শীতেও ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ

0
13

দৌলতখান উপজেলার মেঘনায় গত কয়েক দিন ধরে ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ। শীত মৌসুমে হঠাৎ জালে এত ইলিশ ধরা পড়ায় জেলেরাও অবাক। এতে এ অঞ্চলের বড় বড় মৎস্য আড়তে ইলিশ বেচাকেনার ধুম পড়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নদীতে পর্যাপ্ত ইলিশ ধরা পড়ায় মূল্যও কমেছে। ইলিশের দাম কম হওয়ায় কিনছেন ক্রেতারাও। তবে ব্যাপারীদের মাছ কেনার উৎসাহ ছিল এবার চোখে পড়ার মতো। ক্রয় করা ইলিশ ককশিটে বরফ দিয়ে প্যাকেটজাত করছেন শ্রমিকরা। প্রতিটি আড়ত ঘরের সামনে ককশিটের প্যাকেট স্তুপ করে রাখা হয়েছে।

মৎস্য ঘাটে গিয়ে জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ২০ থেকে ২৫ দিন থেকে মেঘনা নদীতে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে। বেশিরভাগ ইলিশের ওজন প্রায় এক কেজি। শীত মৌসুমে দৌলতখানের মেঘনা নদীতে এত ইলিশ ধরা পড়ার নজির আর নেই।

দৌলতখান বড় মৎস্য ঘাটের আড়তদার মিরাজ ব্যাপারী জানান, ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মা মাছ ধরা বন্ধ থাকায় সাগর ও নদীতে মাছের উৎপাদন বেড়েছে। ফলে শীত মৌসুমেও জেলেদের জালে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ছে। বর্ষার মতো শীতে ইলিশের বেশি চাহিদা থাকে না। তাই চাহিদার তুলনায় ইলিশ আমদানি বেশি হওয়ায় পাইকারি ও খুচরা বাজারে দাম কমেছে।

এই বিক্রেতা আরও জানান, এক কেজি ওজনের ইলিশের মণ বিক্রি হচ্ছে ৩২ হাজার টাকায়। সে হিসেবে প্রতি কেজির দাম পড়ছে ৮০০ টাকা। রপ্তানিযোগ্য এলসি আকারের (৭০০ থেকে ৯০০ গ্রাম) প্রতি মণ ২৬ হাজার টাকা। সে হিসেবে প্রতি কেজি ইলিশের পাইকারি দাম পড়েছে ৬৫০ টাকা। ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের মণ বিক্রি হয়েছে ২০ হাজার টাকায়। সে হিসেবে প্রতি কেজি ইলিশের পাইকারি দাম পড়েছে ৫০০ টাকা। আর পাইকারি দাম পড়েছে ৩০০ টাকা।

দৌলতখানের বিভিন্ন মাছ বাজারে ইলিশের ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁকডাকে এখন সরগরম। এ বিষয়ে কথা হয় উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহফুজুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, শীতের মৌসুমেও এই অঞ্চলে ইলিশ ধরার বিষয়টি চোখে পড়ার মতো। সরকার যে পরিকল্পনা নিয়ে মৎস উৎপাদনে নিরলসভাবে কাজ করছে, তারই সুফল এটা।

মাহফুজুল ইসলাম বলেন, ‘এখনো আমরা নদীতে ইলিশ প্রজনন বৃদ্ধির লক্ষে অবৈধ খুটাজাল, বিন্দিজালসহ সকল অবৈধ জ্বাল ও অবৈধ মৎস শিকারিদের স্বমূলে বিনাশ করার লক্ষ্যে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। আশা করি, আগামীতে দৌলতখানকে ইলিশের অভয়আরোণ্য হিসেবে গড়ে তুলতে পারব।’

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY