেন ৩৬ বছর বয়সী এ বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।

জাতীয় দলে টেস্ট ফরম্যাটে সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে আজ (রোববার) থেকে শুরু হওয়া কায়েদ-এ-আজম ট্রফি থেকে নিজের নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন বাট। এ কারণে তাকে এ টুর্নামেন্টে ধারাভাষ্যকারের দায়িত্ব পালনের প্রস্তাব দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।

আগামী ২০ নভেম্বর থেকে শুরু হবে কায়েদ-এ-আজম ট্রফির চতুর্থ রাউন্ড। সেই পর্ব থেকে ধারাভাষ্য দেয়া শুরু করবেন বাট। ধারাভাষ্যকার হিসেবে নতুন দায়িত্বে পথচলা শুরু করলেও, এ সময়টায় নিজেকে সীমিত ওভারের ক্রিকেটের জন্য এভেইলেবল রেখেছেন স্পট ফিক্সিংয়ের দায়ে ৫ বছরের নিষেধাজ্ঞা কাটানো এ ক্রিকেটার।

ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোকে বাট বলেছেন, ‘‘আমি বুঝতে পারছি পাকিস্তানে (খেলোয়াড় হিসেবে) আমার ভবিষ্যত নেই। ক্রিকেটে ফেরার পর থেকে আমি পূর্ণ ডেডিকেশন দিয়ে খেলেছি এবং অনেক রানও করেছি। জাতীয় দলে ফেরার তীব্র আকাঙ্ক্ষা থেকেই আমি ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো করার জন্য বদ্ধ পরিকর ছিলাম।’

‘এ বছর আমি নিজেকে প্রশ্ন করলাম, আমি কী করছি? আমি যদি আরেক মৌসুম খেলি, সেটার উদ্দেশ্য কী হবে? এ বিষয়ে আমি গভীরভাবে চিন্তা করেছি এবং বাস্তবিকভাবে বুঝতে পেরেছি যে তারা (নির্বাচক) আর আমাকে দলে নেবে না। তাই আমার এমন কিছু করা উচিত যেখানে আমি কিছু অবদান রাখতে পারব।’

ক্রিকেট ছেড়ে থাকার সিদ্ধান্ত নেয়া সহজ ছিল না বাটের জন্য। তবু বৃহত্তর স্বার্থেই মূলত নতুন পথ বেছে নিয়েছেন তিনি, ‘খেলাটি ছেড়ে সহজ কাজ নয় এবং কেউই এটার জন্য ঠিক প্রস্তুত থাকে না। তবু এটাও সত্যি যে, আমি আজীবন ক্রিকেট খেলতে যেতে পারব না। আমি সবসময় ভেবেছি যে, ড্রেসিংরুমে যেদিন বোঝা হয়ে উঠব, তার আগেই খেলা ছেড়ে দেবো।’

বাট আরও যোগ করেন, ‘সবকিছুতেই একটা সময় আসে, যখন আপনার ইতি টানতে হয় এবং নতুন কাউকে জায়গাটা ছেড়ে দিতে হয়। আমি নাদিম খানের (পিসিবির এইচপি ডিরেক্টর) সঙ্গে ক্যারিয়ার নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করেছি এবং সে কিছু দারুণ উপদেশ দিয়েছে। তাই আমি কায়েদ-এ-আজম ট্রফি থেকে নাম সরিয়ে ধারাভাষ্যকারের দায়িত্ব লুফে নিয়েছি।’

২০১০ সালে লর্ডস টেস্টে স্পট ফিক্সিংয়ের মূল হোতা হিসেবে পাঁচ বছরের নিষেধাজ্ঞা ভোগ করেছেন বাট। পরে ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ফিরেছেন পাকিস্তানের ক্রিকেটে। ন্যাশনাল ওয়ানডে কাপে ফেরার ম্যাচেই সেঞ্চুরি করেছিলেন বাট, সে টুর্নামেন্টে ১০৭.২০ গড়ে ৫৩৬ রান নিয়ে তিনি ছিলেন দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক।

এরপর কায়েদ-এ-আজম ট্রফিতে ওয়াটার এন্ড পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট অথরিটির হয়ে প্রথম শ্রেণির দলকে নেতৃত্ব দেন বাট এবং জেতান শিরোপা। সেই আসরের ফাইনালে হাঁকান জোড়া সেঞ্চুরি, পুরো টুর্নামেন্টে ৪৯.৪০ গড়ে করেন ৭৪১ রান। পরে ২০১৮ সালের ন্যাশনাল টি-টোয়েন্টি কাপে ৭০ গড়ে ৩৫০ রান নিয়ে তিনি আবারও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন।

সাজা ভোগ করে ফেরার পর থেকে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে লাহোর হোয়াইটসের হয়ে ৫১.২৮ গড়ে রান করে চলেছেন বাট। এছাড়া লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে ৫০.৪৮ গড়ে ২৩৭৩ রান নিয়ে তিনি পঞ্চম সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। তবু একবারের জন্যও জাতীয় দলের ডাক পাননি সালমান বাট।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY