বঙ্গবন্ধুর বারতা নিয়ে ১৬ বছর ধরে হাঁটছি

0
32

রোগ্ন- শোগ্ন চেয়ারার শফিক মিয়ার বয়স পঞ্চাশ পেরিয়েছে। বাড়ী হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার গায়েনগঞ্জ ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চল পাড়াগাও গ্রামে হলেও গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জের অলিতে গলিতে তার বিচরণ। অভাব অনটনের সংসার থাকলেও দেশের প্রতি রয়েছে তার অঘাত ভালবাসা। আর সেই ভালবাসা থেকেই তিনি বিগত ১৬টি বছর ধরে জাতীয় পতাকা বিক্রি করে সংসার পরিচালনা করছে।

দারিদ্রতার কারণে তিনি বিয়ের ব্যাপারে ছিলেন অমনোযুগী। কিন্তু তারপরও বৃদ্ধ বাবা নয়ানুল্লাহর চাপে অবশেষে বিয়ে করেন। এখন তার সংসারে দুই ছেলে। বড় ছেলে মোখলেস (২৪) একটি গার্মেন্টসে চাকুরী করে তাকে সংসার চালাতে সহযোগীতা করছে। আর ছোট ছেলে মমিনুল (৭) পড়ছে প্রাথমিকে। দারিদ্রতার কারণে শফিক বেশি দূর লেখাপড়া করতে পারেননি। তবে ইচ্ছা আছে ছোট ছেলে মমিনুলকে উচ্চ শিক্ষিত করার।

শফিকের কাছে আছে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার বিভিন্ন সাইজের পতাকা। আর সাইজ বেধে বিক্রিও করছেন বিভিন্ন দরে। শুধু জাতীয় পতাকা নয়। তার কাছে আছে জাতীয় পতাকা সম্বলিত মাথায় বাধার বেল্ড, আছে বেসলাইট, ছোট হাতের জাতীয় পতাকা, কাগজের পতাকা, গালে ও কপালে পড়ার স্টিকার। আছে জাতীয় পতাকা সম্বলিত রাবার বেল্ডও। তবে তার কাছে যাই আছে তা বাংলাদেশের পতাকার লাল-সবুজের রং কেন্দ্রীক। অন্যান্য ভ্রাম্যমান হকারদের কাছে লাল-সবুজের রং ছাড়া অন্য দেশের পতাকা বা অন্যান্য সামগ্রী পাওয়া গেলেও শফিক অন্যদের চেয়ে একেবারেই আলাদা।

এ ব্যপারে শফিক মিয়া বলেন, বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের জন্যই সাড়ে সাত কোটি মানুষকে একসাথে করে ছিলেন। ডাক দিয়ে ছিলেন স্বাধীনতার যুদ্ধের। জাতীর পিতার প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই আমি অন্য কোন দেশের সামগ্রী বিক্রি করিনা। সারা বছর এ ব্যবসা খুব একটা ভাল থাকে না। তাই আমিও খুব একটা ভাল থাকি না। তবে ব্যবসার চেয়ে বেশি ভাল লাগে যখন দেখি ছোট ছোট কোমলমতি শিশুরা বাংলাদেশর পতাকার রং এ রঞ্জিত লাল-সবুজ কেন্দ্রীক সামগ্রী ক্রয় করছে।

শফিক মিয়া আরো বলেন, আমি তখন অনেক ছোট, তাই মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে পারিনি। কিন্তু যখন কাধে করে একগুচ্ছ জাতীয় পতাকা নিয়ে গ্রামের অলি-গলি মেঠো পথ ধরে হাটি, মনে হয় আমি যেন বঙ্গবন্ধুর মুক্তির বারতা নিয়ে হাঁটছি। আর মনে মনে গেয়ে উঠছি ‘‘ যদি রাত পোহালে শোনা যেত, বঙ্গবন্ধু মরে নাই। যদি রাজপথে আবার মিছিল হতো বঙ্গবন্ধুর মুক্তি চাই, মুক্তি চাই, মুক্তি চাই। তবে বিশ্ব পেতো এক মহান নেতা, আমরা পেতাম ফিরে জাতির পিতা’’।

NO COMMENTS

LEAVE A REPLY