আবারও ইনিংস ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ

0
32


হাতে থাকা উইকেট নিয়ে পুরো দিন ব্যাট করার পণ ছিল বাংলাদেশের, অথচ টিকতে পারল না এক সেশনও। নিউজিল্যান্ড সফরে প্রথম টেস্ট ইনিংস ও ৫২ রানে হেরেছিল টাইগাররা। সেই ম্যাচ তাও চারদিন পর্যন্ত গড়িয়েছিল। এবার আরও করুন দশা। বৃষ্টিতে তিন দিনের ম্যাচে পরিণত হওয়া ওয়েলিংটন টেস্টেও ইনিংস ব্যবধানে হারতে হলো বাংলাদেশকে।

মঙ্গলবার (১২ মার্চ) ওয়েলিংটনের বেসিন রিজার্ভে আর বৃষ্টির পূর্বাভাস ছিল না। কিন্তু বাংলাদেশের ইনিংসে বইল যেন ঝড়। আবারও নিল ওয়েগনার তোপ দাগলেন শর্ট বলে, ট্রেন্ট বোল্ট ছোবল আনলেন স্যুয়িং, পেসে। বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস শেষ ২০৯ রানেই। হার ইনিংস ও ১২ রানের।

আগের দিনের ৩ উইকেটে ৮০ রান নিয়ে পঞ্চম ও শেষ দিনে খেলতে নামে বাংলাদেশ। দিনের শুরুটা ছিল আশা জাগানিয়া। চতুর্থ দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান সৌম্য সরকার ও মোহাম্মদ মিঠুন নির্বিঘ্নে প্রথম ৪০ মিনিট কাটিয়ে দেন। দুজনে কয়েকটি দুর্দান্ত শটও খেলে। এরপরই হোঁচট খায় টাইগাররা।

ট্রেন্ট বোল্টের বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ব্যক্তিগত ২৮ রানে ফেরেন সৌম্য। এতে ঘটে ৫৭ রানের জুটির সমাপ্তি। পরে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে নিয়ে খেলা ধরেন মিঠুন। বেশ বোঝাপড়া গড়ে ওঠে তাদের মধ্যে। ধীরে ধীরে এগিয়ে যান তারা। তাতে ড্রর আশার সঞ্চারও হয়। তবে হঠাৎই খেই হারান মিঠুন। ব্যক্তিগত ৪৭ রানে নিল ওয়েগনারকে উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসেন তিনি। তার পরই পথ হারায় বাংলাদেশ। একে যাওয়া-আসার মিছিলে যোগ দেন ব্যাটসম্যানরা।

সমস্যা সেই চিরচেনা শর্ট বলে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান ওয়েগনার ও বোল্ট। পরে আস্থার প্রতিদান দিতে পারেননি লিটন দাস। তার আউট ছিল আরও দৃষ্টিকটু। ওয়েগনারের শর্ট বলে পুল করতে গিয়ে বোল্টকে ক্যাচ দিয়ে আসেন তিনি। দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যাটিংয়ের প্রদর্শনী চলতেই থাকে।

এরপর ছিল কেবল শেষের অপেক্ষা। ওয়েগনারের আরেকটি শর্ট বলে টম লাথামকে ক্যাচ তুলে দেন তাইজুল ইসলাম। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে নেমে চাবুকের মতো ব্যাট চালাতে থাকেন মোস্তাফিজুর রহমান। মারেন দুটি ছক্কা, অক্কাও পান দ্রুত। বোল্টের বলে সোজা বোল্ড হয়ে ফেরেন তিনি।

সতীর্থরা নিয়মিত এলে-গেলেও ক্রিজ আঁকড়ে ছিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। তবে হতাশার মাঝে চরম নিরাশ হন তিনি। একের পর এক সঙ্গী হারানোর পর বাধ্য হন আগ্রাসনের পথ বেছে নিতে। সাজান স্ট্রোকের পসরা। তবে থেমে যেতে হয় তাকেও। সেই ওয়েগনারকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে বোল্টকে ক্যাচ দিয়ে ফেরত আসেন তিনি। সাজঘরের পথ ধরার আগে ১২ চার ও ১ ছক্কায় ৬৯ বলে ৬৭ রানের লড়াকু ইনিংস খেলেন অধিনায়ক। বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে এটিই একমাত্র ফিফটি।

এদিকে মাহমুদউল্লাহর বিদায়ে গুটিয়ে যাওয়াটা সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায় সফরকারীদের। দ্রুত সেই কাজ সারেন ওয়েগনার। এবাদত হোসেনকে সরাসরি বোল্ড করে শেষ পেরেকটি ঠুকেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ২০৯ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। একাই ৫ উইকেট নিয়ে প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে দেন ওয়েগনার। ৪ উইকেট শিকারে তাকে যোগ্য সহযোদ্ধার সমর্থন জোগান বোল্ট। ডাবল সেঞ্চুরি করে ম্যাচসেরা হয়েছেন রস টেইলর।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY